images

দেশজুড়ে

পাতা বেগমের ঘরে মিলল বিরল প্রজাতির তক্ষক, অতঃপর...

বুধবার, ১৫ এপ্রিল ২০২৬ , ০৫:২৩ পিএম

গোপালগঞ্জ সদর উপজেলার একটি ঘরের ভেতর থেকে বিলুপ্তপ্রায় প্রজাতির বড় আকৃতির একটি তক্ষক উদ্ধার করে নিরাপদে অবমুক্ত করা হয়েছে।

বুধবার (১৫ এপ্রিল) দুপুরে সদর উপজেলা পরিষদ চত্বরে পুকুরপাড়ের মেহগনি বাগানে প্রাণীটি অবমুক্ত করেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) কৌশিক আহমেদ।

এর আগে বুধবার ভোর সাড়ে ৫টার দিকে উপজেলার লতিফপুর ইউনিয়নের ঘোষেরচর উত্তরপাড়া এলাকায় মো. তবিবুর রহমান মোল্লা ও পাতা বেগম দম্পতির ঘর থেকে তক্ষকটি উদ্ধার করেন পরিবারের সদস্যরা।

পাতা বেগম জানান, ভোরে ফজরের নামাজ আদায়ের জন্য উঠে ঘরের ভেতর শব্দ শুনতে পান তিনি। পরে পরিবারের অন্য সদস্যদের ডাকলে তারা বড় আকৃতির একটি তক্ষক দেখতে পান। পরে সেটিকে একটি খাঁচায় আটকে রেখে দুপুরে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয়ে নিয়ে যান। উপজেলা প্রশাসন, বন বিভাগের সদস্যদের সঙ্গে নিয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা কৌশিক আহমেদ প্রাণীটিকে উপজেলা পরিষদের পুকুরপাড়ের মেহগনিবাগানে অবমুক্ত করেন।

ইউএনও কৌশিক আহমেদ গণমাধ্যমকে বলেন, গিরগিটি প্রজাতির এই প্রাণীটির ইংরেজি নাম গ্যাকো (Gekko)। এটি নির্বিষ এবং বিপন্ন প্রজাতির প্রাণী। সাধারণত স্যাঁতসেঁতে পরিবেশ, বড় গাছের ফোকর, বাড়ির ছাদ বা ঘরের কোণে এদের বসবাস।

আরও পড়ুন
Web-Image---Copy

সোনারগাঁয় ৩ দিনব্যাপী ‘বউ মেলা’ শুরু

তিনি জানান, উদ্ধার হওয়া তক্ষকটির দৈর্ঘ্য প্রায় ১২ ইঞ্চি, যা সাধারণের তুলনায় বড়। এ ধরনের তক্ষক খুব কমই দেখা যায়।

তিনি আরও বলেন, তক্ষককে ঘিরে একটি অসাধু চক্র দীর্ঘদিন ধরে মানুষের মধ্যে ভুল ধারণা ছড়িয়ে প্রতারণামূলক ব্যবসা করে আসছে। এ বিষয়ে সবাইকে সচেতন থাকতে হবে।

সবাইকে বন্যপ্রাণী সংরক্ষণে সচেতন হওয়ার আহ্বান জানিয়ে গোপালগঞ্জ বন বিভাগের রেঞ্জ কর্মকর্তা বিবেকানন্দ মল্লিক গণমাধ্যমকে বলেন, প্রাকৃতিক ভারসাম্য রক্ষায় তক্ষকের মতো বন্যপ্রাণীর গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে। কিন্তু একশ্রেণির অসাধু ব্যক্তি এটিকে মূল্যবান প্রাণী হিসেবে প্রচার করে মানুষকে বিভ্রান্ত করছে।

তক্ষক সম্পর্কে বাংলাদেশ বন বিভাগের বন্যপ্রাণী ও জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ কর্মকর্তা এবং তরুণ বন্যপ্রাণী গবেষক জোহরা মিলা বলেন, তক্ষক (Gecko) গিরগিটি প্রজাতির র্নিবিষ নিরীহ বন্যপ্রাণী। সাধারণত পুরনো বাড়ির ইটের দেয়াল, ফাঁক-ফোকড় ও বয়স্ক গাছে এরা বাস করে। কীটপতঙ্গ, টিকটিকি, ছোট পাখি ও ছোট সাপের বাচ্চা খায়। আন্তর্জাতিক প্রাকৃতিক সম্পদ সংরক্ষণ সংঘের (আইইউসিএন) লাল তালিকা অনুযায়ী এটি বিপন্ন বন্যপ্রাণী।

তিনি আরও বলেন, তক্ষকের দাম ও তক্ষক দিয়ে তৈরি ওষুধ নিয়ে ব্যাপক গুজব ছড়ানো হয়েছে। আর গুজবে বিশ্বাস করে এক শ্রেণির লোকেরা রাতারাতি ধনী হবার স্বপ্নে তক্ষক শিকারে নেমেছে। মূলত ব্যাপক নিধনই তক্ষক বিলুপ্তির প্রধান কারণ। তক্ষক দিয়ে তৈরি বিভিন্ন ওষুধের উপকারিতা নিয়ে যা শোনা যায়, বৈজ্ঞানিকভাবে তার কোনো ভিত্তি নেই। তারপরও এই গুজবটির কারণেই প্রাণীটি হারিয়ে যেতে বসেছে।

আরটিভি/এমএইচজে