images

দেশজুড়ে

তেল যেন ‘সোনার হরিণ’: নওগাঁয় সড়কে ২ কিলোমিটার লাইন

বৃহস্পতিবার, ০৯ এপ্রিল ২০২৬ , ০২:৫৯ পিএম

নওগাঁয় জ্বালানি তেলের তীব্র সংকট দেখা দিয়েছে। এক লিটার তেলের জন্য হাহাকার করছেন সাধারণ মানুষ। জেলার পাম্পগুলোতে তেল পাওয়ার খবরে আগের দিন মধ্যরাত থেকেই ভিড় জমাচ্ছেন শত শত চালক। 

বৃহস্পতিবার (৯ এপ্রিল) সকালে নওগাঁ পৌর এলাকার মুক্তির মোড় সংলগ্ন সাকিব ফিলিং স্টেশনে দেখা গেছে এক নজিরবিহীন দৃশ্য। তেল সংগ্রহ করতে আসা মোটরসাইকেল ও প্রাইভেটকারের লাইন দীর্ঘ হতে হতে প্রায় দুই কিলোমিটার ছাড়িয়ে গেছে।

আরও পড়ুন
Web-Image---Copy

নওগাঁর ২ হাজার নারীর স্বাবলম্বী হওয়ার গল্প

সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, আগের দিন বুধবার (৮ এপ্রিল) সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে খবর ছড়িয়ে পড়ে যে, বৃহস্পতিবার (৯ এপ্রিল) সকাল থেকে সাকিব ফিলিং স্টেশনে অকটেন ও ডিজেল সরবরাহ করা হবে। এই খবরে মধ্যরাত থেকে চালকরা পাম্পের সামনে এসে লাইন দিতে শুরু করেন। সকাল ৭টায় যখন তেল দেওয়া শুরু হয়, ততক্ষণে লাইনের শেষ প্রান্ত শহরের প্রধান সড়ক ছাড়িয়ে গেছে। দীর্ঘ কয়েক ঘণ্টা লাইনে দাঁড়িয়ে যারা তেল পাচ্ছেন, তারা সেই প্রাপ্তিকে 'সোনার হরিণ' পাওয়ার সঙ্গে তুলনা করছেন।

n2

এ সময় লাইনে দাঁড়িয়ে থাকা সাধারণ ক্রেতাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা গেছে। 

তাদের অভিযোগ, ঘণ্টার পর ঘণ্টা লাইনে দাঁড়িয়ে থাকলেও অনেকে নিয়ম অমান্য করে তেল নিয়ে যাচ্ছেন। বিশেষ করে সরকারি ও আধা-সরকারি পরিচয় দিয়ে অনেকেই লাইনের তোয়াক্কা না করে পাম্প কর্মীদের ওপর চাপ সৃষ্টি করে প্রয়োজনের অতিরিক্ত তেল সংগ্রহ করছেন।

ভুক্তভোগী এক মোটরসাইকেল চালক জানান, আমি রাত ৩টা থেকে এখানে দাঁড়িয়ে আছি। এখন সকাল ১০টা বাজে, কিন্তু এখনো পাম্পের কাছাকাছি পৌঁছাতে পারিনি। অথচ মাঝখান দিয়ে প্রভাবশালী পরিচয়ে অনেকে এসে গ্যালন ভরে তেল নিয়ে চলে যাচ্ছে। 

অন্যদিকে, তেল সংকটের বিষয়ে ফিলিং স্টেশনের কর্মচারীরা ভিন্ন দাবি করছেন। তাদের মতে, বাজারে তেলের কৃত্রিম সংকট তৈরি করার চেষ্টা করছে একদল মানুষ। অনেক মোটরসাইকেল চালক বিভিন্ন পাম্প থেকে আগে থেকেই তেল সংগ্রহ করে মজুদ করছেন। কর্মচারীদের অভিযোগ, বাইকের ট্যাংকি পূর্ণ থাকলেও অনেকে বারবার লাইনে দাঁড়িয়ে তেল নেওয়ার চেষ্টা করছেন।

n3

সাকিব ফিলিং স্টেশনের ম্যানেজার মোশারফ হোসেন জানান, আমাদের স্টেশনে ৪৫০০ লিটার ধারণক্ষমতার অকটেন ট্যাংকে তেল এসেছে মাত্র ৩৫০০ লিটার। অন্যদিকে ডিজেল সরবরাহ করা হয়েছে ৪৫০০ লিটার। এই সীমিত পরিমাণ তেল দিয়ে লাইনে দাঁড়িয়ে থাকা কয়েক হাজার মানুষকে সন্তুষ্ট করা কোনোভাবেই সম্ভব নয়। 

তিনি আরও জানান, মানুষ যদি কেবল তাদের দৈনন্দিন চাহিদা অনুযায়ী তেল নিত এবং মজুদ করার প্রবণতা ত্যাগ করত, তবে এই তীব্র সংকটের সৃষ্টি হতো না।

জ্বালানি তেলের এই 'উভয় সংকটে' নওগাঁর পরিবহন ব্যবস্থা ও কৃষি ক্ষেত্রে নেতিবাচক প্রভাব পড়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। ডিজেল সংকটের কারণে সেচ কার্যক্রম ব্যাহত হওয়ার চিন্তায় আছেন কৃষকরা। পাশাপাশি ব্যক্তিগত ও পণ্যবাহী যানবাহন চলাচল সীমিত হয়ে পড়ায় সাধারণ মানুষের ভোগান্তি এখন চরমে।

সংশ্লিষ্ট মহলের মতে, প্রশাসনের পক্ষ থেকে কঠোর মনিটরিং এবং তেলের সুষম বণ্টন নিশ্চিত করা না গেলে এই সংকট আরও ঘনীভূত হতে পারে। সাধারণ মানুষ দ্রুত এই অচলাবস্থা নিরসনে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করছেন।

আরটিভি/এমএম