images

দেশজুড়ে

৩২৫ বছরের প্রাচীন চাপালিশকে স্মারক বৃক্ষ ঘোষণা

শুক্রবার, ০৬ মার্চ ২০২৬ , ০৬:০৭ পিএম

বহু কালের সাক্ষী হয়ে থাকা রাঙামাটি শহরের ডিসি বাংলোর সামনে অবস্থিত প্রায় তিনশত বছরের প্রাচীন চাপালিশ গাছটিকে জাতীয় ঐতিহ্য হিসেবে স্মারক বৃক্ষ ঘোষণা করে প্রজ্ঞাপন জারি করেছে সরকার। জেলাপ্রশাসক নাজমা আশরাফীর আবেদনের প্রেক্ষিতে পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয় এ প্রজ্ঞাপন জারি করে। 

জেলা প্রশাসন সূত্রে জানা যায়, ডিসি বাংলোর সামনের ৩২৫ বছরের প্রাচীন চাপালিশ গাছটিকে জাতীয় ঐতিহ্য হিসেবে স্বারক বৃক্ষ ঘোষণার জন্য ২০২৫ সালের ৭ ডিসেম্বর প্রধান বন সংরক্ষক বরাবর আবেদন করেন জেলাপ্রশাসক নাজমা আশরাফী। 

আবেদনে উল্লেখ করা হয়, গাছটির স্থানীয় নাম ‘চাপালিশ’ (Artocarpus chama)। বৃক্ষটি Moraceae পরিবারের অন্তর্গত। গাছটির বয়স আনুমানিক ৩২৫ (তিনশত পঁচিশ) বছর যা অত্র রাঙামাটি পার্বত্য এলাকায় অবস্থিত অন্যতম সুপ্রাচীন বৃক্ষ। উক্ত বৃক্ষটির বুক সমান উচ্চতায় বেড় ২২ ফুট ২ ইঞ্চি এবং আনুমানিক উচ্চতা ৮০ ফুট। বন্যপ্রাণী (সংরক্ষণ ও নিরাপত্তা) আইন, ২০১২ অনুযায়ী উক্ত বৃক্ষটি বন ও পরিবেশের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

আরও পড়ুন
adv

স্ত্রীকে হত্যা করে মরদেহে আগুন, আটক আইনজীবী

পরে জেলাপ্রশাসকের আবেদনের প্রেক্ষিতে পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয় গত ১৬ ফেব্রুয়ারি প্রজ্ঞাপন জারি করে। যেখানে উল্লেখ করা হয়, বন্যপ্রাণী (সংরক্ষণ ও নিরাপত্তা) অধ্যাদেশ, ২০২৬ এর ১৬ (১) ধারায় প্রদত্ত ক্ষমতাবলে রাঙামাটি পার্বত্য জেলার কোতয়ালী থানাধীন নিম্নোক্ত তফসিলে বর্ণিত চাপালিশ গাছকে সরকারি গেজেটে প্রকাশের তারিখ হতে 'স্মারক বৃক্ষ' হিসেবে ঘোষণা করা হলো।  প্রজ্ঞাপনটি ২০ ফেব্রুয়ারি গেজেট আকারে প্রকাশ করা হয়। 

প্রাচীন এই চাপালিশ গাছটিকে স্মারক বৃক্ষ ঘোষণায় এটি জাতীয় ঐতিহ্য হিসেবে পরিচিত লাভ করবে। বিষয়টিকে খুবই ইতিবাচক ও প্রশংসনীয় কাজ হিসেবে দেখছেন পরিবেশবাদী সংগঠনের নেতৃবৃন্দ। 
পরিবেশবাদী সংগঠন গ্লোবাল ভিলেজের নির্বাহী পরিচালক ফজলে এলাহী বলেন, এটি একটি অনন্য স্বীকৃতি। এই জনপদের প্রকৃতি ও ইতিহাসের সাক্ষী এই চাপালিশ গাছটির 'স্মারক বৃক্ষ' হিসেবে সরকারি স্বীকৃতি নিঃসন্দেহে চমৎকার একটি কাজ। 

অতিরিক্ত জেলাপ্রশাসক (সার্বিক) মোহাম্মদ রুহুল আমীন বলেন, ডিসি স্যার একসময় পরিবেশ মন্ত্রণালয়ের কাজ করেছেন। তিনি রাঙামাটি যোগদান করেই বিষয়টি নিয়ে মন্ত্রণালয়ে লিখেছেন।  

আরটিভি/এমআই