images

দেশজুড়ে

নদীর তীর দখল করে বহুতল ভবন নির্মাণ

শনিবার, ২১ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ , ০৯:০০ পিএম

ময়মনসিংহ শহরের প্রাণকেন্দ্র কালিবাড়ি রোড এলাকায় সরকারি খাস জমি ও ব্রহ্মপুত্র নদীর তীরবর্তী জায়গা দখল করে বহুতল ভবন নির্মাণের অভিযোগ উঠেছে এক সরকারি কর্মকর্তার বিরুদ্ধে। 

অভিযুক্ত আহাদ মো. সাইদ হায়দার বর্তমানে বাংলাদেশ বেতার-এর বান্দরবান কেন্দ্রের সহকারী পরিচালক হিসেবে কর্মরত। তিনি সাবেক বস্ত্র ও পাটমন্ত্রী গোলাম দস্তগীর গাজী-এর সাবেক একান্ত সচিব (এপিএস) ছিলেন।

অনুসন্ধানে জানা যায়, ময়মনসিংহ টাউন মৌজার ১নং খাস খতিয়ানভুক্ত ৪৫৬ অযুতাংশ জমি (বিআরএস দাগ নং ৯৯৮৭) আত্মসাতের লক্ষ্যে পরিকল্পিতভাবে জাল দলিল তৈরি করা হয়। অভিযোগ রয়েছে, ১৯৯২ সালের ৮ মার্চ জবেদ আলী সরকার নামে এক ব্যক্তিকে ভুয়া মালিক সাজিয়ে ২.৫০ শতাংশ জমির একটি দলিল (নং ৩৭৬৫) তৈরি করা হয়। পরবর্তীতে অসাধু ভূমি কর্মকর্তাদের যোগসাজশে ৫২৩৩ নং বিআরএস খতিয়ান খোলা হয় এবং ২.৫০ শতাংশ জমিকে রেকর্ডে ৪.৫৬ শতাংশ দেখানো হয়।

আরও পড়ুন
Valuka021

ভালুকায় তিন দিনব্যাপী বইমেলার উদ্বোধন

কোনো ধরনের সিটি কর্পোরেশনের অনুমোদন বা নকশা ছাড়াই ওই বিতর্কিত জমিতে ছয়তলা ফাউন্ডেশন দিয়ে ভবন নির্মাণের কাজ চলছে। বর্তমানে প্রথম তলার কাজ প্রায় শেষ। স্থানীয় প্রকৌশলীরা বিষয়টিকে ‘স্পর্ধিত’ বলে মন্তব্য করেছেন।

অভিযোগ রয়েছে, ভবনের পেছনে চর ঈশ্বরদিয়া মৌজার ১নং খাস খতিয়ানভুক্ত এসএ ১৩৮১ ও বিআরএস ৩৩১০ নং দাগের প্রায় ১৫ শতাংশ ‘নদী’ শ্রেণিভুক্ত জমিও দখল করা হয়েছে। জাতীয় নদী রক্ষা কমিশন প্রকাশিত অবৈধ দখলদারদের তালিকায় ৫৩ নম্বরে অভিযুক্ত কর্মকর্তার মায়ের নাম রয়েছে বলে জানা গেছে। ২০১৯ সালের ১৯ সেপ্টেম্বর তৎকালীন জেলা প্রশাসকের স্বাক্ষরিত প্রতিবেদনে নদী দখলের সত্যতা নিশ্চিত করা হয়।

তালিকা প্রকাশের পরও সেখানে একতলা দুটি পাকা ভবন নির্মাণ করে ভোগদখল অব্যাহত রয়েছে বলে স্থানীয়দের অভিযোগ।

সরেজমিনে দেখা গেছে, আশপাশে বসবাসরত ভূমিহীন পরিবারগুলোর মধ্যে আতঙ্ক বিরাজ করছে। ৮০ বছর বয়সী ছফর উদ্দিন বলেন, আমরা বাপ-দাদার আমল থাইকা জানি এইডা সরকারি খাস জমি। আমরা কুঁড়েঘরে থাকি, আর তারা জাল কাগজ বানাইয়া অট্টালিকা তোলে। প্রতিবাদ করলে উচ্ছেদের হুমকি দেয়। 

রাজমিস্ত্রী জামাল মিয়া বলেন, সরকার ভূমিহীনদের জন্য জায়গা দেয়, আর বড় অফিসাররা সেই জমিতেই প্রাসাদ বানায়। 

অভিযোগ উঠেছে, পরিবারটি স্বচ্ছল হওয়া সত্ত্বেও নিজেদের ‘অস্বচ্ছল ও ভূমিহীন’ দেখিয়ে মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের ‘বীর নিবাস’ প্রকল্পের ঘর বরাদ্দ নিয়েছেন। ২০২৩ সালের ৭ জুন সেখানে বীর নিবাস নির্মাণের জন্য টেন্ডার আহ্বান করা হয়। তবে প্রকল্পের অনুমোদিত স্থানে ব্যক্তিগত ভবন নির্মাণের বিধিনিষেধ থাকলেও সেই নিয়ম মানা হয়নি বলে অভিযোগ রয়েছে। 

গত ২৬ জানুয়ারি ২০২৬ স্থানীয় অভিযোগের ভিত্তিতে ভূমি সহকারী কর্মকর্তা সরেজমিন তদন্ত করে জমিটি সরকারি খাস সম্পত্তি হিসেবে চিহ্নিত করে নির্মাণ কাজ বন্ধের মৌখিক নির্দেশ দেন। কিন্তু কাজ চলমান রয়েছে। উল্টো জেলা প্রশাসক, এসি ল্যান্ড ও ইউএনও-কে বিবাদী করে সদর সিনিয়র সিভিল জজ আদালতে (মামলা নং ১০৪/২০২৬) স্থায়ী নিষেধাজ্ঞার মামলা দায়ের করা হয়েছে।

সচেতন নাগরিক শ্রী অপূর্ব কুমার মজুমদার জেলা প্রশাসকের কাছে লিখিত অভিযোগ দিয়ে জাল দলিল বাতিল, অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ এবং বীর নিবাসের বরাদ্দ বাতিল করে প্রকৃত গৃহহীন মুক্তিযোদ্ধা পরিবারের কাছে হস্তান্তরের দাবি জানিয়েছেন।

অভিযুক্ত সাইদ হায়দার বলেন, সরকার আমাদের বীর নিবাস দিয়েছে। এর সামনে ভবন নির্মাণ করছি। অনুমোদন আছে কি না জানি না। নদীর জায়গা নিরাপত্তার স্বার্থে আমাদের দখলে আছে। তিনি স্বীকার করেন, জমিটি তার মায়ের নামে রেকর্ড হওয়ার পাশাপাশি সরকারি খাস খতিয়ানেও অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।

সদরের সহকারী কমিশনার (ভূমি) তামান্না হুরায়রা জানান, বীর নিবাসের জন্য মন্ত্রণালয়ের অনুমোদন রয়েছে। তবে সামনে যে ভবন নির্মাণ করা হচ্ছে, তার কোনো অনুমোদন নেই এবং সেটি অপসারণ করতে হবে। নদীর জায়গা দখলের বিষয়ে জেলা প্রশাসকের কার্যালয় থেকে নদী কমিশনে প্রতিবেদন পাঠানো হয়েছে।

আরটিভি/এমআই