শুক্রবার, ১৭ এপ্রিল ২০২৬ , ০৮:৩১ পিএম
ফরিদপুরের ভাঙ্গায় ইতালি পাঠানোর প্রলোভন দেখিয়ে যুবককে বিদেশে পাচার, বিপুল অর্থ এবং জমি আত্মসাতের অভিযোগে একটি মানবপাচারকারী চক্রের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে।
ভুক্তভোগী মিনহাজ মিয়ার বাবা মনিরুজ্জামান মিয়া বাদী হয়ে মানবপাচার প্রতিরোধ আইনে চারজনকে আসামি করে এই মামলা করেন।
মামলার প্রেক্ষিতে পুলিশ বৃহস্পতিবার (১৬ এপ্রিল) রাতে অভিযান চালিয়ে জসিম সরদার (৪৭) নামের এক আসামিকে গ্রেপ্তার করেছে। শুক্রবার (১৭ এপ্রিল) বিকেলে তাকে আদালতের মাধ্যমে জেলহাজতে পাঠানো হয়। মামলার অন্য আসামিরা হলেন, চক্রের মূল হোতা মনির সরদার, তার স্ত্রী পপি আক্তারী ও সহযোগী রেজাউল কাজী।
মামলা সূত্রে জানা যায়, ভাঙ্গা পৌরসভার দুই নম্বর ওয়ার্ডের নওপাড়া এলাকার মনিরুজ্জামান মিয়া (৫১) তার ছেলে মো. মিনহাজ মিয়াকে (২১) বৈধভাবে বিমানে ইতালি পাঠানোর জন্য স্থানীয় কয়েকজন দালালের সঙ্গে যোগাযোগ করেন। অভিযুক্তরা ইতালি পাঠানোর আশ্বাস দিয়ে প্রথমে ২৬ লাখ টাকা দাবি করে এবং ভুক্তভোগী পরিবার তাদের কথায় বিশ্বাস করে ধাপে ধাপে সেই অর্থ প্রদান করে।
অভিযোগ অনুযায়ী, লিবিয়ায় অবস্থানরত মূল আসামি মনির সরদারের নির্দেশে তার স্ত্রী ও সহযোগীরা বাংলাদেশে বসে অর্থ সংগ্রহ ও বিদেশে পাঠানোর প্রক্রিয়া নিয়ন্ত্রণ করেন।
মামলার বাদী মনিরুজ্জামান মিয়া বলেন, গত ২০২৫ সালের অক্টোবর মাসে প্রথম দফায় ২৬ লাখ টাকা পরিশোধ করি। এরপর ২০২৫ সালের নভেম্বর মাসে মিনহাজ মিয়াকে ঢাকা থেকে সরাসরি ইতালি না পাঠিয়ে দুবাই হয়ে লিবিয়ায় নিয়ে আটকে রাখে।
পরবর্তীতে মিনহাজকে মাফিয়ার হাতে তুলে দিয়ে আমাদের কাছে নির্যাতনের ভিডিও পাঠায় এবং আরও ৬ লাখ টাকা দাবি করা হয়। নির্যাতনের ভয় দেখিয়ে চাপ সৃষ্টি করে ৭ শতাংশ জমি রেজিস্ট্রি ও নগদ অর্থসহ নগদ ৬ লাখ টাকা তুলে দিই। আমার ছেলের কোনো খোঁজ পাচ্ছি না। চক্রটি পরে আরও ১৮ লাখ টাকা দাবি করেন।
তিনি বলেন, ৩২ লাখ টাকা নেওয়ার পরও আমার ছেলেকে দেশে ফেরত না পাঠিয়ে পুনরায় আরও টাকা দাবি করা হয়। বর্তমানে আমার ছেলের সঙ্গে আমাদের প্রায় ৪ মাস ধরে কোনো যোগাযোগ করতে পারি নাই। আমাদের ধারণা টাকার জন্য আমার ছেলেকে হত্যা করেছে। আমি এ ঘটনা সঠিক বিচার চাই।
তিনি আরও বলেন, এই চক্রটি অনেক মানুষের নিকট থেকে কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়েছে। অনেক লোকজনের কোনো হদিস পাওয়া যায়নি।
এ বিষয়ে ভাঙ্গা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ মিজানুর রহমান জানান, মানবপাচার প্রতিরোধ আইনে চারজনকে আসামি করে একটি মামলা গ্রহণ করা হয়েছে। ইতোমধ্যে জসিম সরদার নামের একজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে এবং শুক্রবার তাকে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। অন্য আসামিদের গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
তিনি বলেন, বিষয়টি মানবপাচার চক্রের আন্তর্জাতিক সংযোগ থাকতে পারে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে। তদন্ত শেষে পুরো ঘটনার প্রকৃত চিত্র জানা যাবে।
আরটিভি/এমআই