ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০৫ নভেম্বর ২০২৬, ২১ কার্তিক ১৪৩৩

সূর্যমুখীর সোনা রঙে রঙিন খুলনার নোনা মাটি  

বাসস

প্রকাশ : ২৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ১০:৫২ এএম
খুলনার নোনা মাটিতে চাষ হচ্ছে সূর্যমুখী। ছবি: সংগৃহীত

খুলনা অঞ্চলের লবণাক্ত পতিত জমির বিস্তীর্ণ অংশ এখন সূর্যমুখী ফুলের রঙে সোনালি হয়ে উঠেছে। উপকূলীয় অঞ্চল এবং নিম্নাঞ্চলে সফল চাষের পর, সূর্যমুখী চাষ জেলার ভোজ্য তেলের চাহিদা মেটাতে নতুন সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচিত করেছে।

কম উৎপাদন খরচ, স্বল্প চাষের সময় এবং সরকারি প্রণোদনা কৃষকদের কৃষি জমির পরিমাণ বাড়াতে উৎসাহিত করেছে। ফলে কৃষকরা নতুন সম্ভাবনার আশা দেখছেন।

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের (ডিএই) তথ্য অনুসারে, খুলনা অঞ্চলের খুলনা, বাগেরহাট, নড়াইল এবং সাতক্ষীরা জেলায় চলতি মৌসুমে ১ হাজার ২১৯ হেক্টর জমিতে সূর্যমুখী চাষ করা হয়েছে। যা গত বছরের ১ হাজার ১০৮ হেক্টর থেকে ১১১ হেক্টর বেশি। চলতি (২০২৫-২৬) মৌসুমে ১ হাজার ৩১৯ হেক্টর জমিতে ২ হাজার ৯৪৫ মেট্রিক টন সূর্যমুখী উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে।

গত ২৩ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত এই অঞ্চলে ৯২ শতাংশ সূর্যমুখী চাষ সম্পন্ন হয়েছে। এর মধ্যে খুলনা জেলায় ৫৫০ হেক্টর জমির লক্ষ্যমাত্রার বিপরীতে ১৯৭ হেক্টর অর্থাৎ ৩৬ শতাংশ জমিতে চাষাবাদ সম্পন্ন হয়েছে। বাগেরহাটে ৫৩৮ হেক্টর জমির বিপরীতে ৬০৩ হেক্টর অর্থাৎ ১১২ শতাংশ জমিতে চাষাবাদ সম্পন্ন হয়েছে। সাতক্ষীরায় ১১৪ হেক্টর জমির বিপরীতে ২২৮ হেক্টর অর্থাৎ ২০০শতাংশ জমিতে চাষাবাদ সম্পন্ন হয়েছে এবং নড়াইলে ১১৭ হেক্টর জমির বিপরীতে ১৯১ হেক্টর অর্থাৎ ১৬৩ শতাংশ জমিতে চাষাবাদ সম্পন্ন হয়েছে।

কর্মকর্তারা আশা করছেন, সূর্যমুখী ফলে খুলনা অঞ্চলে প্রায় ১১ লাখ ৮০ হাজার (প্রতি মেট্রিক টন ৪০০ লিটার) লিটার ভোজ্যতেল উৎপাদন করা সম্ভব হবে। যা প্রায় ৩ কোটি মানুষের চাহিদা মেটাতে সাহায্য করবে এবং আমদানি নির্ভরতা হ্রাস করে বৈদেশিক মুদ্রা সাশ্রয় করতে ভূমিকা রাখবে।

সরেজমিনে জেলার ডুমুরিয়ায় মডেল মসজিদ সংলগ্ন ক্ষেত পরিদর্শনে দেখা যায়, হলুদ কার্পেটের মতো বিশাল এক বিস্তৃত সূর্যমুখী ফুলের বাগান। যেখানে বাতাসে মৃদুভাবে দোল খাচ্ছে সূর্যমুখী ফুল।

কৃষক আব্দুল হক বলেন, সূর্যমুখী চাষের মূল লক্ষ্য হলো তেল উৎপাদন। আমরা প্রতি বিঘায় সাত থেকে দশ মণ বীজ পাই। প্রতি কেজি বীজ থেকে কমপক্ষে আধা লিটার তেল বের করা যায়। অর্থাৎ প্রতি বিঘায় প্রায় ১৪০ থেকে ২০০ লিটার তেল উৎপাদন করা যায়।

তিনি বলেন, বর্তমানে সূর্যমুখী তেল প্রতি লিটারে সর্বনিম্ন ২৫০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। যেখানে প্রতি বিঘায় চাষের খরচ ৩ হাজার ৫০০ টাকা। তেল ছাড়াও বীজের খোসা পুষ্টিকর গবাদি পশুর খাদ্য হিসেবেও ব্যবহৃত হয়।

ডুমুরিয়ার খর্ণিয়া ইউনিয়নের বাসিন্দা শাহাদাত হোসেন বলেন, লবণাক্ত জমিতে অনেক ফসল ভালো ফলন না দিলেও সূর্যমুখী তুলনামূলকভাবে ভালো ফলন দেয়। ফসলে কম সেচ এবং তেমন যত্নের প্রয়োজন হয় না। যার কারণে সূর্যমুখী চাষে আরও বেশি কৃষক আগ্রহী হয়ে উঠছে।

আরও পড়ুন

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ মো. নাজমুল হুদা সূর্যমুখীকে একটি প্রতিশ্রুতিশীল তৈলবীজ হিসেবে বর্ণনা করে বলেন, উৎপাদন বৃদ্ধির জন্য কৃষকদের প্রশিক্ষণ, উন্নতমানের বীজ এবং সার সরবরাহ করা হচ্ছে। তিনি ডুমুরিয়ার কৃষকদের সূর্যমুখী চাষ আরও সম্প্রসারণের জন্য সরকারি ক্রয় এবং শক্তিশালী বাজার ব্যবস্থাপনার প্রয়োজনীয়তার ওপর জোর দেন।

তিনি বলেন, দেশের ভোজ্যতেলের একটি বিরাট অংশ আমদানি-নির্ভর। এ অবস্থায় সূর্যমুখীর উৎপাদন বৃদ্ধি আমদানি চাপ কমাতে সাহায্য করতে পারে।

খুলনা অঞ্চলের ডিএই-এর অতিরিক্ত পরিচালক মো. রফিকুল ইসলাম বলেন, এই মৌসুমে ১০ হাজার ৬৫০ জন কৃষককে প্রণোদনা সহায়তার আওতায় আনা হয়েছে। চাষাবাদকে উৎসাহিত করার জন্য ২ লাখ ১৩ হাজার কেজি সার এবং ১০ হাজার ৬৫০ কেজি বীজ বিতরণ করা হয়েছে। জনপ্রতি কৃষকরা ২ বিঘা জমির জন্য ১০ কেজি ডায়ামোনিয়াম ফসফেট (ডিএপি) সার, ১০ কেজি মিউরেট অফ পটাশ (এমওপি) এবং ১ কেজি বীজ পেয়েছেন। এছাড়াও এই অঞ্চলের চার জেলায় কৃষক এবং ডিএই-এর সহযোগিতায় চাষাবাদ করা প্যাটনের প্রকল্পের আওতায় মোট ২৪০ জন কৃষক ৮০ একর জমিতে ৪০টি সূর্যমুখী ক্ষেত প্রদর্শন করছেন। ২৪০ জন কৃষক সরকারের কাছ থেকে বারি-৩ সূর্যমুখী বীজ, ডিএপি এবং এমওপি সার এবং কীটনাশক পেয়েছেন। এখন খুলনা অঞ্চলের চারটি জেলার ক্ষেত কৃষ্ণচুড়ার সোনালি আভায় হলুদ রঙে জ্বলজ্বল করছে।

তিনি বলেন, সূর্যমুখী কেবল একটি ফুল নয় বরং এই অঞ্চলের অর্থনৈতিক প্রতিশ্রুতিরও প্রতীক হয়ে উঠেছে।

আরটিভি/আইএম

আরটিভি অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
দুর্বৃত্তের ছুরিকাঘাতে আহত জামায়াত নেতা আখতারুজ্জামানের ছেলে
কিশোরগঞ্জের কটিয়াদীতে দুর্বৃত্তদের ছুরিকাঘাতে আহত হয়েছেন সাবেক সংসদ সদস্য ও জামায়াত নেতা মেজর (অব.) মোহাম্মদ আখতারুজ্জামান রঞ্জনের বড় ছেলে শাহরিয়ার জামান (৪০)।  (৪ নভেম্বর) রাত ৮টার দিকে উপজেলার গচিহাটা বাজারে এ ঘটনা ঘটে। জানা গেছে, রাত ৮টার দিকে দুর্বৃত্তরা শাহরিয়ার জামানকে ছুরিকাঘাত করে। পরে স্থানীয়রা আহত শাহরিয়ার জামানকে উদ্ধার করে কটিয়াদী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। সেখানে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়ার পর উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে বাজিতপুরের জহুরুল ইসলাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে। বিষয়টি নিশ্চিত করে মেজর (অব.) মোহাম্মদ আখতারুজ্জামান রঞ্জন জানান, বুধবার সন্ধ্যায় গচিহাটা বাজারে গিয়েছিল শাহরিয়ার জামান। এ সময় দুর্বৃত্তরা অতর্কিতভাবে তাকে ছুরিকাঘাত করে। তিনি (মেজর আক্তারুজ্জামান) বর্তমানে ঢাকায় আছেন। কটিয়াদী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ রফিকুল ইসলাম বলেন, খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছে। আমি নিজেও বর্তমানে ঘটনাস্থলে রয়েছি। কারা এ ঘটনায় জড়িত, তা প্রাথমিকভাবে জানা যায়নি। পুলিশ গুরুত্বের সঙ্গে বিষয়টি তদন্ত করছে।   আরটিভি/টিআর
দুর্বৃত্তের ছুরিকাঘাতে আহত জামায়াত নেতা আখতারুজ্জামানের ছেলে
মোটরসাইকেলে হরিণের মাংসের চালান, পল্লী বিদ্যুতের কর্মীসহ গ্রেপ্তার ২
পিরোজপুরের মঠবাড়িয়ায় মোটরসাইকেলে করে হরিণের মাংস বহনের সময় আনুমানিক ২০ কেজি মাংসসহ দুজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।  বুধবার (৪ নভেম্বর) সন্ধ্যা ৭টার দিকে পৌরসভার বহেরাতলা এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়। গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলেন বরগুনার পাথরঘাটা উপজেলার কাঁঠালতলী গ্রামের আব্দুল মালেকের ছেলে সোহাগ হোসেন (৪০) এবং বাগেরহাটের ফকিরহাট উপজেলার মাছকাটা গ্রামের মো. শাহজাহানের ছেলে মিরাজুল ইসলাম (৩৮)। মিরাজুল ইসলাম পল্লী বিদ্যুতে চাকরি করেন বলে জানা গেছে। থানা-পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে মঠবাড়িয়া থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মো. হৃদয় চাকলাদার সঙ্গীয় ফোর্স নিয়ে বহেরাতলা এলাকায় অভিযান চালান। এ সময় মোটরসাইকেলে করে যাওয়ার পথে সন্দেহভাজন ওই দুজনকে আটক করা হয়। পরে তাদের সঙ্গে থাকা ব্যাগে তল্লাশি চালিয়ে আনুমানিক ২০ কেজি হরিণের মাংস উদ্ধার করা হয়। পরে উপস্থিত সাক্ষীদের সামনে উদ্ধার করা মাংস জব্দ করে দুজনকে গ্রেপ্তার করে থানায় নিয়ে যায় পুলিশ। মঠবাড়িয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রবিউল ইসলাম ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, মোটরসাইকেলে করে হরিণের মাংস পরিবহনের সময় দুজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এ ঘটনায় তাদের বিরুদ্ধে থানায় মামলা দায়েরের প্রক্রিয়া চলছে। আরটিভি/টিআর
মোটরসাইকেলে হরিণের মাংসের চালান, পল্লী বিদ্যুতের কর্মীসহ গ্রেপ্তার ২
দুর্গাপুরে ডেপুটি স্পিকারের উদ্যোগে স্থাপিত হচ্ছে পুলিশ তদন্তকেন্দ্র
নেত্রকোনার দুর্গাপুরের পর্যটনকেন্দ্র চিনামাটির পাহাড়ে স্থাপিত হতে যাচ্ছে পুলিশ তদন্তকেন্দ্র। পর্যটকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত ও পর্যটন এলাকার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে নেওয়া হয়েছে এ উদ্যোগ।
দুর্গাপুরে ডেপুটি স্পিকারের উদ্যোগে স্থাপিত হচ্ছে পুলিশ তদন্তকেন্দ্র
সংযোগ বিচ্ছিন্ন করায় পল্লী বিদ্যুতের দুই কর্মীকে বেধড়ক পিটুনি
পটুয়াখালীর বাউফলে বকেয়া বিদ্যুৎ বিলের কারণে সংযোগ বিচ্ছিন্ন করতে গিয়ে গ্রাহক ও তার পরিবারের সদস্যদের হামলার শিকার হয়েছেন পল্লী বিদ্যুতের দুই কর্মী।
সংযোগ বিচ্ছিন্ন করায় পল্লী বিদ্যুতের দুই কর্মীকে বেধড়ক পিটুনি
গাজীপুরে সিলিন্ডার রি-টেস্টিং সেন্টারে আগুন
গাজীপুর মহানগরীর নাওজোড় এলাকায় ইউনাইটেড সিলিন্ডার রি-টেস্টিং সেন্টারে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। বুধবার (৪ নভেম্বর) রাত ৮টা ৪০ মিনিটের দিকে এ ঘটনা ঘটে।
গাজীপুরে সিলিন্ডার রি-টেস্টিং সেন্টারে আগুন
আরও পড়ুন
মাদকসহ আটক খুবির তিন শিক্ষার্থীর বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা
মুড়ির প্যাকেট খুলতেই বিস্ফোরণ, জামায়াত নেতা আহত
খুলনায় নদীর পাড়ে একসঙ্গে মিলল গুলিবিদ্ধ দুই মরদেহ, যা বলছে পুলিশ
নিজ ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে তাঁতী দল নেতাকে কুপিয়ে হত্যা