ঢাকা বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৯ আশ্বিন ১৪৩৩

সিলেট বিভাগের সব পেট্রোল পাম্প অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ ঘোষণা

আরটিভি নিউজ

প্রকাশ : ০২ এপ্রিল ২০২৬, ০২:১০ পিএম
ছবি: সংগৃহীত

পাম্পে ‘অযৌক্তিক’ জরিমানা ও বিভিন্ন ভাবে হয়রানির অভিযোগে সিলেট বিভাগের সব পেট্রোল পাম্প অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে।

বুধবার (১ এপ্রিল) রাত সাড়ে ১১টার দিকে এই সিদ্ধান্তের কথা নিশ্চিত করেছেন সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ী নেতারা।

এরপর গভীর রাত পর্যন্ত পাম্প কর্তৃপক্ষ ও প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা মিলে মোগলাবাজার এলাকায় অবস্থিত মেঘনা পেট্রোলিয়ামের ডিপোতে সভা করেন।

সভা শেষে বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম ডিলার্স, ডিস্ট্রিবিউটার্স, অ্যান্টস অ্যান্ড পেট্রোল পাম্প ওনার্স অ্যাসোসিয়েশন সিলেট বিভাগীয় শাখার ভারপ্রাপ্ত সভাপতি ব্যারিস্টার রিয়াসাদ আজিম গণমাধ্যমকে বলেন, জনস্বার্থে ধর্মঘট স্থগিত করা হবে। তবে বৃহস্পতিবার (২ এপ্রিল) সকাল থেকে সিলেটের সব পেট্রোল পাম্প বন্ধ রয়েছে।

পেট্রোল পাম্প মালিকদের অভিযোগ, বুধবার বিকেলে আইনের ব্যত্যয় ঘটিয়ে সিলেটের এক পাম্প মালিকের দুটি পাম্পের একটিতে ট্যাগ কর্মকর্তা, র‍্যাবের ম্যাজিস্ট্রেট ও পুলিশ কর্তৃক হিসাব না রাখার ১০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। অপরটিতে এক পাম্পের তেল আরেক পাম্পে নেওয়ার দায়ে জরিমানা করা হয়। এ সময় মালিককে বিনা কারণে ৬ ঘণ্টা পুলিশি হেফাজতে রাখা হয়।

এছাড়াও ট্যাগ অফিসার বসানো, বিভিন্ন অ্যাজেন্সির মাধ্যমে অনবরত হিসাব নেওয়া, পাম্পে পুলিশ নিয়োগ, ছয়টি পাম্পে জরিমানা আদায়ের অভিযোগ করেন তারা।

আরও পড়ুন

বন্ধ রাখা পেট্রোল পাম্প কর্তৃপক্ষ জানান, আজ সকাল ১০টায় সব পেট্রোল পাম্প মালিকদের সঙ্গে প্রশাসনের বৈঠক আছে। সেই বৈঠক শেষেই ধর্মঘট স্থগিতের ব্যাপারে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

বুধবার রাত ৩টায় মিটিং শেষে সিলেট মহানগর পুলিশ কমিশনার মো আব্দুল কুদ্দুছ সাংবাদিকদের বলেন, হঠাৎ করে আমাদের নজরে আসে পেট্রোল পাম্প মালিক সমিতি অনির্দিষ্টকালের জন্য ধর্মঘট আহ্বান করেছেন। বিষয়টি জানার সঙ্গে সঙ্গে আমি এখানে আসলাম। তাদের সঙ্গে আমার কথা হয়েছে বেশি কিচ্ছুক্ষণ ধরে। ফলপ্রসু আলোচনা হয়েছে। কিছু ভুল বুঝাবুঝি আছে। আশা করি এটা নিরসন হয়ে যাবে। প্রশাসন ব্যবসাকে ফেসিলিটেড করার জন্য, জনদুর্ভোগ যেন না হয় সে বিষয়গুলো দেখার জন্য আমরা কাজ করছি। যে বিষয়গুলো নিয়ে ভুল বুঝাবুঝি হয়েছে আমি প্রতিটি পয়েন্ট নোট করেছি। অ্যাডমিনিস্টিটিভ লেভেলে আমরা আলাপ আলোচনা করে সিদ্ধান্ত নেব। এগুলো কোনো বড় ইস্যু না। আলোচনার দরজা বন্ধ রাখলে পরিস্থিতি ঘোলাটে হয়ে যায়। তবে এখানে সবাই আন্তরিক তাই আশা করি এটা দ্রুত সমাধান হবে।

আরটিভি/এমএইচজে

আরটিভি অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
হাসপাতালে মৃত্যুশয্যায় মা, চিকিৎসার টাকা নিয়ে উধাও ছেলে
হাসপাতালে যখন মৃত্যুযন্ত্রণায় ছটফট করছেন মা, ঠিক সেই মুহূর্তে চিকিৎসার জন্য ব্যাংকে জমানো দেড় লাখ টাকা তুলে নিয়ে সটকে পড়েছেন তার বড় ছেলে।  সম্প্রতি লক্ষ্মীপুরের কমলনগর উপজেলার করুণানগর এলাকায় ঘটা এই অমানবিক ঘটনাটি এলাকায় তীব্র ক্ষোভ ও চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছে। অর্থের অভাবে রাজধানীর শ্যামলীর একটি বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ওই মায়ের জীবন এখন চরম অনিশ্চয়তার মুখে। ভুক্তভোগী পরিবার ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, কয়েক বছর আগে ওই নারীর স্বামী মারা যান। দুই ছেলে ও দুই মেয়ের সংসারে মা তার বাবার বাড়ির ওয়ারিশি সম্পত্তি বিক্রির ১ লাখ ৫০ হাজার টাকা দুই ছেলে— মোহাম্মদ আলাউদ্দিন ও সালাউদ্দিনের নামে সোনালী ব্যাংকের একটি যৌথ অ্যাকাউন্টে জমা রেখেছিলেন। উদ্দেশ্য ছিল, ভবিষ্যতে নিজের বিপদ বা চিকিৎসার প্রয়োজনে এই অর্থ কাজে লাগবে। সপ্তাহখানেক আগে তৃতীয়বারের মতো স্ট্রোক করলে ওই নারীকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় ঢাকার শ্যামলীর একটি বেসরকারি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। বর্তমানে তিনি সেখানে সংকটজনক অবস্থায় চিকিৎসাধীন রয়েছেন। রোববার (২০ সেপ্টেম্বর) সকালে মায়ের চিকিৎসার জরুরি খরচের জন্য দুই ভাই আলাউদ্দিন ও সালাউদ্দিন সোনালী ব্যাংক কমলনগর শাখা থেকে যৌথ অ্যাকাউন্টের পুরো টাকা উত্তোলন করেন। তবে টাকা তোলার পরপরই বড় ভাই আলাউদ্দিন কৌশলে ছোট ভাই সালাউদ্দিনকে বাড়িতে পাঠিয়ে দিয়ে এলাকা থেকে গা-ঢাকা দেন। পরবর্তীতে স্বজনরা যোগাযোগের চেষ্টা করলে আলাউদ্দিন সাফ জানিয়ে দেন— মায়ের নামে থাকা জমি তার নামে লিখে না দিলে তিনি চিকিৎসার এই টাকা দেবেন না। ঘটনাটি রোববারের হলেও বুধবার সন্ধ্যায় ভুক্তভোগীর ছোট ছেলে সালাউদ্দিন বিষয়টি গণমাধ্যমকে জানান। ছোট ছেলে সালাউদ্দিন কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, বড় ভাই বেশ কিছুদিন ধরেই মায়ের জমি নিজের নামে লিখে নিতে চাপ দিচ্ছিলেন। কিন্তু মা রাজি হননি। এখন মায়ের জীবন-মরণ সন্ধিক্ষণে তিনি প্রতারণা করে চিকিৎসার টাকা আটকে রেখে জমি লিখে নেওয়ার শর্ত জুড়ে দিয়েছেন। টাকার অভাবে মায়ের চিকিৎসা বন্ধ হওয়ার উপক্রম হয়েছে, আমরা এখন চরম দিশেহারা। ঘটনাটি জানতে পেরে তীব্র নিন্দা জানিয়ে স্থানীয় ইউপি সদস্য মো. সোলাইমান বলেন, মায়ের চিকিৎসার জন্য রাখা টাকা তুলে ছেলে চম্পট দেওয়ার ঘটনাটি অত্যন্ত অমানবিক। এমন পাষণ্ড সন্তানের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি হওয়া উচিত। করুণানগর এলাকার প্রবীণ বাসিন্দা আবুল কালাম আফসোস করে বলেন, মাতা-পিতার আত্মত্যাগকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে যে সন্তান মাকে মৃত্যুর মুখে ফেলে টাকা নিয়ে পালাতে পারে, আল্লাহ যেন এমন কুলাঙ্গার সন্তান আর কারো ঘরে না দেন। প্রশাসনের উচিত এ বিষয়ে দ্রুত কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া। জানা গেছে, অভিযুক্ত আলাউদ্দিন উপজেলার হাজিরহাট ইউনিয়নের ৯ নম্বর ওয়ার্ডের করুণানগর এলাকার মৃত হানিফ বেপারীর বড় ছেলে। ব্যক্তিজীবনে তিনি দুটি বিয়ে করে আলাদা সংসার করছেন। ঘটনার পর থেকে তার মোবাইলে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাকে পাওয়া যায়নি। এ বিষয়ে কমলনগর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রাহাত উজ-জামান বলেন, ঘটনাটি অত্যন্ত অমানবিক। অসুস্থ মায়ের চিকিৎসার টাকা নিয়ে সটকে পড়া এবং শর্ত জুড়ে দেওয়া কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারকে দ্রুত লিখিত অভিযোগ দেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। আরটিভি/এসএস
হাসপাতালে মৃত্যুশয্যায় মা, চিকিৎসার টাকা নিয়ে উধাও ছেলে
মাদরাসাছাত্রের শরীরে ব্যথার কারণ থেকে মিলল ‘ভয়ংকর সত্য’
নড়াইলে ৮ বছর বয়সী এক মাদরাসাছাত্রকে বলাৎকারের অভিযোগ উঠেছে হাবিবুর রহমান (১৫) নামের এক কিশোরের বিরুদ্ধে। 
মাদরাসাছাত্রের শরীরে ব্যথার কারণ থেকে মিলল ‘ভয়ংকর সত্য’
থানায় ভাঙচুর চালাল জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক ১৭ কিশোর 
কিশোর গ্যাংবিরোধী অভিযানের অংশ হিসেবে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য থানায় নেওয়ার পর ১৭ কিশোর কুমিল্লার দাউদকান্দি থানার ভেতর ভাঙচুর চালিয়েছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।
থানায় ভাঙচুর চালাল জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক ১৭ কিশোর 
সাহায্য চাইছিল সড়কে পড়ে থাকা রক্তাক্ত নারী, ছবি তুলতে ব্যস্ত জনতা
চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়ায় সড়ক দুর্ঘটনায় আহত এক নারী দীর্ঘ সময় রাস্তায় পড়ে থাকলেও তাকে উদ্ধারের বদলে ছবি ও ভিডিও ধারণে ব্যস্ত ছিলেন আশপাশের অনেকে।
সাহায্য চাইছিল সড়কে পড়ে থাকা রক্তাক্ত নারী, ছবি তুলতে ব্যস্ত জনতা
মঠবাড়িয়ায় ৫ লাখের বেশি মানুষ থাকলেও নেই ব্লাড ব্যাংক
পিরোজপুরের মঠবাড়িয়া উপজেলায় পাঁচ লাখের বেশি মানুষের স্বাস্থ্যসেবায় চরম ভোগান্তি আর অনিশ্চয়তার নাম ব্লাড ব্যাংক। উপজেলায় সরকারি বা প্রাতিষ্ঠানিক কোনো স্থায়ী ব্লাড ব্যাংক বা আধুনিক রক্ত সংরক্ষণাগার না থাকায় জরুরি মুহূর্তে রোগীদের স্বজনদের ছুটতে হয় দিশেহারা হয়ে। সময়মতো রক্ত না পেয়ে অনেক সময় সংকটাপন্ন রোগীদের জীবন ঝুঁকির মুখে পড়ছে।
মঠবাড়িয়ায় ৫ লাখের বেশি মানুষ থাকলেও নেই ব্লাড ব্যাংক