সংসারের কাজের ফাঁকে এক টুকরো সুখের খোঁজ। নওগাঁ জেলার রামরায়পুর গ্রামের নিম্নবিত্ত পরিবারগুলোর জীবনচিত্র বদলে দিচ্ছে গার্মেন্টসের ঝুট কাপড়। গত এক দশক ধরে এই পরিত্যক্ত কাপড় থেকে সুতা ছাড়িয়ে বাড়তি আয়ের পথ খুঁজে নিয়েছেন স্থানীয় প্রায় দুই হাজার নারী।
নওগাঁ সদর উপজেলার শৈলগাছি ইউনিয়নের রামরায়পুর গ্রাম। এখানকার মণ্ডলপাড়া কিংবা শেখপাড়ার প্রায় প্রতিটি বাড়ির আঙিনায় এখন চোখে পড়ছে কর্মব্যস্ততার দৃশ্য। কেউ রান্নার ফাঁকে, কেউ সন্তানের দেখাশোনার পাশাপাশি নিপুণ হাতে ছাড়িয়ে চলেছেন ঝুট কাপড়ের সুতা।
বগুড়ার শাওল ও মুরইল গ্রামের ব্যবসায়ীরা ট্রাকে করে এসব পরিত্যক্ত গার্মেন্টস কাপড় গ্রামে পৌঁছে দেন। সেই ঝুট কাপড় থেকেই সুতা বের করে নতুন স্বপ্নের বুনন করছেন গ্রামের নারীরা। তবে কঠোর পরিশ্রমের তুলনায় এই আয়ের অঙ্ক খুব বেশি নয়। নারী কর্মীরা জানান, মোটা সুতা প্রতি কেজি ১৫ টাকা এবং চিকন সুতা কেজি প্রতি ২০ টাকা হারে পারিশ্রমিক দেওয়া হয়। প্রতিদিন তারা গড়ে ৮ থেকে ১০ কেজি পর্যন্ত সুতা তুলতে পারেন।
তারা আরও জানান, সংসারের সব কাজ শেষ করেই এই সুতা তোলার কাজ করতে হয়। এতে দেড় মাসে তাদের আয় হয় প্রায় আড়াই থেকে তিন হাজার টাকা। এই সামান্য আয় দিয়েই মায়েরা সন্তানদের প্রয়োজন মেটাতে চেষ্টা করেন এবং সংসারের খরচে সহায়তা দেন। তাদের দাবি, দীর্ঘ সময় পরিশ্রম করেও যে আয় হয় তা খুবই সীমিত। সরকার যদি মজুরি বৃদ্ধি বা কোনো ধরনের সহায়তা দেয়, তাহলে তারা আরও উপকৃত হবেন।
এ বিষয়ে শৈলগাছি ইউনিয়নের চেয়ারম্যান মোয়াজ্জেম হোসেন সরদার বলেন, ইউনিয়নের সুতা তোলা নারী শ্রমিকদের আয়ের সঙ্গে যদি সরকারের ফ্যামিলি কার্ড যুক্ত করা হয়, তাহলে এসব পরিবার আর্থিকভাবে আরও শক্তিশালী হবে। একই সঙ্গে তাদের সামাজিক অবস্থানেও ইতিবাচক পরিবর্তন আসবে বলে তিনি মনে করেন।
অল্প পুঁজিতে স্বাবলম্বী হওয়ার এই সংগ্রাম শুধু আর্থিক সচ্ছলতার পথই দেখাচ্ছে না, গ্রামীণ নারীদের মাঝে জাগিয়ে তুলছে আত্মবিশ্বাসের নতুন আলো। সরকারের সুদৃষ্টি পেলে এই ক্ষুদ্র শিল্প আরও বিকশিত হবে- এমন প্রত্যাশাই নওগাঁর রামরায়পুরবাসীর।
আরটিভি/এমএইচজে





