images

দেশজুড়ে / অর্থনীতি / বিশেষ প্রতিবেদন

১০ লাখ টন পণ্য আটকে ভাসমান গুদাম তৈরি, নেপথ্যে বড় সিন্ডিকেট

বুধবার, ২৮ জানুয়ারি ২০২৬ , ০৮:২০ পিএম

রমজান সামনে রেখে চট্টগ্রামের খাতুনগঞ্জে খাদ্যপণ্যের কৃত্রিম সংকট তৈরির অভিযোগ উঠেছে। ছয়টি বড় আমদানিকারকসহ একটি সিন্ডিকেট গভীর সমুদ্র থেকে আনা খাদ্যপণ্য খালাস না করে লাইটার জাহাজে আটকে রেখে বাজার অস্থির করার চেষ্টা করছে বলে অভিযোগ করছেন সংশ্লিষ্টরা।

ব্যবসায়ীরা জানান, প্রায় ১০ লাখ টন গম, ভুট্টা, ছোলা, ডাল, সয়াবিন ও চিনি লাইটার জাহাজে রেখে কার্যত ভাসমান গুদাম তৈরি করা হয়েছে। চট্টগ্রাম বন্দরের আউটার অ্যাঙ্করেজ এলাকায় বর্তমানে প্রায় ৭২০টি লাইটার জাহাজ ভাসমান অবস্থায় রয়েছে।

পণ্য খালাস না হওয়ায় একদিকে লাইটার জাহাজের তীব্র সংকট তৈরি হয়েছে, অন্যদিকে রমজানকে সামনে রেখে বাজারে পণ্যের ঘাটতি ও দাম বাড়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। ব্যবসায়ীরা বলছেন, এতে আমদানিকারকদের খরচ বাড়ছে, যার চাপ শেষ পর্যন্ত ভোক্তাদের ওপরই পড়ছে।

খাতুনগঞ্জের ব্যবসায়ীরা অভিযোগ করে বলেন, ইচ্ছাকৃতভাবে পণ্য আটকে রেখে কৃত্রিম সংকট তৈরি করা হচ্ছে, যাতে চাহিদা বাড়ার সময় দাম বাড়ানো সহজ হয়। এতে বাজারে অস্থিরতা সৃষ্টি হচ্ছে।

আরও পড়ুন
Web-Image---Copy

অব্যবস্থাপনা ও যান্ত্রিক অচলাবস্থায় বিপর্যস্ত রেলওয়ে

খাতুনগঞ্জ আড়তদার সমিতির সাবেক সভাপতি সোলাইমান বাদশা বলেন, সরকার যদি বিষয়টি কঠোরভাবে দমন না করে, তাহলে নিত্যপণ্যের দাম বাড়বেই। পর্যাপ্ত পরিমাণ পণ্য বাজারে না এলে সংকট তৈরি হবে, আর সংকট মানেই বাজারে অস্থিরতা।

এদিকে লাইটার জাহাজে দীর্ঘদিন পণ্য আটকে রাখার প্রবণতা ঠেকাতে নৌ পরিবহন অধিদপ্তর পাঁচ দিনের মধ্যে পণ্য খালাসের নির্দেশ দিয়েছে।

চট্টগ্রাম বন্দরের পরিচালক (প্রশাসন) মোহাম্মদ ওমর ফারুক বলেন, পণ্য নিয়ে কোনো জাহাজ অকারণে বসে আছে কি না, তা নিয়মিত নজরদারিতে আনা হয়েছে। চার–পাঁচ দিন ধরে আউটার অ্যাঙ্করেজে বসে থাকা জাহাজগুলোর বিরুদ্ধে অভিযানের ফলে এ ধরনের প্রবণতা অনেকটাই কমেছে।

প্রতিবছর রমজান এলেই নানা কৌশলে পণ্যের দাম বাড়ানোর অভিযোগ ওঠে। এতে ভোগান্তিতে পড়েন সাধারণ ভোক্তারা। বাজার স্বাভাবিক রাখতে এখনই সরকারের কঠোর পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।

আরটিভি/এএএ