উজানের ঢল ও মৌসুমি বৃষ্টির প্রভাবে দেশের উত্তর-পূর্বাঞ্চলে আবারও বন্যার শঙ্কা দেখা দিয়েছে। সুরমা, কুশিয়ারা ও সোমেশ্বরীসহ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ নদীর পানি এখনো বিপদসীমার ওপরে প্রবাহিত হচ্ছে। একই সঙ্গে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে মাঝারি থেকে ভারী বৃষ্টিপাত এবং ঝোড়ো হাওয়ার পূর্বাভাস দিয়েছে আবহাওয়া অধিদপ্তর।
বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ডের (বাপাউবো) বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্রের তথ্য অনুযায়ী, সিলেটের ছাতকে সুরমা নদীর পানি গত ২৪ ঘণ্টায় বিপদসীমার নিচে নেমে এলেও সার্বিক বন্যা পরিস্থিতি এখনো উদ্বেগজনক। বিশেষ করে সিলেট, সুনামগঞ্জ ও নেত্রকোণার নদীগুলোর পানি আশঙ্কাজনক অবস্থানে রয়েছে।
তথ্য অনুযায়ী, সিলেটের ফেঞ্চুগঞ্জে কুশিয়ারা নদীর পানি ৩ সেন্টিমিটার বৃদ্ধি পেয়ে বিপদসীমার ৩৫ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। সুনামগঞ্জের মারকুলি পয়েন্টে একই নদীর পানি ১ সেন্টিমিটার বেড়ে বিপদসীমার ২ সেন্টিমিটার ওপরে রয়েছে। অন্যদিকে নেত্রকোণার কলমাকান্দায় সোমেশ্বরী নদীর পানি ৯ সেন্টিমিটার কমলেও এখনো বিপদসীমার ৫ সেন্টিমিটার ওপরে অবস্থান করছে।
এদিকে উজানের ঢলের পাশাপাশি সারাদেশে মৌসুমি বায়ু সক্রিয় থাকায় বৃষ্টিপাতের প্রবণতা আরও কয়েকদিন অব্যাহত থাকতে পারে। আবহাওয়া অধিদপ্তর জানিয়েছে, আগামী ২৪ জুলাই পর্যন্ত দেশের বিভিন্ন এলাকায় বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে।
পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, ঢাকা, খুলনা, বরিশাল ও চট্টগ্রাম বিভাগের অধিকাংশ এলাকায় এবং রাজশাহী, রংপুর, ময়মনসিংহ ও সিলেট বিভাগের অনেক স্থানে দমকা হাওয়াসহ হালকা থেকে মাঝারি ধরনের বৃষ্টি হতে পারে। এছাড়া বরিশাল ও চট্টগ্রাম বিভাগের কোথাও কোথাও মাঝারি থেকে ভারী বর্ষণ হতে পারে।
বৃষ্টির পাশাপাশি রাজধানী ঢাকাসহ রাজশাহী, পাবনা, খুলনা, চট্টগ্রাম ও সিলেটসহ দেশের ১৭টি অঞ্চলের ওপর দিয়ে ঘণ্টায় ৪৫ থেকে ৬০ কিলোমিটার বেগে অস্থায়ী দমকা বা ঝোড়ো হাওয়া বয়ে যেতে পারে। এ কারণে দেশের নদীবন্দরগুলোকে ১ নম্বর সতর্ক সংকেত দেখাতে বলা হয়েছে।
সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ নদীতীরবর্তী ও নিম্নাঞ্চলের বাসিন্দাদের সতর্ক থাকার পাশাপাশি স্থানীয় প্রশাসনের নির্দেশনা মেনে চলার আহ্বান জানিয়েছে।
আরটিভি/এসকে



