পাহাড়ের ঢালে ঢালে কাঁচা হলুদের গন্ধে ভাসছে বাতাস। কোথাও সিদ্ধ হচ্ছে হলুদ, কোথাও রোদে শুকানো-সব মিলিয়ে ব্যস্ত সময় পার করছেন রাঙ্গামাটির লংগদু উপজেলার কৃষক ও ব্যবসায়ীরা। দুর্গম যোগাযোগব্যবস্থা থাকলেও থেমে নেই পাহাড়ি হলুদ চাষ ও প্রক্রিয়াজাতকরণ। এখানকার অনেক কৃষকের ভরসাই এখন হলুদ।
পাহাড়ঘেরা লংগদু উপজেলায় প্রতিবছর তিন থেকে চার মাস ধরে চলে হলুদের মৌসুম। দুর্গম পাহাড়ি ঢাল থেকে সংগ্রহ করা কাঁচা হলুদ নেমে আসে বাজারে। বিশেষ করে উপজেলার ইসলামবাদ এলাকায় দিন-রাত ব্যস্ততা চোখে পড়ে। এখানে হলুদ সিদ্ধ করা, রোদে শুকানো ও মেশিনে পরিষ্কারের কাজ চলে একটানা। পুরো এলাকাজুড়েই যেন কর্মচাঞ্চল্য।
সংগ্রহ করা কাঁচা হলুদ বড় পাত্রে সিদ্ধ করার পর রোদে শুকানো হয়। পরে মেশিনে পরিষ্কার করে বাজারজাত করা হলে পাহাড়ের হলুদ পৌঁছে যায় দেশের বিভিন্ন প্রান্তের রান্নাঘরে।
এক ব্যবসায়ী বলেন, ‘পাহাড় থেকে হলুদ সংগ্রহ করে গাড়িতে করে এখানে আনি। এরপর সিদ্ধ করে শুকিয়ে প্রক্রিয়াজাত করা হয়। সব কাজ শেষ হলে বাজারে বিক্রি করি।’
গত বছরের তুলনায় এবার হলুদের দাম কিছুটা বেড়েছে। তবুও লাভের আশায় ব্যবসায়ীরা নিজ উদ্যোগে কাঁচা হলুদ কিনছেন। আরেক ব্যবসায়ী জানান, ‘আশা করছি গতবারের চেয়ে এবার একটু বেশি লাভ হবে। এখনো বড় ক্রেতারা পুরোপুরি বাজারে নামেনি। তারা এলে বিক্রি শুরু হবে।’
হলুদের ওপর নির্ভর করেই অনেক পরিবারের জীবিকা চলে বলে জানান স্থানীয়রা। এক শ্রমিক বলেন, ‘আমরা প্রতিদিন কাজ করে হলুদের ব্যবসা করি। এই ব্যবসা দিয়ে অনেক পরিবার চলতে পারে।
হলুদের উৎপাদন বাড়াতে সক্রিয় রয়েছে স্থানীয় কৃষি বিভাগ। লংগদু উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ কর্মকর্তা ইসরাফিল বলেন, চলতি মৌসুমে ৩৫ জন কৃষককে হলুদ চাষে প্রণোদনার আওতায় আনা হয়েছে। প্রত্যেক কৃষককে ১০০ কেজি উন্নতমানের হলুদের বীজ দেওয়া হচ্ছে। পাশাপাশি ৫ কেজি করে ডিএপি ও এমওপি সার দেওয়া হচ্ছে। হলুদ চাষে যেকোনো পরামর্শ ও সহযোগিতায় উপজেলা কৃষি অফিস সব সময় কৃষকদের পাশে আছে।
সংশ্লিষ্টদের মতে, সরকারি পৃষ্ঠপোষকতা ও উন্নত যোগাযোগব্যবস্থা নিশ্চিত করা গেলে লংগদুর পাহাড়ি হলুদ জাতীয় অর্থনীতিতেও গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখতে পারে।





