রোববার, ১৮ জানুয়ারি ২০২৬ , ১০:৪৩ পিএম
Failed to load the video
কুড়িগ্রামে নিয়ম-নীতির তোয়াক্কা না করে একাধিক ইটভাটায় অবৈধভাবে কৃষিজমির উপরিভাগের মাটি উত্তোলন করা হচ্ছে। এতে নগরায়নের জন্য ইটের চাহিদা মেটালেও মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে কৃষিকাজ। স্থানীয়দের অভিযোগ, সংশ্লিষ্ট দপ্তরে বারবার অভিযোগ জানালেও কার্যকর কোনো প্রতিকার পাওয়া যাচ্ছে না।
জেলার রাজারহাট উপজেলার তালুক নাককাটি গর্বের দোলা, জয়ডোভের দোলাসহ বিভিন্ন এলাকায় অবাধে ইটভাটায় কৃষিজমির মাটি সরবরাহ করা হচ্ছে। চাষিদের অভিযোগ, দিন-রাত ভেকু মেশিন ব্যবহার করে এসব মাটি কেটে ইটভাটায় নিয়ে যাওয়া হচ্ছে। এই কার্যক্রমের সঙ্গে স্থানীয় প্রভাবশালী একটি চক্র জড়িত বলে দাবি তাঁদের।
একজন ক্ষতিগ্রস্ত চাষি জানান, প্রায় সাড়ে সাত একর আবাদি জমিতে সাড়ে তিন ফুট থেকে শুরু করে কোথাও কোথাও ১২ ফুট পর্যন্ত গর্ত করা হয়েছে। এতে ফসলি জমি সম্পূর্ণভাবে নষ্ট হয়ে যাচ্ছে।
তিনি বলেন, এগুলো ছিল আবাদযোগ্য জমি। এখন এমনভাবে মাটি কাটা হয়েছে যে আর চাষ করার উপযোগী নেই। এতে আমাদের যেমন ক্ষতি হচ্ছে, তেমনি রাষ্ট্রও ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।
স্থানীয়দের আশঙ্কা, এভাবে জমির উপরের উর্বর স্তর অপসারণের ফলে ভবিষ্যতে এসব জমিতে আর ফসল উৎপাদন সম্ভব হবে না। অথচ কৃষিজমির উপরিভাগের মাটি খনন আইনত সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। তবে প্রশাসনের যথাযথ নজরদারির অভাবে জেলায় দেদারসে চলছে এই অবৈধ কার্যক্রম।
অন্যদিকে সংশ্লিষ্টরা দাবি করছেন, নিয়ম মেনেই মাটি সংগ্রহ করা হচ্ছে।
এ বিষয়ে পরিবেশ অধিদপ্তরের পরিচালক রেজাউল করিম বলেন, অবৈধভাবে মাটি উত্তোলন বন্ধে স্থানীয় প্রশাসনের সহযোগিতায় মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করা হচ্ছে। তিনি জানান, বালুমহাল ও মাটি ব্যবস্থাপনা আইনে জরিমানার বিধান রয়েছে এবং সম্প্রতি এ বিষয়ে একটি পরিপত্রও জারি করা হয়েছে। আমাদের কার্যক্রম চলমান রয়েছে, বলেন তিনি।
অবৈধভাবে কৃষিজমির মাটি উত্তোলন বন্ধে প্রশাসনের আরও কঠোর নজরদারি এবং দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।
আরটিভি/এএএ