প্রযুক্তির জগতে বৈপ্লবিক পরিবর্তন আসছে

আরটিভি নিউজ ডেস্ক

বুধবার, ৩১ ডিসেম্বর ২০২৫ , ০৭:২৫ পিএম


প্রযুক্তির জগতে বৈপ্লবিক পরিবর্তন আসছে
প্রতীকী ছবি

নতুন বছর ২০২৬ প্রযুক্তির জগতে এক বৈপ্লবিক পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিচ্ছে। বিশ্বের শীর্ষ প্রযুক্তিবিদ ও বিখ্যাত ম্যাগাজিনগুলোর বিশ্লেষণ অনুযায়ী, আগামী বছর জেনারেটিভ এআই, ডিজিটাল টুইন এবং হাইপার অটোমেশনের মতো প্রযুক্তিগুলো আমাদের দৈনন্দিন ও কর্মজীবনের অবিচ্ছেদ্য অংশ হয়ে উঠবে।

বিজ্ঞাপন

বিশেষ করে কর্মক্ষেত্রে জেনারেটিভ এআই এখন আর কেবল চ্যাটবট বা ছবি তৈরির মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকবে না, বরং এটি একটি পূর্ণাঙ্গ প্ল্যাটফর্মে রূপ নিতে যাচ্ছে। এর ফলে রিপোর্ট লেখা থেকে শুরু করে ডেটা বিশ্লেষণ ও কোড তৈরির মতো জটিল কাজগুলোতে এআই সরাসরি মানুষের সহকারী হিসেবে কাজ করবে।

এমনকি ওপেনএআই-এর মতো প্রতিষ্ঠানগুলো এআই-প্রস্তুত কর্মী বাহিনী তৈরির লক্ষ্যে বিশেষ সার্টিফিকেশন ও দক্ষতা উন্নয়ন প্ল্যাটফর্ম চালু করার পরিকল্পনা করছে।

বিজ্ঞাপন

একইভাবে ২০২৬ সালে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠবে ডিজিটাল টুইন প্রযুক্তি। কোনো বাস্তব বস্তু বা সিস্টেমের হুবহু ভার্চুয়াল কপি তৈরির এই পদ্ধতিটি কারখানা, ভবন বা বিমানের রিয়েল-টাইম ডেটা বিশ্লেষণ করে সম্ভাব্য ঝুঁকি ও কাজের গতি সম্পর্কে আগাম ধারণা দিতে সক্ষম হবে।

এটি মূলত শিল্প খাতের জন্য একটি ইন্ডাস্ট্রিয়াল কো-পাইলট হিসেবে কাজ করবে, যা উৎপাদন ও অবকাঠামো খাতকে আরও দক্ষ ও নিরাপদ করে তুলবে। এর পাশাপাশি হাইপার অটোমেশন প্রযুক্তির ব্যবহারও ব্যাপকভাবে বৃদ্ধি পাবে।

বিজ্ঞাপন

রোবোটিক প্রসেস অটোমেশন ও এআই এজেন্টদের সমন্বয়ে গঠিত এই প্রযুক্তির লক্ষ্য হলো মানুষের হস্তক্ষেপ ছাড়াই পুরো প্রক্রিয়াকে স্বয়ংক্রিয় করা। এর মাধ্যমে প্রতিষ্ঠানগুলো তাদের সরবরাহ ব্যবস্থা ও গ্রাহক সেবায় প্রায় ৩০ শতাংশ পর্যন্ত খরচ কমিয়ে আনতে সক্ষম হবে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।

আরও পড়ুন

প্রযুক্তিগত এই অগ্রগতির মিছিলে ২০২৬ সালে বিশেষ নজর কাড়বে ডোমেন-স্পেসিফিক ল্যাঙ্গুয়েজ মডেল বা ডিএসএলএম। সাধারণ ল্যাঙ্গুয়েজ মডেলের সীমাবদ্ধতা কাটিয়ে এই মডেলগুলো স্বাস্থ্য, আইন কিংবা ব্যাংকিংয়ের মতো নির্দিষ্ট খাতের তথ্যের ওপর ভিত্তি করে কাজ করবে, যা সাধারণ এআই-এর তুলনায় অনেক বেশি নির্ভরযোগ্য ও নির্ভুল ফলাফল দেবে।

উদাহরণস্বরূপ, স্বাস্থ্য খাতের জন্য বিশেষভাবে তৈরি একটি ডিএসএলএম সাধারণ এআই-এর চেয়ে চিকিৎসাসংক্রান্ত তথ্যে অনেক বেশি পারদর্শী হবে।

অন্যদিকে, ক্রমবর্ধমান ডিজিটাল অগ্রগতির সাথে তাল মিলিয়ে সাইবার নিরাপত্তায় সবচেয়ে আলোচিত বিষয় হবে জিরো ট্রাস্ট আর্কিটেকচার। ‘কাউকে বিশ্বাস না করে যাচাই করা’—এই মূলমন্ত্রে পরিচালিত এই নিরাপত্তা মডেলে প্রতিটি অ্যাকসেস অনুরোধ আলাদাভাবে পরীক্ষা করা হবে।

২০২৬ সালের মধ্যে প্রায় ৬০ শতাংশ প্রতিষ্ঠান এই মডেলটি গ্রহণ করবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

সামগ্রিকভাবে, ২০২৬ সাল হবে প্রযুক্তির আরও পরিণত ও ব্যবহারিক রূপের বছর, যা মানুষের জীবনকে আরও সহজ ও নিরাপদ করে তুলবে।

আরটিভি/এএইচ

আরটিভি খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

logo_appslogo_apps
বিজ্ঞাপন

Loading...

আরও পড়ুন

© All Rights Reserved 2016-2026 | RTV Online | It is illegal to use contents, pictures, and videos of this website without authority's permission