গাজীপুর সদরের গৃহকর্ত্রী আছমা আক্তারকে (৫৫) শ্বাসরোধ করে হত্যার অভিযোগ উঠেছে ডাকাতদের বিরুদ্ধে। ডাকাতিতে বাধা দেওয়ায় তারা গৃহকর্ত্রীর পুত্রবধূ আরিফা আক্তারকে মারধর করে বেঁধে রাখে নগদ ৫ লাখ টাকা, তিন ভরি স্বর্ণালংকার এবং মূল্যবান কাপড় লুটে নেয়।
বুধবার (৮ এপ্রিল) সকাল ১০টায় পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে নিহতের মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য গাজীপুর শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠায়।
এর আগে, মঙ্গলবার (৭ এপ্রিল) দিবাগত রাত ২টায় উপজেলার পিরুজালী ইউনিয়নের পিরুজালী (মধ্যপাড়া) গ্রামের আনিছুর রহমানের বাড়িতে এ ডাকাতির ঘটনা ঘটে। নিহত গৃহকর্ত্রী গ্রামের আনিছুর রহমানের স্ত্রী।
জানা যায়, ডাকাতির সময় বাড়িতে কোনো পুরুষ সদস্য ছিলেন না।
পুত্রবধূ আরিফা আক্তার বলেন, রাতে শাশুড়ি আছমা আক্তারের চিৎকারে তার ঘুম ভাঙে। দৌড়ে এসে তিনি দেখেন ৫–৭ জন লোক বাড়িতে ঢুকেছেন। তাদের সবার মুখ কালো কাপড় দিয়ে বাঁধা ছিল এবং হাতে লম্বা চাপাতি ছিল। এর মধ্যে ৩–৪ জন ঘরের ভেতরে প্রবেশ করে অস্ত্রের মুখে তাকে জিম্মি করে বেঁধে ফেলেন। শাশুড়ি চিৎকার করলে ডাকাতরা তার গলায় গামছা পেঁচিয়ে খাটের সঙ্গে বেঁধে রাখেন। পরে তারা ঘর থেকে নগদ ৫ লাখ টাকা, তিন ভরি স্বর্ণালংকার ও মূল্যবান কাপড় লুটে নেন তারা। ডাকাতরা তাকে ও তার শাশুড়িকে মারধর করেন। যাওয়ার সময় তারা আরিফার শরীরের বিভিন্ন স্থানে এলোপাতাড়ি লাথি মারলে তিনি অজ্ঞান হয়ে যান।
নিহতের ছেলে নাজমুল সাকিব বলেন, রাতে আমি কর্মস্থলে চলে যাই। ডিউটি শেষে সকাল ৭টার দিকে বাড়িতে এসে দেখি মা মৃত এবং স্ত্রী অজ্ঞান অবস্থায় পড়ে আছে। পরে স্ত্রীকে হাসপাতালে নেওয়ার পর তার জ্ঞান ফিরলে ঘটনার বিস্তারিত জানতে পারি।
নিহতের স্বামী আনিছুর রহমান বলেন, আমি স্থানীয় একটি স্কুলে রাতে নিরাপত্তা প্রহরীর চাকরি করি। সকালে খবর পাই ডাকাতরা আমার বাড়িতে হামলা করে স্ত্রীর গলায় গামছা পেঁচিয়ে শ্বাসরোধে হত্যা করেছেন। বাড়িতে এসে দেখি ছেলের বউকেও বেঁধে রাখা হয়েছে। তারা ঘরে থাকা নগদ পাঁচ লাখ টাকা, তিন ভরি স্বর্ণালংকার ও মূল্যবান কাপড় লুটে নিয়েছেন।
জয়দেবপুর থানার পরিদর্শক (অপারেশন) নয়ন কুমার কর জানান, ডাকাতির খবর পেয়ে পুলিশ সুপার (এসপি) শরিফ উদ্দিন ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন। নিহতের মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য গাজীপুর শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। এ বিষয়ে পুলিশের একাধিক টিম তদন্ত করছে। তারা বলেন, খুব দ্রুতই প্রকৃত ঘটনা উদ্ঘাটন করা সম্ভব হবে। পরবর্তী আইনগত বিষয় প্রক্রিয়াধীন।
আরটিভি/টিআর




