images

দেশজুড়ে

শাশুড়িকে হত্যা করে ডাকাতির নাটক, পুত্রবধূর লোমহর্ষক বর্ণনা

শুক্রবার, ১০ এপ্রিল ২০২৬ , ১২:১৭ পিএম

গাজীপুরে শাশুড়িকে শ্বাসরোধে হত্যার পর ডাকাতির নাটক সাজিয়েও শেষ রক্ষা হলো না পুত্রবধূ আরিফা আক্তারের (২৬)। সন্দেহভাজন হিসেবে গ্রেপ্তার হওয়ার পর পুলিশের জিজ্ঞাসাবাদে আরও দুই সহযোগীকে নিয়ে শাশুড়ি আসমা আক্তারকে (৫৫) হত্যার কথা স্বীকার করেন তিনি; সেইসঙ্গে দেন হত্যাকাণ্ডের লোমহর্ষক বর্ণনা।

বৃহস্পতিবার (৯ এপ্রিল) রাতে নিজ কার্যালয়ে এক প্রেস ব্রিফিংয়ে এসব তথ্য জানান গাজীপুর জেলার পুলিশ সুপার মো. শরিফ উদ্দিন। 

তিনি জানান, ডাকাতির ঘটনাটি তদন্ত করতে নেমে পুলিশ নিশ্চিত হয়, এটি ডাকাতি নয়। বরং এটি ছিল একটি সাজানো নাটক। আসমা আক্তারকে হত্যা করে ডাকাতির ঘটনা বলে চালিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করেছেন পুত্রবধূ আরিফা আক্তার উর্মী ও তার সহযোগীরা।

উর্মীকে জিজ্ঞাসাবাদে বের হওয়া তথ্যের ভিত্তিতে গাজীপুর জেলা পুলিশ সুপার আরও জানান, আসমা আক্তার যখন তার রুমে ঘুমিয়ে পড়েন তখন সুযোগ বুঝে আসমা আক্তারের ঘরে প্রবেশ করেন আরিফা আক্তার উর্মী ও তার সহযোগীরা। পরে লকারে রাখা সাড়ে তিন লাখ টাকা ও স্বর্ণালংকার আত্মসাৎ করার জন্য চুরি করে নিয়ে যাওয়ার সময় দেখে ফেলেন আসমা আক্তার। আর এই দেখে ফেলার কারণে আসমা আক্তারের গলায় গামছা পিছিয়ে শ্বাসরুদ্ধ করে হত্যা করা হয়। এ ঘটনায় পুত্রবধূসহ ৩ জনকে গ্রেপ্তার করে জয়দেবপুর থানা পুলিশ।

এদিন দুপুরে পুলিশ আসমা হত্যার তিন আসামিকে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠায়। 

গ্রেপ্তার আসামিরা হলেন পিরুজালী মধ্যপাড়া গ্রামের নিহত শাশুড়ি আছমা আক্তারের পুত্রবধূ আরিফা আক্তার উর্মী, পিরুজালী আলিমপাড়া গ্রামের আব্দুল মান্নানের ছেলে উজ্জ্বল হোসেন (৪৬) ও মধ্যপাড়া গ্রামের আলম মিয়ার স্ত্রী শাহনাজ বেগম (৪৫)।

আরও পড়ুন
Gazipur

গাজীপুরে ডাকাতি, গৃহকর্ত্রীকে শ্বাসরোধে হত্যার অভিযোগ

মামলার প্রধান আসামি আরিফা আক্তারের স্বীকারোক্তিতে তার ঘর থেকে লুট করা টাকা ও স্বর্ণালঙ্কার উদ্ধার করে পুলিশ।

মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা জয়দেবপুর থানার এসআই সুজন রঞ্জন তালুকদার বলেন, মঙ্গলবার দিবাগত রাত ২টার দিকে গাজীপুর সদর উপজেলার পিরুজালী ইউনিয়নের পিরুজালী (মধ্যপাড়া) গ্রামের আসমা আক্তারকে শ্বাসরোধ করে হত্যার অভিযোগ ওঠে। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে নিহতের লাশ উদ্ধার করে। নিহতের একমাত্র ছেলে নাজমুল সাকিবের স্ত্রী আরিফা আক্তারকে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তার কথাবার্তা ও আচরণে সন্দেহ হয়। পরে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য তাকে আটক করা হয়। এক পর্যায়ে আরিফা আক্তার তার শাশুড়িকে হত্যার কথা স্বীকার করে এবং এ ঘটনার সঙ্গে তাকে আরও দুই জন সহযোগিতা করেছে বলে জানায়। পরে পুলিশ বুধবার রাতেই ঘটনায় জড়িত অপর দুই আসামি উজ্জ্বল হোসেন ও শাহনাজ বেগমকে গ্রেপ্তার করে।

জয়দেবপুর থানার পরিদর্শক (অপারেশন) নয়ন কুমার কর বলেন, আসমা আক্তারের স্বামী আনিছুর রহমান তিন জনকে আসামি করে মামলা করেছে। নগদ টাকা এবং তিন ভরি স্বর্ণালংকার লুটের উদ্দেশেই তারা পরিকল্পিতভাবে এ হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটিয়েছে।

আরটিভি/এমএম