ঢাকা বুধবার, ১৪ অক্টোবর ২০২৬, ২৯ আশ্বিন ১৪৩৩

অব্যবস্থাপনা ও যান্ত্রিক অচলাবস্থায় বিপর্যস্ত রেলওয়ে

মোহাম্মদ সায়েম, আরটিভি নিউজ

প্রকাশ : ২৫ জানুয়ারি ২০২৬, ১০:৩১ এএম
গুগল এলএম নোটবুক ব্যবহার করে তৈরি গ্রাফিক্স। আরটিভি

দীর্ঘদিনের অব্যবস্থাপনা, জনবল সংকট ও যান্ত্রিক অচলাবস্থার কারণে গভীর সংকটে পড়েছে বাংলাদেশ রেলওয়ে। পরিত্যক্ত রেলের নাট–বল্টু ও পুরোনো যন্ত্রাংশ জোড়াতালি দিয়ে চালানো হচ্ছে ট্রেন। মেরামত থেকে শুরু করে পরিচালনার প্রতিটি ধাপে সমন্বয়হীনতার ফলে নিয়মিতই বিপর্যস্ত হচ্ছে ট্রেনের শিডিউল। এতে সবচেয়ে বেশি ভোগান্তি পোহাচ্ছেন ঢাকা–চট্টগ্রাম রুটের যাত্রীরা। নির্ধারিত সময়ে ট্রেন না পেয়ে ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করতে হচ্ছে তাদের।

রেল-সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা বলছেন, ব্যবস্থাপনাগত দুর্বলতা ও সমন্বয়ের অভাবে লোকসানের বোঝা আরও ভারী হচ্ছে সরকারের এই পরিবহন খাতে।

রাজধানীর কমলাপুর রেলওয়ে স্টেশনে যাত্রীদের অপেক্ষার চিত্রই তার প্রমাণ। চট্টলা এক্সপ্রেসের নির্ধারিত যাত্রা সময় বেলা আড়াইটা হলেও যাত্রীদের মোবাইলে পাঠানো ক্ষুদে বার্তায় জানানো হয়, ট্রেনটি সাড়ে চারটার আগে আসার সম্ভাবনা নেই।

একজন যাত্রী বলেন, সকাল সাড়ে দশটার ট্রেন। এখানে এসে জানানো হচ্ছে দুই ঘণ্টা দেরি হবে। আমার পরদিন পরীক্ষা, এখন আমি কোথায় যাব?

আরেক যাত্রী জানান, ট্রেন কখনো এক ঘণ্টা, কখনো দুই–তিন ঘণ্টা দেরিতে আসে। নির্দিষ্ট সময় বলে কিছু নেই।

আরও পড়ুন

ঢাকা–চট্টগ্রাম রুটে এমন ভোগান্তি নিয়মিত হলেও কমলাপুর স্টেশন ম্যানেজার সাজেদুল ইসলাম বিলম্বের জন্য ঘন কুয়াশা ও লোকোমোটিভ সংকটকে দায়ী করেন।

তিনি বলেন, পর্যাপ্ত লোকোমোটিভ না থাকায় অনেক সময় একই ইঞ্জিন দিয়ে একাধিক ট্রেন চালাতে হয়। রিফুয়েলিং ও মেইনটেন্যান্সের পর আবার ট্রেন চালু করতে গিয়ে বিলম্ব হয়। এর সঙ্গে আবহাওয়ার প্রভাবও থাকে।

শিডিউল বিপর্যয়ের ভেতরের খবর জানতে আরটিভি রেলওয়ের গ্যারেজে যায়। সেখানে যাত্রা শেষে ট্রেনের বগি পরিষ্কার ও মেরামতের কাজ করা হয়। কিন্তু জনবল সংকট প্রকট।

এক কর্মী বলেন, আগে আমাদের একজন ডিএম ছিল, এখন কাজির দায়িত্বে একজন, এম দুইজন। কিন্তু গাড়ি বেড়েছে, লোক বাড়েনি।

লোকবলের অভাবে কর্মীদের অতিরিক্ত সময় কাজ করতে হচ্ছে। গ্যারেজের স্টোরে প্রয়োজনীয় যন্ত্রাংশেরও ঘাটতি। ফলে পরিত্যক্ত ও মরিচা ধরা যন্ত্রাংশ সংগ্রহ করে কোনোভাবে ট্রেন চলাচলের উপযোগী করা হচ্ছে।

এক কর্মী জানান, স্টোরে নাট, স্প্রিং নেই। তাই পুরোনো ট্রলি থেকে খুলে এনে আপাতত একটি গাড়ি সচল করছি। নতুন যন্ত্রাংশ নেই, কোচও নেই।

আরও পড়ুন

গ্যারেজ ইনচার্জ মো. হাদিউজ্জামান এসব সংকটের কথা অকপটে স্বীকার করেন। তিনি বলেন, বাংলাদেশ রেলওয়ে সমন্বয়হীনতায় ভুগছে। ইঞ্জিনের সমস্যা সমাধানের পাশাপাশি মিটারগেজ লাইনের উন্নয়ন দরকার। ক্যারেজ সাইড ও ওপেন সেকশন-সব জায়গায় জনবল সংকট। গাড়ি, ইঞ্জিন ও লাইন বাড়ানো হচ্ছে, কিন্তু রক্ষণাবেক্ষণের জন্য লোক বাড়ানো হচ্ছে না। এতে টেকসই উন্নয়ন সম্ভব নয়।

অব্যবস্থাপনা, জনবল সংকট ও যান্ত্রিক অচলাবস্থার কারণে রেলওয়ে পূর্ব বিভাগে প্রতি মাসে বন্ধ থাকছে প্রায় ৬০০ ট্রেন। পর্যাপ্ত যাত্রী থাকা সত্ত্বেও এ কারণে প্রতিবছর লোকসান বাড়ছে। ২০২৪–২৫ অর্থবছরে বাংলাদেশ রেলওয়ে এক টাকা আয়ের বিপরীতে ব্যয় করেছে প্রায় দুই টাকা পয়সা।

আরটিভি/এএএ

আরটিভি অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
সৌদি আরবে বাংলাদেশিদের সতর্ক থাকতে বলেছে দূতাবাস
মধ্যপ্রাচ্যের বর্তমান পরিস্থিতিতে সৌদি আরবে অবস্থানরত বাংলাদেশি নাগরিকদের সতর্ক থাকার এবং স্থানীয় আইন মেনে চলার আহ্বান জানিয়েছে রিয়াদস্থ বাংলাদেশ দূতাবাস।
সৌদি আরবে বাংলাদেশিদের সতর্ক থাকতে বলেছে দূতাবাস
এমজিএইচ গ্রুপের চেয়ারম্যান এম গাজিউল হক মারা গেছেন
এমজিএইচ গ্রুপের চেয়ারম্যান এম গাজিউল হক মারা গেছেন। সোমবার (৫ অক্টোবর) দুপুর ১টা ১০ মিনিটে ঢাকার এভারকেয়ার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়। তার বয়স হয়েছিল ৯২ বছর।
এমজিএইচ গ্রুপের চেয়ারম্যান এম গাজিউল হক মারা গেছেন
মিষ্টি–গাজী নজরুলের আগে বিতর্কে জড়ানো এমপিদের শেষ পরিণতি যা হয়েছিল
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের যাত্রা শুরুর পরে এ পর্যন্ত দুইজন সংসদ সদস্য ভিন্ন কারণে বিতর্কে জড়ালেন।
মিষ্টি–গাজী নজরুলের আগে বিতর্কে জড়ানো এমপিদের শেষ পরিণতি যা হয়েছিল
খাদ্য অধিদপ্তরের সাবেক পরিচালকের ৫১ কোটি টাকার আমানত, বেরিয়ে আসল চাঞ্চল্যকর তথ্য
খাদ্য অধিদপ্তরের সাবেক পরিচালক সুকুমার রায়। ২০১৭ সালে চাকরি থেকে অবসর নেন সরকারের তৃতীয় গ্রেডের এই কর্মকর্তা। সরকারি হিসাব অনুসারে চাকরির শেষ সময়ে তার মাসিক বেতন-ভাতা মিলিয়ে ছিল প্রায় ৯০ হাজার টাকা। এই বেতনের চাকরি করে গড়েছেন সম্পদের এক মহা সাম্রাজ্য।  সম্প্রতি এক অনুসন্ধানে তার নামে ও পরিবারের সদস্যদের নামে বিপুল পরিমাণ ব্যাংক আমানত, সঞ্চয়পত্র, জমি ও ফ্ল্যাটের তথ্য পাওয়া গেছে। অনুসন্ধানে জানা গেছে, শুধু সোনালী ব্যাংকেই সুকুমার রায়ের নামে কমপক্ষে ৫১ কোটি টাকা আমানত রয়েছে। নিজের নামে রয়েছে ১ কোটি ২২ লাখ ৫১ হাজার টাকার সঞ্চয়পত্র। এছাড়া ফরিদপুরের বোয়ালমারী উপজেলার রামদিয়া মৌজায় তার নামে ২২০ শতাংশ ও ৩০ শতাংশ—দুটি জমির তথ্য পাওয়া গেছে। ঢাকার পল্টন এলাকায় একটি ফ্ল্যাট এবং ফরিদপুর সদর এলাকায় আরও একটি ফ্ল্যাট রয়েছে। সুকুমার রায় খাদ্য অধিদপ্তরের পরিচালক পদ থেকে ২০১৭ সালে অবসরে যান। অর্থ মন্ত্রণালয়ের সূত্রের বরাত দিয়ে জানা গেছে, অবসরের পর তিনি এককালীন প্রায় ৮০ লাখ টাকা পেনশন পেয়েছেন। চাকরিজীবনে তার মোট বেতন-ভাতা ছিল প্রায় ১ কোটি টাকা।  অর্থাৎ চাকরিকালীন আয় ও পেনশন মিলিয়ে একজন তৃতীয় গ্রেডের কর্মকর্তার সর্বোচ্চ ২ কোটি টাকা আয় করতে পারেন। কিন্তু তার ব্যাংক হিসাবে কমপক্ষে ৫১ কোটি টাকা আমানত রেখেছেন বলে জানা গেছে এত টাকা ও জমি তিনি কোন প্রদীপের আলো আয় করেছেন তার কোনো সঠিক ব্যাখ্যা নেই। সুকুমার রায়ের আয়কর নথিতেও কোনো তথ্য নেই এসব সম্পদের। এসব অভিযোগের বিষয়ে দেশের বেসরকারি এক গণমাধ্যমকে সুকুমার জানিয়েছেন, ‘আমার ৫০০ কোটি টাকার সম্পদ আছে। তাতে আপনাদের কী? আপনি খুঁজে দেখেন আমার আরো অনেক সম্পদ রয়েছে।’ এরপর তিনি ফোন কেটে দেন। এদিকে সুকুমার রায়ের স্ত্রী বনশ্রী বোস নিজেকে একজন গৃহিণী হিসেবে নিজেকে দাবি করলেও তার নামে থাকা সোনালী ব্যাংকের অ্যাকাউন্টে রয়েছে ২৫ কোটি ৫০ লাখ টাকার আমানত। এছাড়া আইএফআইসি ব্যাংকেও রয়েছে তার হিসাব যার নাম্বার ০১৯০৩১৫২৭৩-৮১১। এই হিসাবটি খুলতে তিনি নিজেকে পরিচয় দিয়েছেন চাকুরিজীবী হিসেবে। কিন্তু কোথায় চাকরি করেন সে সম্পর্কে কোনো তথ্য দিতে পারেননি। জানা গেছে, বনশ্রী বোসের নামে রয়েছে ৫৫ লাখ টাকার সঞ্চয়পত্র। এরমধ্যে ৩ মাস অন্তর মুনাফাভিত্তিক সঞ্চয়পত্র আমানত রয়েছে ৫ লাখ টাকার। এছাড়া পরিবার সঞ্চয়পত্র হিসেবে রয়েছে ৩০ লাখ টাকা। ডাকঘর সঞ্চয় ব্যাংক আমানত হিসেবে আরো রয়েছে ১০ লাখ টাকা। বনশ্রী বোসের নামে রয়েছে ফরিদপুর সদরের শ্রীঅংগন দক্ষিণ পল্লী এলাকায় বাড়ি। এ ছাড়াও বনশ্রী বোসের সোনালী ব্যাংকের ৪টি অ্যাকাউন্টের তথ্য থেকে জানা গেছে, হিসাব নাম্বার ২০১১০৫০৫০০০৭৪০ এর বিপরীতে ২ কোটি টাকা ফিক্সড ডিপোজিট (এফডিআর) হিসেবে রয়েছে। ২০১১০৫০৫০০০৮১৩ হিসাব নাম্বারের বিপরীতে রয়েছে আরো ২ কোটি ৫০ লাখ টাকার এফডিআর। ২০১১০৫০৫০০০১৯১ হিসাব নাম্বারের বিপরীতে রয়েছে ১১ কোটি টাকা এবং ২০১১০৫০৫০০০২১৭ হিসাবে আছে আরো ১০ কোটি টাকার এফডিআর। এসব এফডিআর করার সময়ে দেখানো হয়েছে বাবার বাড়ি থেকে প্রাপ্ত সম্পদ এবং জমি বিক্রয়ের টাকা। কিন্তু বনশ্রী বোসের ট্যাক্স ফাইলে নেই এসব সম্পদের কোনো বিবরণ। সুকুমারের স্ত্রী ছাড়াও তার সুকুমার রায়ের বড় ছেলে সৌমেন রায়ের অ্যাকাউন্টেও অস্বাভাবিক লেনদেনের তথ্য বেরিয়ে এসেছে। জানা গেছে, সৌমেন রায়ের অ্যাকাউন্টে ৪০ লাখ টাকার লেনদেন হয়েছে তার মা বনশ্রী বোসের আইএফআইসি ব্যাংকের অ্যাকাউন্ট থেকে। ফলে খাদ্য অধিদপ্তরের সাবেক এই পরিচালকে বিপুল সম্পদের তথ্য নিয়ে ব্যাপক আলোচনা সৃষ্টি হয়েছে। গণমাধ্যমের খবর প্রকাশের বিষয়টি নিয়ে তদন্ত করার কথা জানিয়েছেন দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) মহাপরিচালক খোন্দকার ফরহাদ আহমেদ। আরটিভি/এসআর
খাদ্য অধিদপ্তরের সাবেক পরিচালকের ৫১ কোটি টাকার আমানত, বেরিয়ে আসল চাঞ্চল্যকর তথ্য
বাংলাদেশকে আকাশসীমা ব্যবহারের অনুমতি না দেওয়ার কারণ জানাল পাকিস্তান
রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের জ্বালানি বহনকারী রুশ বিমানের জন্য পাকিস্তানের আকাশসীমা ব্যবহারের অনুমতি না দেওয়ার কারণ ব্যাখ্যা করেছে ঢাকাভিত্তিক পাকিস্তান হাইকমিশন।
বাংলাদেশকে আকাশসীমা ব্যবহারের অনুমতি না দেওয়ার কারণ জানাল পাকিস্তান
আরও পড়ুন
দুই সপ্তাহেও কাটেনি চুয়েটের অচলাবস্থা, শিক্ষক দিবসেও শ্রেণিকক্ষে ফিরতে পারেননি শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা
খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ে অচলাবস্থা, দ্রুত সমাধান চান শিক্ষার্থীরা
চাঁদ দেখার পর যে দুই দিনের ট্রেনের টিকিট বিক্রি করবে রেলওয়ে
দেশের সর্ববৃহৎ রেলওয়ে কারখানা পরিদর্শন করলেন রেলওয়ের মহাপরিচালক