images

দেশজুড়ে

ঘরের সিলিংয়ে ঝুলছিল বিশাল অজগর, অতঃপর...

বৃহস্পতিবার, ২৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ , ০৩:২১ পিএম

মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গল উপজেলার উঁচাপুল এলাকার মজিদ মঞ্জিল নামে একটি বাড়ির কক্ষের সিলিং থেকে একটি বিশাল আকৃতির অজগর সাপ উদ্ধার করে বন বিভাগের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (২৬ ফেব্রুয়ারি) সাপটি দেখতে পেয়ে ঘরের লোকজন আতঙ্কিত হয়ে দ্রুত বাইরে বেরিয়ে যান। তাদের চিৎকারে আশপাশের এলাকাবাসী জড়ো হন এবং প্রথমে সাপটিকে মারার প্রস্তুতি নেন। তবে উপস্থিত এক সচেতন ব্যক্তি মুঠোফোনে শ্রীমঙ্গলস্থ বাংলাদেশ বন্যপ্রাণী সেবা ফাউন্ডেশন খবর দেন।

খবর পেয়ে ফাউন্ডেশনের পরিচালক স্বপন দেব সজল ঘটনাস্থলে পৌঁছে প্রায় একঘণ্টার চেষ্টায় অজগর সাপটিকে অক্ষত অবস্থায় উদ্ধার করেন। পরে উদ্ধারকৃত অজগর সাপটি প্রয়োজনীয় ব্যবস্থার জন্য বন বিভাগের কাছে হস্তান্তর করা হয়।

আরও পড়ুন
Web-Image08

সূর্যমুখীর সোনা রঙে রঙিন খুলনার নোনা মাটি  

এ প্রসঙ্গে বাংলাদেশ অধিদপ্তরের বন্যপ্রাণী ও জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ কর্মকর্তা এবং তরুণ বন্যপ্রাণী গবেষক জোহরা মিলা জানান, অজগর নির্বিষ সাপ। এটি নিশাচর ও খুবই অলস প্রকৃতির, প্রয়োজন ছাড়া নড়াচড়াও করে না। এই প্রজাতিটি গাছে একাকী বাস করলেও শুধু প্রজননকালে জোড়া বাঁধে। সাধারণত মার্চ থেকে জুনের মধ্যে এদের প্রজননকাল। দেশের ম্যানগ্রোভ বন, ঘাসযুক্ত জমি, চট্টগ্রাম ও সিলেটের চিরসবুজ পাহাড়ি বনে এদের দেখা পাওয়া যায়। সাপটি সাধারণত মানুষের ক্ষতি করে না। খাদ্য হিসেবে এরা ইঁদুর, কচ্ছপের ডিম, সাপ, বন মুরগি, পাখি, ছোট বন্যপ্রাণী ইত্যাদি খায়। সাপটি নিজের আকারের চেয়েও অনেক বড় প্রাণী খুব সহজেই গিলে খেতে পারে।

জোহরা মিলা বলেন, চামড়ার জন্য সাপটি পাচারকারীদের লক্ষবস্তুতে পরিণত হয়েছে। ফলে আমাদের বনাঞ্চল থেকে এটি দিন দিন হারিয়ে যাচ্ছে। বন্যপ্রাণী (সংরক্ষণ ও নিরাপত্তা) আইন-২০১২ এর তফসিল-২ অনুযায়ী এ বন্যপ্রাণীটি সংরক্ষিত, তাই এটি হত্যা বা এর যে কোনো ক্ষতি করা শাস্তিযোগ্য অপরাধ।

ভবিষ্যতে কোনো বন্যপ্রাণী দেখলে আতঙ্কিত হয়ে হত্যা না করে বন বিভাগ বা বাংলাদেশ বন্যপ্রাণী সেবা ফাউন্ডেশনকে খবর দেওয়ার জন্য ফাউন্ডেশনের পক্ষ থেকে এলাকাবাসীর উদ্দেশ্যে অনুরোধ জানানো হয়েছে।

আরটিভি/এমএইচজে