images

দেশজুড়ে

‘মাটিখেকো’দের থাবায় বিলীন হচ্ছে একের পর এক পাহাড় 

সোমবার, ০৬ এপ্রিল ২০২৬ , ০৫:১৪ পিএম

খাগড়াছড়ির মানিকছড়িতে ‘মাটিখেকো’দের স্কেভেটরের থাবায় বিলীন হয়ে যাচ্ছে একের পর এক পাহাড়। প্রশাসন অভিযান চালিয়ে মামলা ও জরিমানা করেও তাদের রুখতে পারছে না।

স্থানীয়দের দাবি, গত ২-৩ মাসে উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় অন্তত আটটি পাহাড় কেটে সাবাড় করা হয়েছে।

রোববার (৫ এপ্রিল) পাহাড় কাটায় ব্যবহৃত দুটি স্কেভেটর জব্দ করেছেন ভ্রাম্যমাণ আদালত।

স্থানীয়রা জানান, এক শ্রেণির অসাধু ব্যক্তি দীর্ঘদিন ধরে সরকারি খাস কিংবা বন্দোবস্তপ্রাপ্ত পাহাড়-টিলা থেকে মাটি কেটে বিক্রি করছেন। নতুন বসতবাড়ি নির্মাণ ও নিচু জমি ভরাটের জন্য এসব মাটি ব্যবহার করা হয়। আগে পাহাড় কাটার কাজে কোদাল বা শাবল ব্যবহার হলেও বর্তমানে স্কেভেটর ও পেলোডার ব্যবহার করছে মাটিখেকোরা।

জানা গেছে, রোববার উপজেলার কালাপানি মৌজার যোগ্যছোলা ইউনিয়নের ৩ নম্বর ওয়ার্ডের খাড়িছড়া মাস্টারপাড়ায় পাহাড় কাটার সময় উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট খাদিজা তাহিরার নেতৃত্বে ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযান চালিয়ে দুটি শক্তিশালী স্কেভেটর আটক করা হয়।

নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট খাদিজা তাহিরা গণমাধ্যমকে জানান, প্রায় ১৫ একর টিলাভূমির চারটি পাহাড় কেটে সেখানে রাস্তা ও লেক তৈরির কাজ চলছিল। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযান চালানো হলে জড়িতরা পালিয়ে যায়। পরে ঘটনাস্থল থেকে দুটি স্কেভেটর জব্দ করা হয়।

আরও পড়ুন
Web-Image---Copy

‘ভাই’ বলায় সাংবাদিকের ওপর চটলেন এসিল্যান্ড

তিনি আরও জানান, পাহাড়গুলো সরকারি খাস খতিয়ানের অন্তর্ভুক্ত। মো. মনির হোসেন নামে এক ব্যক্তি পাহাড় কাটার সঙ্গে জড়িত বলে প্রাথমিকভাবে জানা গেছে। পরিবেশ আইনে তার বিরুদ্ধে মামলার প্রস্তুতি চলছে।

তিনি বলেন, এ পার্বত্য অঞ্চলের সৌন্দর্য ও গুরুত্বপূর্ণ সম্পদ পাহাড়-টিলা। দুঃখজনকভাবে এক শ্রেণির অসাধু ব্যক্তি এগুলো ধ্বংসে লিপ্ত। অভিযান ও জরিমানা করেও তাদের দমন করা যাচ্ছে না। দুর্গম ও নির্জন এলাকা হওয়ায় নিয়মিত অভিযান চালানোও কঠিন।

পাহাড়, মাটি ও বালু রক্ষায় জনপ্রতিনিধি ও সচেতন নাগরিকদের এগিয়ে আসার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, শুধু প্রশাসনের পক্ষে এসব রোধ করা সম্ভব নয়।

আরটিভি/এমএইচজে