বুধবার, ২৭ মে ২০২৬ , ০৮:৫১ পিএম
‘আমার নাতনির বয়স মাত্র তিন দিন, এভাবে চলে যাবে ভাবতেই পারিনি’- কথাগুলো বলতে গিয়ে কেঁদে উঠছিলেন মাসুদা বেগম। এ সময় কোলে জড়ানো ছিল তার নাতনির নিথর দেহ। পরিবারের প্রথম সন্তানকে ঘিরে যে স্বপ্ন, তা থেমে গেছে জন্মের মাত্র তিন দিনের মাথায়।
রাজধানীর আদ-দ্বীন মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে একই ওয়ার্ডে থাকা ছয় নবজাতকের মৃত্যুর ঘটনায় এমনই শোকাবহ পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে।
মঙ্গলবার (২৬ মে) গভীর রাতে এ ঘটনা ঘটে বলে হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে।
বুধবার (২৭ মে) হাসপাতালের পোস্ট অপারেটিভ ওয়ার্ডে গিয়ে দেখা যায়, চারপাশে নেমে এসেছে ভারী নীরবতা। স্বজন হারানো পরিবারগুলোর কান্নায় পরিবেশ হয়ে ওঠে ভারাক্রান্ত।
হাসপাতালের বেডে শুয়ে বারবার চোখ মুছছিলেন শিশুটির মা মিম আক্তার।
দাদি মাসুদা বেগম জানান, ছেলে আরিফ ও পুত্রবধূ মিম আক্তার কাজের কারণে ঢাকায় থাকেন। তাদের বাড়ি মুন্সিগঞ্জ জেলায়। সন্তান জন্মের খবর পেয়ে পরিবারের সবাই আনন্দিত ছিলেন। কিন্তু বুধবার সকালে সেই আনন্দ মুহূর্তেই শোকে পরিণত হয়। এটি ছিল তাদের প্রথম সন্তান। এখনো নামও রাখা হয়নি শিশুটির।
তিনি বলেন, সকালে আমার ছেলে ফোন করে বলেছিল বাচ্চার অবস্থা খারাপ। পরে জানতে পারি সে আর বেঁচে নেই। হাসপাতাল থেকে আমাদের কিছুই স্পষ্টভাবে জানানো হয়নি।
হাসপাতাল সূত্র জানায়, ওই ওয়ার্ডে ১১ জন মা ও ছয় নবজাতক ছিলেন। শিশুদের বয়স ছিল এক থেকে তিন দিনের মধ্যে।
বিষয়টি দুর্ঘটনা হিসেবে দেখা হচ্ছে জানিয়ে হাসপাতালের মহাপরিচালক (হসপিটালস অ্যান্ড নার্সিং) অধ্যাপক ডা. নাহিদা ইয়াসমিন বলেন, প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, এসির গ্যাস লিকেজ থেকে বিষক্রিয়ার মতো পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে। তবে প্রকৃত কারণ জানতে তদন্ত চলছে।
এ ঘটনার পর হাসপাতালজুড়ে সৃষ্টি হয় আতঙ্ক ও শোকের পরিবেশ। স্বজন হারানো পরিবারগুলোর আহাজারিতে ভারী হয়ে ওঠে চারপাশ। একই সঙ্গে অন্য রোগী ও স্বজনদের মধ্যেও উদ্বেগ ছড়িয়ে পড়ে।
আরটিভি/এমএম