বুধবার, ২২ এপ্রিল ২০২৬ , ০৭:৩৫ পিএম
সুনামগঞ্জের বিশ্বম্ভরপুরে ভাড়ায় চালিত এক মোটরসাইকেলচালককে গলা কেটে হত্যা করেছে দুর্বৃত্তরা।
নিহত চালকের নাম আনছর আলী (২৮), তিনি বিশ্বম্ভরপুর উপজেলার সলুকাবাদ ইউনিয়নের চালবন গ্রামের মো. মানিক মিয়ার ছেলে।
বুধবার (২২এপ্রিল) সকালে নিহতদের পাশের গ্রাম ভাদেরটেক গ্রামের পূর্ব দিকের হাওরের জমি থেকে তার গলাকাটা লাশ উদ্ধার করা হয়েছে। পুলিশ ও স্থানীয় লোকজনের ধারণা মঙ্গলবার রাতের কোন এক সময়ে তাকে এখানে খুন করা হয়েছে।
নিহতের পরিবার ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, আনছার আলী পেশায় মোটরসাইকেল চালক ছিলেন। তিনি ভাড়ায় যাত্রী পরিবহন করতেন। প্রতিদিনের ন্যায় মঙ্গলবার সকালে পাশের ভাদেরটেক গ্রামের দুই জন শ্রমিককে যাদুকাটা নদীর লাউড়েরগড় এলাকায় দিয়ে আসেন, পরে বিকেলে তাদের আবার লাউড়েরগড় থেকে ভাদেরটেক বাজারে পৌঁছে দেন।
এরপর তিনি রাতে ভাদেরটেক বাজারের গ্রামীণ রেস্টুরেন্টে বসে নাস্তা করতে দেখেন স্থানীয়রা। কিন্তু, রাতে আর তিনি বাড়ি ফিরে যাননি। পরিবারের লোকজন তার মোবাইল ফোন বন্ধ পান। সকালে ভাদেরটেক গ্রামের ওই শ্রমিকরা তাকে ফোন করে না পেয়ে বাজারে গিয়ে তার মোটরসাইকেলটি দেখতে পান।
এদিকে স্থানীয় লোকজন বুধবার সকালে ভাদেরটেক বাজার থেকে মণিপুরী ঘাট যাওয়ার রাস্তায় হাওরের ভুট্টা জমিতে আনছর আলীর গলাকাটা লাশ দেখতে পান।
খবর পেয়ে পুলিশ ও তার পরিবারের লোকজন ঘটনাস্থলে যান। এরপর পুলিশ তার লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য সুনামগঞ্জ সদর হাসপাতালে পাঠানো হয়।
ভাদেরটেক গ্রামের বাসিন্দা সাবেক ইউপি সদস্য আব্দুল হাই জানান, আনছর আলী আমাদের পাশের গ্রাম চালবনের ছেলে। সে মোটরসাইকেলে যাত্রী পরিবহন করতো। মঙ্গলবার রাতে তাকে বাজারে নাস্তা করতে দেখেছেন অনেকেই। আজ বুধবার সকালে গ্রামের পূর্ব দিকে হাওরের তার গলা কাটা লাশ দেখতে পান লোকজন। তার মোটরসাইকেলটি নাকি বাজারেই পড়ে আছে।
নিহত আনছর আলীর মামা চালবনের বাসিন্দা দ্বীন ইসলাম বলেন, আমার ভাগ্নে মোটরসাইকেলে যাত্রীদের বিভিন্ন জায়গায় নিয়ে যেত। মঙ্গলবার বিকেলে ভাদেরটেক গ্রামের শ্রমিকদের লাউড়েরগড় থেকে নিয়ে এসেছে। পরে নাকি ভাদেরটেক বাজারের এক দোকানে নাস্তা করেছে কিন্তু রাতে বাড়ি যায়নি। রাতে তার মোবাইল বন্ধ পাওয়া গেছে। আজ সকালে ভাদেরটেক গ্রামের পাশে তার গলা কাটা লাশ পাওয়া গেছে। আমাদের ধারণা মঙ্গলবার রাতে ঝড়ের আগে কোন এক সময়ে তাকে পরিকল্পিতভাবে খুন করে জমিতে ফেলে রেখেছে।
তিনি আরও বলেন, নিহত আনছর আলীর গলায় ছুরিকাঘাতের পাশাপাশি তার পেছোনো ছিল।
বিশ্বম্ভরপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জাহিদুল ইসলাম ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, খবর পেয়ে আনছর আলীর লাশ উদ্ধার করা হয়েছে। তার গলায় আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য সুনামগঞ্জ সদর হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। ঘটনার তদন্ত চলছে। তার সাথে এলাকার কারো কোন বিরোধ চলছিল বলে জানা যায়নি।
আরটিভি/এমএম