বুধবার, ০১ এপ্রিল ২০২৬ , ০৭:৩৯ পিএম
বঙ্গোপসাগর থেকে ধরা পড়া একটি মহাবিপন্ন খটক মাছ ঘিরে মঙ্গলবার থেকে বুধবার পর্যন্ত উত্তেজনা ছড়ায় ঝালকাঠির আমুয়া মৎস্য বন্দরের মাছঘাট ও পিরোজপুরের মঠবাড়িয়া পৌর বাজারে।
নিলাম, হাতবদল, কেজি দরে বিক্রি এবং শেষ পর্যন্ত প্রশাসনের হস্তক্ষেপে মাছের বড় একটি অংশ উদ্ধার করে মাটিচাপা দেওয়ার ঘটনাকে ঘিরে এলাকায় ব্যাপক আলোচনা চলছে।
জেলেরা জানান, প্রায় ২৫ মণ ওজনের খটক মাছটি মঙ্গলবার (৩১ মার্চ) ভোরে বঙ্গোপসাগর থেকে ট্রলারে করে আমুয়া ঘাটে আনা হয়। করাতের মতো লম্বা মুখ আর বিশাল আকারের কারণে মাছটি দেখার জন্য ঘাটে ভিড় জমে যায়। পরে নিলামে স্থানীয় আড়তদার আব্দুল হাই সরদার আড়াই লাখ টাকায় মাছটি কিনে নেন।
ঘাট থেকে মাছটি ইঞ্জিনচালিত ভ্যানে করে মঠবাড়িয়ার দিকে নেওয়া হয়। সেখানকার পৌর মাছ বাজারে পৌঁছানোর পর নতুন করে হাতবদল হয়। স্থানীয় দুই আড়তদার মো. মোস্তফা কামাল ও মো. হোসেন শরিফ মাছটি প্রায় ৫ লাখ টাকায় কিনে নেন। এরপর তারা মাছটি শহরের বিভিন্ন এলাকায় প্রদর্শন করেন এবং মাইকিং করে জানান, বুধবার কেজি দরে বিক্রি করা হবে।
বুধবার (১ এপ্রিল) সকালে বাজারে শুরু হয় কেজি দরে বিক্রি। প্রতি কেজির দাম ধরা হয় ২ হাজার টাকা। সে হিসেবে মাছটির সম্ভব্য দাম দাড়ায় আট লাখ টাকা। বিরল এই মাছ দেখার জন্য বাজারে উপচে পড়া ভিড় দেখা যায়। অনেকেই স্বাদ নেওয়ার জন্য, আবার কেউ কেউ কেবল কৌতূহল থেকে মাছ কিনে নেন।
কিন্তু বিক্রির মধ্যেই প্রশাসনের হস্তক্ষেপে পরিস্থিতি বদলে যায়। উপজেলা প্রশাসন ও বনবিভাগের কর্মকর্তারা ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে বিক্রির অংশ হিসেবে কেটে রাখা মাছের কিছু অংশ উদ্ধার করেন। পরে উদ্ধারকৃত অংশসহ অবশিষ্ট মাছ মাটিচাপা দেওয়া হয়।
এ বিষয়ে মঠবাড়িয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আকলিমা আক্তার গণমাধ্যমকে বলেন, খটক মাছ সংরক্ষিত ও মহাবিপন্ন প্রজাতির তালিকাভুক্ত হওয়ায় এভাবে বাণিজ্যিকভাবে বিক্রি ও প্রদর্শন করা বিধিসম্মত নয়। তাই প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।
পটুয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের মৎস্য অনুষদের ফিসারিজ বায়োলজি এন্ড জেনেটিক্স বিভাগের অধ্যাপক ড. মো. রাজীব সরকার বলেন, খটক মাছ বর্তমানে বিশ্বজুড়েই মহাবিপন্ন। বাংলাদেশের উপকূলীয় এলাকায় এই প্রজাতি খুবই বিরল। জালে আটকা পড়লেও সচরাচর এগুলো বাজারে আসে না।
অধ্যাপক ড. মো. রাজীব সরকার আরও বলেন, খটক মাছের বিভিন্ন প্রজাতি এখন বিলুপ্তির ঝুঁকিতে রয়েছে। আন্তর্জাতিক তালিকাতেও এদের অবস্থান উদ্বেগজনক। এমন পরিস্থিতিতে এ ধরনের মাছ সংরক্ষণ করা জরুরি, বাণিজ্যিকভাবে বিক্রি নয়।
আরটিভি/এমআই