images

দেশজুড়ে

কম্পিউটার দোকানের অভিজ্ঞতা দিয়ে জাল টাকা তৈরি, অতঃপর...

শুক্রবার, ১৩ মার্চ ২০২৬ , ০৭:২৪ পিএম

কম্পিউটার দোকানে গ্রাফিক্স ডিজাইন শেখার পর নিজেই জাল নোট তৈরি করা শুরু করেন এক যুবক। পরে সেই জাল নোট দিয়ে বাজারে কেনাকাটা করতে গেলে এক দোকানি এ জাল টাকা শনাক্ত করে ফেলেন। এরপর তাকে আটক করে পুলিশে দেন স্থানীয় বাসিন্দারা।

বৃহস্পতিবার (১২ মার্চ) রাতে ফেনীর সদর উপজেলার কাজিরবাগ ইউনিয়নের রানিরহাট এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। পরে শুক্রবার (১৩ মার্চ) দুপুরে এক সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান ফেনী সদর সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার নিশাত তাবাসসুম।

আরও পড়ুন
BholaSeptic0013

ভোলায় সেপটিক ট্যাংকে মিলল নিখোঁজ যুবকের মরদেহ

ওই যুবকের নাম মো. ফারুক আহম্মেদ ভূঁইয়া (৩৭)। তিনি ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার আশুগঞ্জ থানার মো. আলী আহাম্মদ ভূঁইয়ার ছেলে। জাল টাকাসহ গ্রেপ্তারের পর তার কাছ থেকে ১ লাখ ২৫ হাজার জাল টাকা ও জাল নোট তৈরির বিভিন্ন সরঞ্জাম উদ্ধার করে পুলিশ। 

সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, গতকাল রাতে ফেনীর রানিরহাট এলাকায় এক যুবক জাল টাকা দিয়ে কেনাকাটা করছেন, এমন অভিযোগে স্থানীয় লোকজন ফারুককে আটক করেন। খবর পেয়ে পুলিশ তাকে থানায় নিয়ে যান। এ সময় তার কাছ থেকে এক হাজার, পাঁচশ, দুইশ, একশ ও ২০ টাকার নোটসহ মোট ৫ হাজার ৬২০ টাকার জাল নোট উদ্ধার করা হয়।

পুলিশ জানায়, ফারুক জেলার দাগনভূঞা উপজেলার মুন্সীরহাট বাজারের ‘পিক অ্যান্ড পে’ নামের একটি দোকানে বসে জাল নোট তৈরি করতেন। তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে দাগনভূঞার রাজাপুর ইউনিয়নের একটি ভাড়া বাসায় অভিযান চালায় পুলিশ। অভিযানে মোট ১ লাখ ২৫ হাজার ৩৬০ টাকার জাল নোট উদ্ধার করা হয়। এ ছাড়া জাল নোট তৈরির কাজে ব্যবহৃত কম্পিউটার, প্রিন্টার, পেনড্রাইভসহ বিভিন্ন সরঞ্জাম জব্দ করা হয়। 

পুলিশ জানায়, ফারুক ঢাকার একটি কলেজ থেকে মার্কেটিংয়ে স্নাতক সম্পন্ন করেন। পরে চাকরি না পেয়ে গ্রাফিক্স ডিজাইনের বিভিন্ন কোর্স করেন। এরপর প্রিন্টিংয়ের দোকানে কাজ শুরু করেন। কাজের ফাঁকে ইউটিউব ও বিভিন্ন ওয়েবসাইট থেকে জাল নোট তৈরির পদ্ধতি শিখে স্বল্প সময়ে লাভের আশায় তিনি এই কাজে জড়িয়ে পড়েন। 

জেলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার নিশাত তাবাসসুম বলেন, আসন্ন ঈদুল ফিতর সামনে রেখে জাল নোট বাজারে ছাড়ার উদ্দেশ্যে ফারুক এগুলো তৈরি করে মজুত রেখেছিলেন। ঈদের বাজারে জাল টাকার বিস্তার রোধে পুলিশ তৎপর রয়েছে। 

আরটিভি/এমআই