শনিবার, ০৪ এপ্রিল ২০২৬ , ০৯:৪০ পিএম
ময়মনসিংহের মাদারগঞ্জে সমবায় সমিতিগুলোর মাধ্যমে আমানত রাখা হাজারো গ্রাহক দীর্ঘ তিন বছরেও তাদের কষ্টার্জিত অর্থ ফেরত পাননি। বিভিন্ন হিসাব অনুযায়ী, ২৩ থেকে ২৯টি সমিতির মাধ্যমে প্রায় ৩৫ হাজার গ্রাহকের ৭৩০ কোটি থেকে দেড় হাজার কোটি টাকা আত্মসাৎ করে সংশ্লিষ্ট মালিকরা আত্মগোপনে রয়েছেন। এতে গ্রাহকদের মধ্যে চরম হতাশা ও অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে।
ভুক্তভোগীরা জানান, ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানের তুলনায় বেশি লাভের প্রলোভন দেখিয়ে আল-আকাবা, শতদল, স্বদেশ, নবদ্বীপ, হলি টার্গেট ও রংধনুসহ বিভিন্ন সমবায় সমিতি বিপুল পরিমাণ আমানত সংগ্রহ করে। কিন্তু ২০২২ সালের শেষদিকে এসব সমিতির পরিচালকরা হঠাৎ করে গা-ঢাকা দিলে বিপাকে পড়েন আমানতকারীরা।
আমানত ফেরতের দাবিতে ‘সহায়ক কমিটি’র ব্যানারে গ্রাহকরা গত তিন বছর ধরে আন্দোলন চালিয়ে আসছেন। এ সময় তারা মশাল মিছিল, মহাসড়ক অবরোধ, হরতাল ও অমরণ অনশনসহ নানা কর্মসূচি পালন করেন। এমনকি উপজেলা পরিষদ চত্বরে অবস্থান নিয়ে সরকারি অফিসেও তালা দেওয়ার ঘটনাও ঘটে। কিন্তু এতকিছুর পরও কোনো কার্যকর সমাধান আসেনি।
এদিকে, সমিতির কিছু অর্থ এখনো মাদারগঞ্জ মডেল থানার ভল্টে পড়ে আছে। শতদল বহুমুখী সমবায় সমিতির ৯৯ লাখ এবং আল-আকাবা সমবায় সমিতির ৫০ লাখ টাকাসহ মোট প্রায় দেড় কোটি টাকা দুই বছর ধরে সেখানে সংরক্ষিত রয়েছে। তবে এই অর্থ গ্রাহকদের মধ্যে বিতরণের কোনো কার্যকর উদ্যোগ এখনো দেখা যায়নি।
আমানত উদ্ধার সহায়ক কমিটির সাবেক আহ্বায়ক শিবলুল বারী রাজু বলেন, দীর্ঘদিন ধরে আমরা আন্দোলন করছি। যেকোনো উপায়ে গ্রাহকদের টাকা ফেরত নিশ্চিত করতে হবে, না হলে আবারও কঠোর কর্মসূচি দেওয়া হবে।
নতুন সহায়ক কমিটির সদস্য সচিব মাহফিজুর রহমান জানান, রাজনৈতিক প্রভাব এড়াতে নতুন কমিটি গঠন করা হয়েছে। স্থানীয় সংসদ সদস্য নির্বাচনের আগে আশ্বাস দিয়েছেন যে, নির্বাচনের পর সমিতির মালিকদের সঙ্গে বৈঠক করবেন। আগামী এক সপ্তাহের মধ্যেই সেই বৈঠক হওয়ার কথা রয়েছে। সেখানে সমাধান না এলে আমরা নতুন কর্মসূচি ঘোষণা করবো।
তিনি আরও বলেন, থানার ভল্টে থাকা টাকাও দ্রুত গ্রাহকদের মধ্যে বণ্টনের উদ্যোগ নেওয়া হবে।
জামালপুর জেলা সমবায় কর্মকর্তা আবদুল হান্নান বলেন, এ বিষয়ে জেলা প্রশাসক স্যার একটি কমিটি করে দিয়েছিল। আল-আকাবা সমিতির সমস্ত সম্পদ বায়জাপ্ত করেছে আদালত। এখন গ্রাহক কীভাবে টাকা পাবে এ বিষয়ে কিছুই বলতে পারবো না।
মাদারগঞ্জ মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা খন্দকার শাকের আহমেদ জানান, প্রায় ৭-৮ মাস ধরে টাকা থানার ভল্টে রয়েছে। তৎকালীন ইউএনওর সিদ্ধান্তে মালিক পক্ষ ও সহায়ক কমিটির সমন্বয়ে এই টাকা রাখা হয়। তবে পরবর্তীতে আর কোনো টাকা জমা দেওয়া হয়নি।
অন্যদিকে, শতদল সমিতির পরিচালক মুস্তাফিজুর রহমান বলেন, গ্রাহকদের টাকা ফেরত দিয়ে কার্যক্রম পুনরায় চালুর পরিকল্পনা থাকলেও বিতরণ পদ্ধতি নিয়ে সুস্পষ্ট নীতিমালা না থাকায় অর্থ এখনো বিতরণ করতে পারছি না।
জমি বিক্রির মাধ্যমে বাকি টাকা পরিশোধের পরিকল্পনাও রয়েছে জানিয়ে তিনি বলেন, আমাদের সমিতির অনেক গ্রাহক এ তিন বছরে টাকা ফেরত পেয়েছে। মুল বিষয়টি হলো এ টাকা ফেরত দিতে আমরা ইচ্ছুক কিন্তু কেউ এ সমিতির দায় নিতে চাই না। থানার লকারে আমাদের টাকা এখনো পড়ে আছে।
এ বিষয়ে কথা বলতে স্থানীয় সংসদ মোস্তাফিজুর রহমান বাবুলের মোবাইল ফোনে একাধিকবার চেষ্টা করেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
জেলা সমবায় কার্যালয়ের তথ্যমতে, জামালপুরে অন্তত ৭৩০ কোটি টাকা এখনো আটকে আছে। তবে ভুক্তভোগীদের দাবি, প্রকৃত অঙ্ক দেড় হাজার কোটি টাকার কাছাকাছি।
আরটিভি/এমএম