রোববার, ০৫ এপ্রিল ২০২৬ , ০৭:৪৮ পিএম
সিলেটের কোম্পানীগঞ্জ উপজেলা সংলগ্ন ভারতীয় সীমান্তের ওপারে সাদ্দাম হোসেন নামে এক বাংলাদেশি যুবকের গুলিবিদ্ধ মরদেহ কয়েকদিন ধরে পড়ে আছে বলে অভিযোগ করেছে তার পরিবার। তাদের ভাষ্য, বন্ধুরাসহ সীমান্তের ওপারে গিয়েছিলেন সাদ্দাম। এরপর কোমর ও পায়ে গুলি করে তাকে হত্যা করা হয়।
রোববার (৫ এপ্রিল) সন্ধ্যায় এ প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত মরদেহ উদ্ধারের কোনো নিশ্চিত তথ্য পাওয়া যায়নি। সাদ্দাম হোসেন কোম্পানীগঞ্জ উপজেলার উত্তর রণিখাই ইউনিয়নের লামাগ্রামের বাসিন্দা কুটু মিয়ার ছেলে।
স্থানীয় সূত্র ও সাদ্দামের পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, গত বুধবার যুবক সাদ্দাম হোসেন আরও তিনজনের সঙ্গে সীমান্ত পেরিয়ে ভারতের অভ্যন্তরে প্রবেশ করেন। এরপর তিনি আর ফেরেননি। তার সঙ্গে যাওয়া তিনজনের মধ্যে একজন গুলিবিদ্ধ অবস্থায় দেশে ফিরেছেন। ওই তিনজনের একজন সাদ্দামের বন্ধু আবু বক্কর, তিনি শুক্রবার রাতে সাদ্দামের পরিবারকে বিষয়টি জানান।
নিহত সাদ্দামের বড় ভাই নিজাম উদ্দিন বলেন, গত বুধবার সাদ্দাম বাড়ি থেকে বের হওয়ার সময় তার মোবাইল সঙ্গে নেয়নি। প্রথমে আমরা ভেবেছিলাম সাদ্দাম হয়তো কোনো আত্মীয়ের বাড়িতে গেছে। পরে জানতে পারি, অন্যদের সঙ্গে সীমান্ত পেরিয়ে ভারতে গিয়েছে সে।
আমার ভাইয়ের কোমর ও পায়ে গুলি করা হয় এবং ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয় জানিয়ে নিজাম উদ্দিন আরও জানান, শনিবার দুপুরে সাদ্দাম নিখোঁজ রয়েছেন জানিয়ে কোম্পানীগঞ্জ থানায় লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন। স্থানীয় বিজিবি ক্যাম্পে বিষয়টি জানাতে বলা হয়েছে পুলিশের পক্ষ থেকে।
কোম্পানীগঞ্জ থানার ওসি শফিকুল ইসলাম জানান, আমরা জেনেছি লাশ ওভাবেই সীমান্তের ওপারে পড়ে আছে। যেহেতু বিষয়টি সীমান্ত সংক্রান্ত তাই মরদেহ আনার পর আমরা আইনি ব্যবস্থা নেব।
সিলেট বিজিবি-৪৮ ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মো. নাজমুল হক বলেন, স্থানীয় বাসিন্দাদের মাধ্যমে ঘটনাটি জানার পর বিজিবি বিষয়টি খতিয়ে দেখছে। ইতোমধ্যে আমরা বিএসএফের কাছে তাদের সীমান্ত এলাকায় কোনো মরদেহ পড়ে আছে কি না জানতে চেয়েছি। তবে বিএসএফ এমন কোনো তথ্য নিশ্চিত করেনি।
বিজিবির পক্ষ থেকে সীমান্ত এলাকায় নজরদারি বাড়ানো হয়েছে। স্থানীয় বাসিন্দাদের অবৈধভাবে সীমান্ত অতিক্রম না করতে বলেন বিজিবি কর্মকর্তা নাজমুল হক।
আরটিভি/এমএম