রোববার, ০৭ জুন ২০২৬ , ১০:২৭ পিএম
দেশজুড়ে আলোচিত পল্লবীর শিশু রামিসা আক্তারকে (৭) হত্যা ও ধর্ষণের ঘটনায় আসামি সোহেল রানা (৩৩) ও তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তারকে (২৮) মৃত্যুদণ্ড দিয়েছে দিয়েছে আদালত। এই রায় শুনে সোহেলের পরিবার শোকাহত হলেও রাষ্ট্রের সহায়তা পেলে রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করার কথা জানিয়েছে।
তবে স্বপ্নার পরিবার আপিল করবে না বলে জানিয়ে তার বাবা বলেন, মেয়েকে আগেই ত্যাজ্য করেছি, ফাঁসির রায়ের বিরুদ্ধে আমি কোনো আপিল করবো না। বরং নৃশংস এই ঘটনায় এমন রায় হওয়ায় আমি খুশি হয়েছি।
রোববার (৭ জুন) দুপুরে রামিসা হত্যা মামলার রায় ঘোষণার পর হত্যাকারী সোহেলের নিজ এলাকায় নাটোরের সিংড়ার মহেশচন্দ্রপুর গ্রামের মানুষ স্বস্তি প্রকাশ করেন।
এ দিন দুপুরে ফাঁসির দণ্ডপ্রাপ্ত সোহেলের বাড়িতে গিয়ে অন্যান্য দিনের মতোই স্বাভাবিক অবস্থা দেখা যায়। দুপুরে পরিবারের সদস্যদের নিজ নিজ কাজে ব্যস্ত থাকতে দেখা যায়।
পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, সোহেলের বিরুদ্ধে হত্যা মামলার রায়ের কথা তারা জানতেন না। রায়ের পর স্থানীয় লোকজন তাদের বাড়ি এসে রায় ঘোষণার কথা জানান।
রায়ের প্রতিক্রিয়ায় সোহেলের বোন জলি বেগম বলেন, আমার ভাইয়ের ফাঁসি হবে এটা আমরা ধারণা করেছিলাম। ফাঁসির রায় আমরা মেনে নিয়েছি। আমাদের সামর্থ্য থাকলে আপিল করতাম।
সোহেলের বাবা জাকির হোসেন ও সোহেলের মা সাজেদা বেগম বলেন, আমরা এতোটাই গরীব যে আপিল করার মতো টাকা আমার নাই। সরকার আইনজীবী দিলে আমরা আপিল করব।
এদিকে মেয়েকে আগেই ত্যাজ্য করেছি জানিয়ে স্বপ্নার বাবা জিয়াদুল বলেন, এই হত্যা (রামিসা) মেনে নেওয়ার মতো না। মেয়ের এই রায়ে আমি খুশি। বিচার বাস্তবায়ন হোক। কোনো আপিল পরিবার থেকে করবো না।
প্রতিবেশী আবু বক্কর ও আবু সাইদ বলেন, স্বপ্নার কপালে শনি পড়েছে। সোহেল তার তৃতীয় স্বামী। বাবা-মার অমতে তাকে বিয়ে করার পর তার সঙ্গে পরিবারের সম্পর্ক আর ছিলো না। যেমন সঙ্গ দোষে লোহা ভাসে তেমনি স্বপ্না এমন ঘটনায় জড়িত হয়েছে। সোহেলের মতো খারাপ ছেলের সঙ্গে বিয়ে হওয়ায় তার কাল হয়েছে। আমরা তাদের দুজনের শাস্তি চাই।
উল্লেখ্য, ১৯ মে পল্লবীতে আট বছরের শিশুকে ধর্ষণ ও গলা কেটে হত্যার মামলায় আসামি সোহেল রানা ও তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তারকে মৃত্যুদণ্ডের আদেশ দিয়েছেন আদালত। রোববার বেলা ১১টায় ঢাকা মহানগর শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক মাসরুর সালেকীন এই রায় ঘোষণা শুরু করেন এবং ১১টা ৩৫ মিনিটে রায় পড়া শেষ হয়।
আরটিভি/এমএম