images

শিল্প-সাহিত্য

বিশ্বলোক ও পৃথিবী

সোমবার, ২৭ এপ্রিল ২০২৬ , ১২:৫২ পিএম

আমরা আজ যে পৃথিবীতে বসবাস করছি তা কতদিকেই না সমৃদ্ধ। কত শস্য-শ্যামল প্রান্তর, উর্ভর মরুভূমি, পাহাড়-পর্বত, নদ-নদী, সাগর-মহাসাগর, বন-উপবনে পৃথিবী আজ বিচিত্র ও মনোহর। কত দেশ, কত জনপদ, কত জীবজন্তু, কত কীটপতঙ্গ, কত ফুল ও ফলে তা আজ সুশোভিত ও সুন্দর। কিন্তু এমন এক-দিন ছিলো যখন পৃথিবীতে মানুষ তো দূরের কথা কোথাও একটি সুচ্যগ্র পরিমাণ তুণেরও চিহ্নমাত্র ছিলো না।

সেদিনের পৃথিবী শুধু যে তুণলতাশুন্য ছিলো তা নয়-যে অগণিত বৃক্ষলতা, পমুপক্ষী, কীটপতঙ্গে পরিপূর্ণ পৃথিবীকে দেখে আমরা বিমুগ্ধ হই তার কিছুই পৃথিবীর জন্মদিনে, এমন কী তার বহুদিন পর পর্যন্তও পৃথিবীতে ছিলো না! সেদিন পৃথিবীতে কী অসীম শূন্যতাই না বিরাজ করত! তারপর বহুকাল পরে-পৃথিবীতে ধীরে ধীরে কত বিভিন্ন জীবজন্তু ও বৃক্ষলতার বিকাশ ঘটেছে এবং কালক্রমে কতনা অপরূপ সাজে ভূপৃষ্ঠ সজ্জিত হয়েছে! 

এক একটি সৃষ্টির মাঝ-খানে কত লক্ষ, কত কোটি বছর যে কেটে গেছে তার ইয়ত্তা নেই-আবার এও পরম বিষ্ময়ের ব্যাপার যে সকল সৃষ্টির পরিশেষে সৃষ্টি হয়েছে মানুষ। কিন্তু মানুষই যদি সকলের শেষে সৃষ্টি হলো তবে মানুষ তার জন্মেরও পূর্ব-সংবাদ জানলো কি করে? জানা অবশ্য সত্যই কঠিন কিন্তু কঠিন হলোেও বিজ্ঞানীরা বহু শ্রম সাধনায় সে সকল সংবাদ সংগ্রহ করেছেন। 

আরও পড়ুন
Web-Image16

‘একাত্তরের ইতিকথা’ গ্রন্থের মোড়ক উন্মোচন

আজ আমরা ইতিহাস পাঠ করে যেমন আমাদের পূর্বপুরুষদের কথা, বড় বড় যুদ্ধের কথা, নানা প্রতাপশালী রাজাদের কথা জানছি; সে সকল কাহিনী যেমন তখনকার যুগের জ্ঞানী লোকেরা গাছের পাতায়, গাছের ছালে, ধাতু-পাত্রে, পাথরে বা পুস্তকে লিখে রেখে গেছেন এবং সেগুলিকে যেমন ঐতিহাসিকেরা নানা জায়গা থেকে সে সব তথ্য উদ্ধার করে চমকপ্রদভাবে সে অজানা ইতিহাস আমাদের কাছে পরিবেশন করেছেন। অনেক ক্ষেত্রে এই সাজানো স্তরগুলি আবার প্রকৃতির নানা দুর্যোগে ঠিক স্তরে স্তরে সংযুক্ত থাকতে পারেনি-কখনও বা একেবারে বিক্ষিপ্ত ও বিচ্ছন্ন হয়ে পড়েছে কিন্তু বিজ্ঞানীদের প্রচেষ্টায় তারও সন্ধান পাওয়া গেছে এবং শেষ পর্যন্ত সেগুলির বয়ঃক্রম নির্ধারণ করে কালক্রমিকভাবে সাজিয়ে তাঁরা তার মর্মোদ্ধার করতে সমর্থ হয়েছেন। 

কাজেই দেখা যায় মানুষের জ্ঞান ও অধ্যাবসায়, তার চিন্তা-শক্তি কি তীক্ষ্ণ ভাবেই না এদিকে কাজ করেছে! অন্যান্য জীবজন্তুর চেয়ে মানুষ অনেক কৌশলী-অনেক বেশি বুদ্ধিমান। সমস্ত জীবজগতে মানুষের স্থান তাই অতি উচ্চে। আপন পরিবেশ সন্বদ্ধে মানুষ যতখানি সজাগ এবং সে সন্বদ্ধে মানুষ যতখানি চিন্তা করে জীবজগতের অন্য কোন প্রাণী তা করে না। মানুষ তাই শুধু নিজের কথাই চিন্তা করেনি-কেমন করে পৃথিবীতে নানা জীবজন্তুর সৃষ্টি হলো- কী করে নতুন নতুন জীবজন্তু, বৃক্ষলতার আবির্ভাব ঘটলো-কেমন তাদের আকৃতি ও প্রকৃতি-কেমন করে তারা জন্ম নিল-কালক্রমে কেমন করে তাদের অনেকেই একদিন নিশ্চিহ্ন হলো-এই চঞ্চল জীবন-প্রবাহ কেমন করে সৃষ্টি হলো-কোন মূলীভূত উদ্দেশ্যের এ অপরূপ আয়োজন-আজ পৃথিবীর বুকে মানুষের একাধিপত্য-জলে-স্থলে-অন্তরীক্ষে তার অসীম প্রতিপত্তি-কোন বিশিষ্ট শক্তি মানুষকে এমন বিত্তশালী করেছে-একদিন এ শক্তি কোথায় সুপ্ত ছিল-এমনি নানা ভাবনা মানুষের মনকে আন্দোলিত করেছে এবং সে চিরদিনই এ সকল রহস্য উদ্ঘাটনের জন্য অবিরাম চেষ্টা করেছে। 

অবশ্য সব কিছই যে আজ পর্যন্ত জানা গেছে তা নয়, তবু এই চিরন্তন প্রচেষ্টায় জীব ও জগৎ সন্বন্ধে বিজ্ঞানীরা যতটুকু জেনেছেন তাতেই গড়ে উঠেছে অত্যাশ্চার্য এক বিরাট ইতিহাস! সে বিচিত্র ইতিহাস, সে অফুরন্ত কাহিনী পুরোপুরি লিপিবদ্ধ করে কার সাধ্য। মাটির মানুষ পৃথিবীর মাটির সাথেই সম্পর্ক আমাদের গভীর কিন্তু তাই বলে শূন্যলোকের সঙ্গে সংযোগ যে আমাদের নেই এমন নয় বরঞ্চ সে সংযোগ যেন আরও সুক্ষ্ম, আরও নিবিড়। শূন্যলোকের সাথে এমনি সুক্ষ্মসূত্রে যে আমাদের পৃথিবীর জন্মদাতা তা নয়-সূর্যই আমাদের প্রাণকেন্দ্র-সকল জীবলোকের জীবন-প্রদীপ! সূর্যের দৈহিক তাপ ও আলো শুধু যে আমাদের জীবনকে সঞ্জীবিত করেছে তা নয়-সমস্ত প্রাণি-জগৎ এই স্বর্গীয় অমৃতধারায় পরিপুষ্ট। 

এ থেকে বঞ্চিত হলো কিম্বা এই পরিমিত সংস্থানের ব্যতিক্রম ঘটলে পৃথিবীর সমগ্র প্রাণিজগতের অস্তিত্বই বিলুপ্ত হবে। সূর্য তাই আমাদের জীবনের সাথে বিশেষভাবেই জড়িত। অথচ শূন্যলোকের এই সূর্য আমাদের কাছ থেকে নয় কোটি ঊনত্রিশ লক্ষ মাইল দূরে অবস্থিত। অতদূর অবস্থান করেও সূর্য যে আমাদের সাথে এমন বিশেষ সংযোগ বজায় রাখছে-এমন কী আমাদের জীবনের উপরেও যে তার অসীম প্রভাব বিস্তার করেছে তা সত্যই বিস্ময়কর। 

সূর্যের ব্যবধান যেমন বিরাট তার আয়তনও তেমনি বৃহৎ। অথচ আমাদের চোখে সূর্যকে একটি বড় থালার চেয়ে বড় বলে মনে হয় না। তার কারণ অবশ্য-সেই বিরাট ব্যবধান। আসলে সূর্য আয়তনে আমাদের পৃথিবীর চেয়ে তের লক্ষ গুণ বড়। আমাদের পৃথিবীই যে কত বড় তার ধারণা আমরা সহজে করতে পারি না-কাজেই এমনি হিসাবে সূর্যের বিশালতা উপলদ্ধি করা সহজ নয়। ধরা যাক, আমরা এক রেলগাড়িতে চড়ে পৃথিবী আর সূর্যের পরিধিকে এক একবার প্রদক্ষিণ করার মনস্থ করলাম। 

আরও পড়ুন
Web-Image4

রেজাউদ্দিন স্টালিনের কবিতা নিয়ে বিশেষ ‘আবৃত্তি সন্ধ্যা’

এখন সেই রেলগাড়িটি যদি ঘণ্টায় ত্রিশ মাইল বেগে অবিরাম ছুটে চলে তবে পৃথিবীর পরিধি ঘুরতে যেখানে আমাদের সময় লাগবে এক মাসেরও কিছু বেশি সেখানে সূর্যের ক্ষেত্রে সেই সম দাঁড়াবে দশ বছরেরও কিছু বেশি! এ থেকেই অনেকটা অনুমান করা যায় যে সূর্য আমাদের পৃথিবীর চেয়ে কত বড়। অবশ্য সূর্য পৃথিবীর তুলনায় অনেক বড় হলেও শূন্যলোকে সূর্যই যে সবচেয়ে বড় তা নয়। মেঘশূন্য রাত্রিতে যে অসংখ্য তারকা-রাশি অসীম আকাশে দীপমালা জ্বালিয়ে দেয় তাদের মধ্যে কোনটি আবার সূর্যের চেয়েও অনেক গুণে বড়। তবে, এমনি বড় তারার সংখ্যা খুব বেশি নয়-বেশির ভাগ তারাই অনেকটা সূর্যের সমান। এক একটি তারা যে আমাদের কাছ থেকে কত দূরে আছে তার ধারণা করা যেমন সহজ নয়-তেমনি তাদের দূরত্বও মাইলের সংখ্যায় প্রকাশ করা কঠিন। 

মাইলের মাপকাঠিতে এদের দূরত্বের সংখ্যামান এতই বড় হয় যে তা আমাদের ধারণার অতীত। তাই তাদের দূরত্ব মাপতে গিয়ে নেওয়া হয় মাইলের চেয়ে আরও বড় মাপকাঠি যার সূত্র হলো-আলোর গতি। সমগ্র বিশ্বে আলোর গতিই হলো সবেচেয়ে বেশি। প্রতি সেকেণ্ডে এক লক্ষ ছিয়াশি হাজার মাইল তীব্র গতিবেগ নিয়ে আলোক দূত ছুটে চলে! এমনি দ্রুতগতিসম্পন্ন আলো এক বছরে যতটা পথ অতিক্রম করে তাই হর তারাদের বেলায় দূরত্ব মাপার মাপকাঠি আর এই মাপকাঠিকে বলা হয় এক আলোক-বছর। 

যাহোক, এখন এই আলোর গতিবেগের সূত্রে পূর্বাপর ব্যাপারগুলি আলোচনা করা যাক। ঘণ্টায় ত্রিশ মাইল বেগে ছুটে চলার রেলগাড়িতে চড়ে পৃথিবীকে প্রদক্ষিণ করতে যেখানে এক মাসের চেয়েও বেশি সময় নেবে সেখানে আলোর রথে পৃথিবীকে পাড়ি দিতে সময় লাগবে এক সেকেণ্ডের আট ভাগের এক ভাগেরও কম-আবার সেই রেলগাড়িতে যেখানে সূর্যের চার-পাশ ঘুরতে সময় লাগত দীর্ঘ দশ বছরেরও বেশি সেখানে আলোর রথে চড়ে প্রায় পনেরো সেকেন্ডই তা সম্পন্ন করা যেতে পারে। কাজেই বুঝা যায় কত দ্রুত এই আলোর গতি। 

অন্যদিকে নয় কোটি ঊনত্রিশ লক্ষ মাইল দূরের সূর্য থেকে আমাদের পৃথিবীতে আলো আসতে যেখানে আধ মিনিটের মত সময় নেয় সেখানে আমাদের সবচেয়ে কাছের তারাটি থেকেই আলো আসতে সময় লাগবে চার বছরের চেয়েও বেশি। সবচেয়ে কাছের তারাটির দূরত্ব তাই বিজ্ঞানীদের ভাষায় চার আলোক বছর-মাইলের সংখ্যায় যার দূরত্ব দাঁড়ায় ৩,১৮৭,২৯৬০০০০০০ মাইল! সবচেয়ে কাছের তারাটির যখন এই অবস্থা তখন অন্য তারাদের দূরত্বের কথা আর না বলাই ভালো-বিশেষ করে মাইলের সূত্রে তাদের দূরত্বের হিসাব টানা বা সে দূরত্বের অনুধাবন করা বড়ই কঠিন। কাজেই বলা যেতে পারে তারাগুলি তেমন কাছাকাছি বসবাস করছে না। কিন্তু অত দূরে থেকে রাতের বেলায়-অমন চেয়ে-চেয়ে কি তারা দেখে আমাদের-আর তাদের সংখ্যাই বা কত? সে সংখ্যার হিসাব দেওয়া আরও কঠিন। তাই এক বিজ্ঞানী কোনো হিসাবের হের-ফেরে না গিয়ে সোজাসুজিই বলেছেন যে আমাদের পৃথিবীর সকল সাগর উপকূলে যত বালুকণা আছে বিশ্বসংসারে তারার সংখ্যাও অনেকটা তেমন। 

এখন, এতগুলি তারা শুধু যদি ঘেষাঘেষি করেও থাকে তবে তাদের জন্যই কতনা বিশাল জায়গার প্রয়োজন। কিন্তু মহাশূন্যের বুকে একদিকে যেমন তারাগুলি ঘেষাঘেষি করে নেই-একটি থেকে অন্যটির ব্যবধান লক্ষ লক্ষ, কোটি কোটি মাইল তেমনি অন্যদিকে গ্রহ, উপগ্রহ, সূর্য, তারা ছাড়াও বিশ্বে আরও অনেক বিস্ময়কর বস্তু আছে যাদের মধ্যে পুঞ্জীভূত রয়েছে রাশি রাশি তারার ঘনবসতি! কাজেই বুঝা যায় আমাদের বিশ্বজগতটি অত্যন্ত বিশাল-এতই বিশাল যে আলো যেখানে পৃথিবীকে প্রদক্ষিণ করতে এক পলকেরও কম সময় নেবে-সূর্যকে প্রদক্ষিণ করতে সেখানে প্রায় পনেরো সেকেণ্ড সময় নেবে। সেখানে সমগ্র বিশ্বলোক ঘুরে আসতে সেই চরম গতিশীল আলোর পক্ষেও পঞ্চাশ হাজার কোটি বছরের মত সময়ের প্রয়োজন হবে। 

কাজেই আলোর মত দ্রুতযানে আরোহস করেও আমাদের একার জীবনে তে দূরের কথা-কোটি কোটি মানুষের পারমায়ু একত্র করলেও সমগ্র বিশ্বজগতের খানিক অংশও ক্ষণিকের জন্য দেখে আসার সৌভাগ্য হবে না। এমনি বিপুল, বিশাল আমাদের এই বিশ্বজগৎ-যার বিশালতা উপলদ্ধি করতে আমাদের কল্পনার অসীম প্রখরতা প্রয়োজন তারও নাকি আবার অন্ত নেই। কোনো কোনো বিজ্ঞানীর মতে আমাদের এই বিশ্বজগৎ ক্রমাগতই নাকি বেড়ে চলেছে-অনেকটা বেলুনের মতই ফুলছে! তাঁদের হিসাবে একশত পঞ্চাশ কোটি বছর পর এই বিপুল বিশ্বের আয়তন দাঁড়াবে আরও দ্বিগুণ! তাই কবির কথাই যেন সত্য-

নাহি দেশ
নাহি কাল
নাহি হেরি সীমা!

আরও পড়ুন
Lcopy

পল্লিকবির জন্মবার্ষিকীতে ‘মায়া বেঙ্গল ইন মোশন’ এর তৃতীয় আয়োজন

যাহোক-বিশ্বজগতের বৃদ্ধি ঘটুক বা নাই ঘটুক এমনিতেই বিশ্বজগৎ অত্যন্ত বিশাল-তবে বিশ্বের এই বিশাল বক্ষ যে সম্পূর্ণ বস্তুপুঞ্জে পরিপূর্ণ তা নয়-বিশ্বের প্রায় সর্বত্রই বিরাজ করছে এক বিরাট শূন্যতা-সেই শূন্যতার মাঝখানে যেন মহাসমুদ্রে ভাসমান দ্বীপপুঞ্জের মত ইতস্তত বিক্ষিপ্ত রয়েছে কতকগুলি নীহারিকা বা নক্ষত্রজগৎ। এই নীহারিকা বা নক্ষত্রজগতের সংখ্যাও কম নয়-দূরবীনের চোখে একশত কোটিরও অধিক নক্ষত্র জগৎ রয়েছে তার পরিমাপ করা আজও যায়নি এবং কোনদিন যাবে কিনা তাও সন্দেহ। তবে বিজ্ঞানী এডিংটনের ধারণা যে সমগ্র বিশ্বে অন্তত এক লক্ষ কোটি তেমনি নক্ষত্রজগতের অস্তিত্ব রয়েছে, যার প্রত্যেকটিতে রয়েছে হাজার হাজার কোটিরও বেশি তারার কসতি-আর সেই তারাগুলিও ছোট নয় সকলেই ছোট বড় একটি সূর্য! 

কাজেই দেখা যায়, এই বিপুল বিশ্বে আমাদের পৃথিবীর বিরাটত্বও একান্ত নৈরাশ্যজনক! বিশ্বের বিশালতা আর তার অন্তর্নিহিত বস্তুপুঞ্জের তুলনায় ক্ষুদ্র বালু-কণারও সমান দাঁড়ায় না আমাদের এই বিরাট পৃথিবী! তবুও আশ্চর্য যে এমনি এক নগণ্য ও ক্ষুদ্রকায় পৃথিবীতে বসবাস করেও আমাদের অনেকের কত না গর্ব! কিন্তু এই বিপুল বিশ্বে-আমাদের স্থান যেখানে অতি তুচ্ছ-অনেকটা নেই বললেই চলে, সেখানে আমাদের আমাদের গর্ববোধের মূল্যই বা কি-আর আমাদের জ্ঞানগরিমার মহিমাই বা কি! 

তবে, এও সত্য যে এমনি এক ক্ষুদ্রকায় পৃথিবীর ততোধিক ক্ষুদ্র বাসিন্দা হয়েও আমরা যে বিরাট বিশ্বকে জানবার প্রচেষ্টা চালিয়েছি এবং আজ পর্যন্ত অনেক কিছুই জেনেছি তাই কি আমামের মত ক্ষুদ্র মানুষের পক্ষে এক বিরাট সার্থকতা নয়? তা’ছাড়া বিশ্বসংসারের কারবার শুধু যে সূর্য, তারা, গ্রহ, উপগ্রহ প্রভৃতি বিরাট বিরাট বস্ত নিয়েই তা নয়-পৃথিবীর চেয়েও ক্ষুদ্র জিনিস আছে, ক্ষুদ্র মানুষের তুলনায় ক্ষুদ্র জীবও আছে-আবার সকর বস্তুর মূলে যে অতিক্ষুদ্র জীবও আছে-আবার সকল বস্তুর মূলে যে অতিক্ষুদ্র পরমাণু তার চেয়েও ক্ষুদ্র, অদৃশ্য বস্তুকণার অস্তিত্ব জানা গেছে-আর এই সকলকে নিয়েই আমাদের বিশ্বজগৎ-দৃশ্য এবং অদৃশ্য-ক্ষুদ্র ও বৃহতের সমন্বয়ে গঠিত যেন এক সুবৃহৎ সম্মিলন! 

কিন্তু, বিশ্বের সবচেয়ে যা বিষ্ময়কর তা হলো এই যে-যারা এই বিশাল সাম্রাজ্যের অংশীদার তারা অনেকেই আকৃতি ও প্রকৃতিতে অনেকটা বিভিন্ন কিন্তু আশ্চর্য, এই বিভিন্নতার মধ্যেও বিরাজ করছে এক অপরূপ শৃঙ্খলা ও সামঞ্জস্য। তাই মনে হয় এমনি সামঞ্জস্য ও শৃঙ্খলার পিছনে নিশ্চয়ই কোন গভীর উদ্দেশ্য নিহিত আছে-কিন্তু কী সে উদ্দেশ্য-কেনই বা এই অপূর্ব আয়োজন তা আজও আমাদের অজানা রয়ে গেছে। 

লেখক : কবি, সম্পাদক ও সাংস্কৃতিক কর্মী

আরটিভি/এমএম