সোমবার, ২৯ জুন ২০২৬ , ০৭:১৪ পিএম
চীনা সিনেমা শুধু বিনোদনের মাধ্যম নয়, বরং দেশটির সংস্কৃতি, পারিবারিক মূল্যবোধ এবং সামাজিক পরিবর্তনের প্রতিচ্ছবি। চলচ্চিত্রের মাধ্যমে চীনের ঐতিহ্য ও জীবনধারা আরও গভীরভাবে তুলে ধরা হয় বলে মন্তব্য করেছেন চীনের ইস্ট চায়না নরমাল ইউনিভার্সিটির চীনা বিচীনা সিনেমা শুধু বিনোদনের মাধ্যম নয়, বরং দেশটির সংস্কৃতি, পারিবারিক মূল্যবোধ এবং সামাজিক পরিবর্তনের প্রতিচ্ছবি।ভাগের অধ্যাপক তু ইং।
সোমবার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আধুনিক ভাষা ইনস্টিটিউটে (আইএমএল) ‘রিড চায়না’ শীর্ষক বিশেষ আলোচনা ও সাংস্কৃতিক বিনিময় অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন।
বাংলাদেশে চীনা দূতাবাসের সহযোগিতায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আধুনিক ভাষা ইনস্টিটিউট (আইএমএল) এবং অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ-চায়না অ্যালামনাই (এবিসিএ) যৌথভাবে অনুষ্ঠানের আয়োজন করে। এতে চীনা ভাষা বিভাগের শিক্ষার্থীরা অংশ নেন।
আলোচনায় অধ্যাপক তু ইং বলেন, চীনা সিনেমায় চারটি বিষয় বিশেষভাবে গুরুত্ব পায়। এগুলো হলো—খাদ্যসংস্কৃতি, পোশাক, ঐতিহ্যবাহী অপেরা এবং অ্যানিমেশন। এসব উপাদান শুধু সিনেমার সৌন্দর্য বাড়ায় না, বরং গল্প ও চরিত্রকে আরও অর্থবহ করে তোলে।
তিনি বিখ্যাত পরিচালক অ্যাং লির ‘ইট, ড্রিঙ্ক, ম্যান, ওম্যান’ চলচ্চিত্রের উদাহরণ দিয়ে বলেন, এই সিনেমায় পারিবারিক নৈশভোজ শুধু একসঙ্গে খাওয়ার বিষয় নয়; বরং পরিবারের সদস্যদের সম্পর্ক, দায়িত্ব, ভালোবাসা ও প্রজন্মগত দূরত্বের প্রতীক হিসেবে তুলে ধরা হয়েছে।
পোশাকের গুরুত্ব ব্যাখ্যা করতে গিয়ে তিনি পরিচালক ওং কার-ওয়াইয়ের ‘ইন দ্য মুড ফর লাভ’ চলচ্চিত্রের কথা উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, চলচ্চিত্রে ব্যবহৃত ঐতিহ্যবাহী ছিপাও পোশাক শুধু সৌন্দর্যের জন্য নয়, বরং চরিত্রের আবেগ, সংযম এবং সেই সময়ের সামাজিক বাস্তবতাকেও প্রকাশ করেছে।
অধ্যাপক তু ইং আরও বলেন, চীনের ঐতিহ্যবাহী অপেরা মার্শাল আর্টভিত্তিক চলচ্চিত্রের ওপর গভীর প্রভাব ফেলেছে। কিং হু পরিচালিত ‘আ টাচ অব জেন’ চলচ্চিত্রের উদাহরণ দিয়ে তিনি বলেন, অপেরার অভিনয়ভঙ্গি, শরীরের নড়াচড়া এবং দৃশ্য বিন্যাস চীনা মার্শাল আর্ট চলচ্চিত্রকে বিশ্বজুড়ে স্বতন্ত্র পরিচিতি এনে দিয়েছে।
তিনি বলেন, চীনা সিনেমা ঐতিহ্যকে শুধু সংরক্ষণ করে না, বরং আধুনিক চলচ্চিত্রের মাধ্যমে নতুন প্রজন্মের কাছে জীবন্ত করে তুলে ধরে।
আরটিভি/ এসকেডি