images

দেশজুড়ে

ভিডিও করায় ২ সাংবাদিককে হাতকড়া পরিয়ে থানায় পাঠালেন এসিল্যান্ড

বৃহস্পতিবার, ০২ এপ্রিল ২০২৬ , ০১:১০ পিএম

কুমিল্লার চান্দিনায় উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) বা এসিল্যান্ডের কার্যালয়ে ভিডিও করার অপরাধে দুই সাংবাদিককে হাতকড়া পরিয়ে থানায় পাঠানোর অভিযোগ উঠেছে।

বুধবার (১ এপ্রিল) দুপুরে অভিযুক্ত এসিল্যান্ড ফয়সাল আল নূরের কার্যালয়ে এ ঘটনা ঘটে। 

ঘটনার দিন সন্ধ্যায় সাংবাদিকদের হাতে হাতকড়া পরা একটি ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দ্রুত ছড়িয়ে পড়লে পুরো জেলাজুড়ে তীব্র সমালোচনার ঝড় ওঠে এবং প্রশাসনের এমন আচরণে সাধারণ মানুষ ও গণমাধ্যমকর্মীদের মধ্যে চরম ক্ষোভের সৃষ্টি হয়।

ভুক্তভোগী দুই সাংবাদিক হলেন— দৈনিক মানবজমিনের দেবিদ্বার প্রতিনিধি রাসেল সরকার এবং ‘ফেস দ্য পিপল’ ও স্থানীয় দৈনিক আমার শহরের প্রতিনিধি আব্দুল আলিম।

ঘটনার বর্ণনা দিয়ে ভুক্তভোগী সাংবাদিক আব্দুল আলিম গণমাধ্যমকে জানান, তার এক আত্মীয়ের একটি নামজারি সংক্রান্ত বিষয়ে গত এক বছর ধরে এসিল্যান্ডের কার্যালয়ে ঘোরানো হচ্ছিল। বুধবার ওই বিষয়ের শুনানির দিন ধার্য থাকায় তিনি তার সহকর্মী রাসেল সরকারকে সঙ্গে নিয়ে এসিল্যান্ডের কার্যালয়ে যান। দুপুর পৌনে ২টার দিকে তারা দুজনে মিলে শুনানির বিষয়ে এসিল্যান্ডের কাছে জানতে চাইলে এসিল্যান্ড হঠাৎ প্রচণ্ড উত্তেজিত হয়ে ওঠেন এবং তাদের সঙ্গে দুর্ব্যবহার শুরু করেন। আব্দুল আলিম এসিল্যান্ডের এই অনাকাঙ্ক্ষিত ও অপেশাদার আচরণের ভিডিও ধারণ করতে গেলে এসিল্যান্ড একপর্যায়ে তার মোবাইল ফোনটি জোরপূর্বক কেড়ে নেওয়ার চেষ্টা করেন এবং দ্রুত পুলিশ ডেকে তাদের দুজনকে হাতকড়া পরিয়ে সরাসরি থানায় পাঠিয়ে দেন।

আব্দুল আলিম জানান, তাদের দুজনকে থানায় নেওয়ার পর পুলিশের সহায়তায় তাদের মোবাইল থেকে সব জরুরি তথ্য মুছে ফেলা হয় এবং এই বিষয়টি নিয়ে পরবর্তীতে আর কোনো ঝামেলা না করতে তাদের কাছ থেকে জোর করে একটি মুচলেকা লিখে নেওয়া হয়।

এদিকে অভিযুক্ত সহকারী কমিশনার (ভূমি) ফয়সাল আল নূর গণমাধ্যমকে বলেন, আমি যখন ওয়াশরুমে যাচ্ছিলাম তখন দেখি তিনি রুমে ঢুকে ভিডিও করছেন। বারণ করার পরও ভিডিও করায় মোবাইল ফোন নিতে চাইলে তর্কের সৃষ্টি হয়। একপর্যায়ে তিনি এ বিষয়ে কোনো প্রকার সংবাদ প্রকাশ না করে তার অফিসে গিয়ে সরাসরি দেখা করার জন্য অনুরোধ জানান।

আরও পড়ুন
Web-Image---Copy

বেশি দামে তেল বিক্রি, জানতে চাইলে ছাত্রদলের ২ নেতাকে ব্যাপক মারধর

চান্দিনা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আতিকুর রহমান গণমাধ্যমকে জানান, একজন দায়িত্বশীল নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের দেওয়া সরকারি আদেশ পালন করতেই পুলিশ তখন তাদের দুজনকে থানায় নিয়ে গিয়েছিলেন। 

অন্যদিকে সাংবাদিকদের ওপর এমন চরম অপমানের ঘটনায় তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছেন কুমিল্লার স্থানীয় সাংবাদিক নেতারা। কুমিল্লা প্রেসক্লাবের সাবেক সভাপতি মাসুক আলতাফ চৌধুরী এই ঘটনাকে ‘ঔদ্ধত্যপূর্ণ আচরণ’ হিসেবে কড়া আখ্যা দিয়ে দ্রুত বিভাগীয় তদন্ত ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি করেছেন। 

এ প্রসঙ্গে কুমিল্লা জেলা প্রশাসক (ডিসি) মু. রেজা হাসান গণমাধ্যমকে জানানা, বিষয়টি ইতোমধ্যে তার নজরে এসেছে এবং তদন্ত সাপেক্ষে এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

আরটিভি/এমএইচজে