দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে আবারও তীব্র বজ্রপাতসহ ভারী বৃষ্টির সতর্কতা দেওয়া হয়েছে। বুধবার সন্ধ্যা ৬ টা থেকে আগামী ৪৮ ঘন্টার মধ্যে সারা দেশে কালবৈশাখী ঝড় ও মাঝারি থেকে ভারী বর্ষণের এই পূর্বাভাস দেওয়া হয়।
বুধবার (২৯ এপ্রিল) বিকালে বাংলাদেশ আবহাওয়া পর্যবেক্ষণ দল লিমিটেডের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুক পেজ থেকে এক বার্তায় এই তথ্য জানানো হয়।
বার্তায় বলা হয়, তীব্র বজ্রপাত ও কালবৈশাখীর এই দুর্যোগে সবথেকে বেশি ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় রয়েছে দেশের পাঁচটি বিভাগ। এর মধ্যে সিলেট ও ময়মনসিংহ বিভাগের জেলাগুলোতে বৃষ্টির তীব্রতা সবচেয়ে বেশি হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। এছাড়াও ঢাকা বরিশাল ও চট্টগ্রাম বিভাগের জেলাগুলোতে মাঝারি থেকে ভারী বর্ষণের পূর্বাভাস পাওয়া গেছে। এসব এলাকার আকাশ বুধবার সন্ধ্যা থেকেই মেঘলা হয়ে আছে। কোথাও কোথাও সাময়িক সময়ের জন্য অতি ভারী বর্ষণের কারণে জলাবদ্ধতা সৃষ্টির আশঙ্কাও রয়েছে।
বার্তায় আরও বলা হয়, দেশের জেলাগুলোর মধ্যে সুনামগঞ্জ, নেত্রকোনা, হবিগঞ্জ, মৌলভীবাজার ও কিশোরগঞ্জে এই তীব্রতা বেশি হতে পারে। পাশাপাশি ব্রাহ্মণবাড়িয়া, নরসিংদী, গাজীপুর ও নারায়ণগঞ্জেও আকাশ উত্তাল হওয়ার সম্ভাবনা আছে। এছাড়া ঢাকা, মানিকগঞ্জ, গোপালগঞ্জ, ফরিদপুর ও মাদারীপুর জেলাবাসীকেও সতর্ক থাকতে বলা হয়েছে।
এছাড়াও বরিশাল, ভোলা, পটুয়াখালী, লক্ষ্মীপুর ও নোয়াখালী অঞ্চলেও দুর্যোগের ছায়া দেখা দিচ্ছে। বরগুনা, ঝালকাঠি, পিরোজপুর, ফেনী ও কুমিল্লার আকাশও মেঘে ঢাকা থাকতে পারে। শেরপুর, জামালপুর, বাগেরহাট, গাইবান্ধা ও পাবনার বাসিন্দারাও এই তালিকায় রয়েছেন।
এদিক্ রাজশাহী খুলনা ও রংপুর বিভাগের জেলাগুলোতে মাঝারি থেকে ভারী বজ্রবৃষ্টিসহ কালবৈশাখী ঝড় বয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। এসব এলাকায় দমকা হাওয়ার বেগ বেশি হতে পারে। খুলনা, নড়াইল, যশোর ও সাতক্ষীরার মানুষকেও সতর্ক অবস্থানে থাকতে বলা হয়েছে। এছাড়া চুয়াডাঙ্গা, মেহেরপুর, রাজবাড়ী ও কুষ্টিয়ার আকাশেও মেঘের গর্জন শোনা যেতে পারে। ঝিনাইদহ, মাগুরা, রাজশাহী, চাঁপাইনবাবগঞ্জ ও নাটোরেও একই ধরনের আবহাওয়া বিরাজ করতে পারে।
নওগাঁ, বগুড়া, সিরাজগঞ্জ ও জয়পুরহাট জেলার মানুষও ঝড়ের কবলে পড়তে পারেন বলে জানিয়েছে সংস্থাটি। এছাড়াও গাইবান্ধা, দিনাজপুর ও রংপুরের আবহাওয়াও অস্থির থাকতে পারে। নীলফামারী, পঞ্চগড়, লালমনিরহাট ও কুড়িগ্রামেও বৃষ্টিপাতের সম্ভাবনা রয়েছে। এছাড়াও মুন্সিগঞ্জ, টাঙ্গাইল, শরিয়তপুর ও চাঁদপুরের মানুষও দুর্যোগের মুখোমুখি হতে পারেন।
চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, রাঙামাটি, খাগড়াছড়ি ও বান্দরবানেও মাঝারি থেকে ভারী বৃষ্টির পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে। দুর্যোগের সময় খোলা মাঠে বা বড় গাছের নিচে আশ্রয় নেওয়া থেকে বিরত থাকার পরামর্শও দেওয়া হয়।
আরটিভি/এআর



