images

দেশজুড়ে

‘ছুটির ঘণ্টা’ সিনেমা যেন বাস্তবে, বাথরুমে আটকে ছিল শিশু

বৃহস্পতিবার, ১৬ এপ্রিল ২০২৬ , ১০:০৮ এএম

১৯৮০ সালে মুক্তি পাওয়া শিশুতোষ চলচ্চিত্র ‘ছুটির ঘণ্টা’র কথা মনে আছে নিশ্চয়ই। সাড়া জাগানো বাংলা সিনেমাটির গল্পে স্কুলের বাথরুমে আটকে পড়া এক শিশুর হৃদয়বিদারক পরিণতি কাঁদিয়েছে অনেককেই। ঈদের ছুটি ঘোষণার দিন স্কুলের বাথরুমে তালাবন্ধ হয়ে আটকে পড়ে ১২ বছরের শিশু। সিনেমায় দীর্ঘ ১১ দিনের ছুটি শেষ হওয়ার পর শিশুটির মরদেহ উদ্ধার করা হয়। তবে মেহেরপুরের ঘটনাটি শেষ পর্যন্ত কোনো বেদনার কারণ হয়নি। বাথরুমে আটকা তৃতীয় শ্রেণির শিশুটিকে কয়েক ঘণ্টা পর পরিবার ও স্থানীয়দের সহযোগিতায় উদ্ধার করা হয়।

আরও পড়ুন
palalen-baba

লঞ্চে শিশুকে রেখে উধাও 'বাবা', ঘটনা কী

বুধবার (১৫ এপ্রিল) বিকেলে ঘটনাটি ঘটে মেহেরপুর শহরের বিএম মডেল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে।

জানা গেছে, বিকেল ৪টায় স্কুল ছুটি হলে শিক্ষকরা যথারীতি বিদ্যালয় ত্যাগ করেন। তখন তৃতীয় শ্রেণির শিক্ষার্থী সাদিয়া বাথরুমে আটকে পড়ে। পরে শিশুটি ভয়ে কান্নাকাটি ও চিৎকার শুরু করে। তার সেই চিৎকার পথচারীরা শুনতে পেয়ে এগিয়ে আসেন। এদিকে শিশুটির বাবা মনিরুল ইসলাম খোঁজ নিতে স্কুলে আসেন। পরে এলাকাবাসীর সহযোগিতায় বিদ্যালয়ের মূল ফটক খুলে ভেতরে প্রবেশ করা হয়। কিন্তু বিদ্যালয় ভবনের কলাপসিবল  দরজা ভেঙে শিশুটিকে বের করা সম্ভব না হওয়ায় স্থানীয়রা এক পর্যায়ে স্কুলের এক শিক্ষিকাকে ডেকে আনেন। ওই শিক্ষিকার উপস্থিতিতে অবশেষে সাদিয়াকে উদ্ধার করা হয়।

দায়িত্বপ্রাপ্ত শিক্ষকরা স্কুল ভবন ও মূল ফটকে তালা দিয়ে চলে যাওয়ার ফলে এমন পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়।

এ বিষয়ে জানতে যোগাযোগ করা হলে বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ ফোন ধরেনি।

রাত ১২টার দিকে ঘটনাস্থলে উপস্থিত হন মেহেরপুর সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) খায়রুল ইসলাম। তিনি স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে ঘটনার প্রাথমিক তথ্য নেন এবং বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষককের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করলেও সাড়া পাননি।

ইউএনও বলেন, মেয়েটি সুস্থ অবস্থায় উদ্ধার হয়েছে, এটাই স্বস্তির বিষয়। তবে ঘটনাটি গুরুত্ব সহকারে দেখা হবে। বৃহস্পতিবার এ বিষয়ে শিক্ষক ও অভিভাবকদের সঙ্গে কথা বলা হবে।

আরটিভি/টিআর