images

দেশজুড়ে

দাম নিয়ে বাগ্‌বিতণ্ডা, ডাব বিক্রেতার ‘চোখ উপড়ে ফেলার’ হুমকি সার্জেন্টের

শনিবার, ২৮ মার্চ ২০২৬ , ১০:২৬ পিএম

মাদারীপুরে ডাবের দাম কম দেওয়া নিয়ে প্রতিবাদ করায় এক ভ্রাম্যমাণ বিক্রেতাকে ‘চোখ উপড়ে ফেলার’ হুমকি দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে জেলা ট্রাফিক পুলিশের এক সার্জেন্টের বিরুদ্ধে। এ ঘটনার ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে ভুক্তভোগী বিক্রেতাকে পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে ডেকে নিয়ে ছয় ঘণ্টা আটকে রাখারও অভিযোগ পাওয়া গেছে। 

ভুক্তভোগী আব্দুল করিম বেপারী সদর উপজেলার গাছবাড়িয়া এলাকার বাসিন্দা। তিনি বর্তমানে শহরের সরদার কলোনি এলাকায় ভাড়া বাসায় থাকেন। অভিযুক্ত পুলিশ কর্মকর্তার নাম রফিক, যিনি জেলা ট্রাফিক পুলিশে সার্জেন্ট হিসেবে কর্মরত।

স্থানীয় সূত্র ও ভুক্তভোগীর ভাষ্যমতে, শুক্রবার (২৭ মার্চ) রাত আটটার দিকে জেলা প্রশাসকের বাসভবনের সামনে আব্দুল করিমের কাছ থেকে আটটি ডাব কেনেন সার্জেন্ট রফিক। সেখানে তিনি নারী সদস্য ও বন্ধুদের নিয়ে ডাবগুলো খান। ডাবগুলোর দাম ১ হাজার ২০০ টাকা হলেও সার্জেন্ট রফিক তাকে ৫০০ টাকা দেন। বাকি ৭০০ টাকা চাইলে ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠেন ওই পুলিশ কর্মকর্তা।

আরও পড়ুন
Web-Image

লঞ্চ ও পন্টুনের মাঝে চাপা খেয়ে কিশোরের পা প্রায় বিচ্ছিন্ন

আব্দুল করিম অভিযোগ করেন, বাকি টাকা চাইলে তিনি আমাকে ভয়ভীতি দেখান এবং একপর্যায়ে ‘চোখ উপড়ে ফেলার’ হুমকি দেন। 

ঘটনাস্থলে উপস্থিত কাওসার মাহমুদ নামের এক প্রত্যক্ষদর্শী জানান, তিনি বিষয়টি জানতে চাইলে সার্জেন্ট তার সঙ্গেও খারাপ আচরণ করেন এবং বিক্রেতাকে জোরপূর্বক গাড়িতে তোলার চেষ্টা করেন। পরে স্থানীয়রা এগিয়ে এলে তিনি চলে যান।

শনিবার (২৮ মার্চ) সকালে ঘটনার ভিডিওটি ফেসবুকে ভাইরাল হলে পুলিশ প্রশাসনের নজরে আসে। সকাল ১০টার দিকে ট্রাফিক পরিদর্শক রেদওয়ান আহম্মেদ ভুক্তভোগী বিক্রেতাকে তার বাসা থেকে পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে নিয়ে যান। আব্দুল করিমের অভিযোগ, সেখানে তাকে টানা ছয় ঘণ্টা জিজ্ঞাসাবাদের নামে আটকে রাখা হয় এবং কম্পিউটারে কম্পোজ করা একটি কাগজে তার স্বাক্ষর নেওয়া হয়। 

বিকেলে মুক্ত হওয়ার পর আব্দুল করিম বলেন, একদিকে ডাবের দাম কম দিয়ে হুমকি, অন্যদিকে পরদিন আমাকে ছয় ঘণ্টা আটকে রাখা হলো। আমি এই অন্যায়ের বিচার চাই। 

বিষয়টি সম্পর্কে জানতে দুপুরে পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে যান কয়েকজন গণমাধ্যমকর্মী। এ সময় তারা ভুক্তভোগী বিক্রেতার সঙ্গে কথা বলার চেষ্টা করলে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার জাহাঙ্গীর আলম ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠেন। তিনি গণমাধ্যমকর্মীদের সঙ্গে উচ্চ স্বরে আপত্তিকর কথা বলেন এবং 'সাংবাদিকতা শিখিয়ে দেওয়ার' হুমকি দেন বলে অভিযোগ উঠেছে।

অভিযুক্ত সার্জেন্ট রফিক ঘটনার সঙ্গে জড়িত থাকার কথা অস্বীকার করে বলেন, এমন কোনো ঘটনাই ঘটেনি। আমি কোনো ডাব খাইনি এবং কাউকে হুমকিও দিইনি। 

মাদারীপুরের পুলিশ সুপার মো. হাবিবুর রহমান বলেন, প্রকৃতপক্ষে কী ঘটেছে, তা জানতেই ডাব বিক্রেতাকে অফিসে ডাকা হয়েছিল। ট্রাফিক সার্জেন্টের দোষ প্রমাণিত হলে তদন্ত সাপেক্ষে বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। পুরো বিষয়টি পুলিশ খতিয়ে দেখছে।

আরটিভি/এমআই