জরিমানা করার পরই ইউরোপীয় কমিশনের বিজ্ঞাপনী প্রচার বন্ধ করল ইলন মাস্কের এক্স ব্লু টিক ব্যাজ ইস্যুতে ইউরোপীয় কমিশনের পক্ষ থেকে ১২০ মিলিয়ন ইউরো জরিমানার পরপরই ইউরোপীয় কমিশনের বিজ্ঞাপন প্রচার বন্ধ করে দিয়েছে ইলন মাস্কের মালিকানাধীন সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম এক্স (সাবেক টুইটার)।
এক্স প্ল্যাটফর্মের এই পদক্ষেপের বিষয়ে উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা নিকিতা বিয়ার অভিযোগ করেছেন যে, ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) নিয়ন্ত্রক সংস্থাটি তাদের বিজ্ঞাপন প্রচার পদ্ধতিতে বিদ্যমান একটি ‘ত্রুটির সুযোগ’ নেওয়ার চেষ্টা করেছে। শুক্রবারের জরিমানা সম্পর্কিত পোস্ট প্রচারের জন্য এই চেষ্টা করা হয়েছিল বলে তিনি দাবি করেন।
বিয়ার সরাসরি জানান, ‘মনে হচ্ছে আপনারা (ইউরোপীয় কমিশন) বিশ্বাস করেন যে বিজ্ঞাপন প্রচারের নিয়মগুলো আপনাদের অ্যাকাউন্টের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য নয়। আপনাদের বিজ্ঞাপন অ্যাকাউন্টটি বাতিল করা হয়েছে।’
এর জবাবে ইউরোপীয় কমিশনের একজন মুখপাত্র বিবিসি নিউজকে বলেছেন যে, কমিশন ‘সবসময় সৎ উদ্দেশ্য নিয়েই সকল সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম ব্যবহার করে থাকে।’
উল্লেখ্য, ইউরোপীয় ইউনিয়নের ডিজিটাল সেবা আইনের (ডিজিটাল সার্ভিসেস অ্যাক্টের) অধীনে এক্স প্ল্যাটফর্মের ওপর আরোপিত এটি প্রথম শাস্তিমূলক ব্যবস্থা।
ইইউ নিয়ন্ত্রক সংস্থাটি জানিয়েছে, এক্স প্ল্যাটফর্মের ব্লু টিক ব্যবস্থাটি ‘প্রতারণামূলক’, কারণ প্রতিষ্ঠানটি ‘সত্যিকার অর্থে ব্যবহারকারীদের যাচাই করছে না।’
সাধারণ ব্যবহারকারীদের কাছে ব্লু টিক থাকা অ্যাকাউন্টগুলো বিশ্বাসযোগ্য বলে বিবেচিত হওয়ায়, এই প্রতারণা ব্যবহারকারীদের ছদ্মবেশে জালিয়াতি এবং প্রতারক চক্রের কারসাজির শিকার হওয়ার ঝুঁকিতে ফেলছে। সংস্থাটি আরও দাবি করেছে যে, এক্স প্ল্যাটফর্ম তাদের বিজ্ঞাপনগুলোর ক্ষেত্রে স্বচ্ছতার প্রমাণ দিতে ব্যর্থ হয়েছে এবং গবেষকদেরকে পাবলিক ডেটা অ্যাক্সেসের সুযোগ দিচ্ছে না। ব্লু টিকমার্ক সম্পর্কিত বিভিন্ন প্রশ্নের জবাব দিতে এক্সকে ৬০ দিনের সময় বেঁধে দিয়েছে কমিশন, অন্যথায় আরও বড় শাস্তির সম্মুখীন হতে হবে।
এদিকে, ১২০ মিলিয়ন ইউরো জরিমানা ঘোষণার পর ইলন মাস্ক এক্স প্ল্যাটফর্মে পোস্ট করে বলেন, ‘ইইউ বিলুপ্ত হওয়া উচিত’। এছাড়া ইইউ’র কার্যকলাপ ও আচরণকে ফ্যাসিবাদের সাথে তুলনা করা হয়েছে এমন একটি পোস্ট রিটুইটও করেছেন মাক্স। এক্স প্ল্যাটফর্মকে জরিমানা প্রসঙ্গে কড়া প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে আমেরিকার ফেডারেল কমিউনিকেশনস কমিশন (এফসিসি) এবং মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও।
তাদের অভিযোগ, ইইউ নিয়ন্ত্রক সংস্থাটি মার্কিন প্রতিষ্ঠানগুলোর ওপর আক্রমণ চালিয়ে যাচ্ছে এবং সেন্সর করছে এবং এরই সাথে বলা হয়েছে যে, ‘অনলাইনে আমেরিকানদের সেন্সর করার দিন শেষ হয়ে এসেছে।’
আরটিভি/এএইচ





