বৃহস্পতিবার, ০৯ এপ্রিল ২০২৬ , ০৮:৫৯ এএম
চাঁদপুরের মতলব উত্তর উপজেলায় স্কুল ফিডিং (মিড-ডে মিল) কর্মসূচির আওতায় বিতরণ করা মিড-ডে মিলে পচা ডিম পাওয়ার অভিযোগ উঠেছে। শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের মধ্যে উদ্বেগ ও ক্ষোভ দেখা দিয়েছে।
বুধবার (৮ এপ্রিল) উপজেলার ওটারচর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে এ ঘটনা ঘটে। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন স্কুলের প্রধান শিক্ষক ও উপজেলা প্রাথমিক বিদ্যালয় প্রধান শিক্ষক সমিতির সাধারণ সম্পাদক আশিকুজ্জামান আশিক।
অভিভাবকদের দাবি, যদি পচা ও বাসি খাবার দেওয়া হয়, তাহলে এমন খাবারের প্রয়োজন নেই।
বিদ্যালয়ের ৫ম শ্রেণির শিক্ষার্থী আইরিন আক্তার জানান, তাদের স্কুলে মিড-ডে মিল দেওয়া হবে শুনে তারা খুবই খুশি ছিলেন। কিন্তু আজকের ডিমে এত দুর্গন্ধ ছিল যে তারা কেউ খেতে পারেনি। পচা খাবার খেয়ে অসুস্থ হলে তো পড়াশোনা করা সম্ভব না।
এ বিষয়ে বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আশিকুজ্জামান বলেন, আমার বিদ্যালয়ে মোট শিক্ষার্থী রয়েছে ৩৫৪ জন। আজ প্রায় ২০০টি ডিম পচা এসেছে। ডিমের ওপরের দিক ভালো মনে হলেও পরে দেখা গেল ভেতরে ভালো নয়। প্রথমদিকে কয়েকদিন ভালো মানের খাবার সরবরাহ করা হলেও এখন আমাদের নিম্নমানের খাবার সরবরাহ করা হচ্ছে। এতে করে আমাদের শিক্ষার্থীদের স্বাস্থ্যগত ঝুঁকি বাড়ছে। আমরা চাই সবসময় টাটকা ও স্বাস্থ্যকর খাবার দেওয়া হোক। সংশ্লিষ্টদের বিষয়টি জানানো হবে, যাতে ভবিষ্যতে মানসম্মত খাবার সরবরাহ নিশ্চিত করা যায়, বলেন তিনি।
কয়েকজন অভিভাবকের সঙ্গে এ নিয়ে কথা হলে তারাও ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, বাচ্চাদের যদি পচা ও মেয়াদোত্তীর্ণ খাবার খেতে দেওয়া হয়, তবে সেই খাবারের কোনো প্রয়োজন নেই। আমাদের বাচ্চাদের এমন খাবার দেওয়া হোক, আমরা তা চাই না।
এ বিষয়ে মিড-ডে মিলের খাবার সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান ‘প্রত্যাশী’র মতলব উত্তর উপজেলার প্রজেক্ট ম্যানেজার আহাম্মেদ তাসনীন আলম বলেন, যদি এ ধরনের ঘটনা ঘটে, আমরা তাৎক্ষণিক ডিমগুলো পরিবর্তন করে দেব। ভবিষ্যতে যাতে এ ধরনের ঘটনা না ঘটে, সে বিষয়ে সতর্ক থাকব।
উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মোহাম্মাদ হারুন অর রশিদ মোল্লা জানান, বিষয়টি জানার পর সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়েছে। যদি দ্রুত এসব ডিম পরিবর্তন না করা হয়, তাহলে বিলের কাগজে স্বাক্ষর করা হবে না। ভবিষ্যতে যেন এ ধরনের ঘটনা না ঘটে, সে জন্য প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
আরটিভি/টিআর