images

দেশজুড়ে

২৫ বছরের জমানো টাকায় কাঠের সেতু নির্মাণ, প্রশংসায় ভাসছেন কুলি

বৃহস্পতিবার, ২৩ এপ্রিল ২০২৬ , ০৭:০৪ পিএম

রংপুরের উলিপুরে ২৫ বছর ধরে টাকা জমিয়ে কাঠের সেতু নির্মাণ করলেন কুলি আব্দুল করিম। তার এই উদ্যোগ এলাকাবাসীর যাতায়াতের নতুন দিগন্ত খুলে দিয়েছে। এমন মহৎ কাজের জন্য এলাকায় প্রশংসায় ভাসছেন তিনি।

সরেজমিনে জানা গেছে, আব্দুল করিম কুড়িগ্রামের উলিপুর পৌরসভার জোনাইডাঙ্গা এলাকার ৮ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা। তার এলাকা উলিপুর রেলস্টেশন সংলগ্ন দক্ষিণাংশে দীর্ঘদিন ধরে একটি ঝুঁকিপূর্ণ ও চলাচলের অনুপযোগী রেলসেতু দিয়ে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করতেন শিক্ষার্থী,রোগীসহ সাধারণ মানুষ। প্রতিনিয়ত দুর্ঘটনার আশঙ্কা নিয়ে তারা পারাপার হতেন। তবে, দীর্ঘ সময় ধরে সমস্যাটি বিদ্যমান থাকলেও সরকারি কোনো উদ্যোগ চোখে পড়েনি। দীর্ঘ দুই যুগেরও বেশি সময় ধরে চলা স্থানীয় মানুষের দুর্ভোগের বিষয়টি হৃদয় দিয়ে অনুধাবন করেন।  

st2

এমন অবস্থায় স্থানীয় কুলি শ্রমিক আব্দুল করিম নিজ উদ্যোগে সেতু নির্মাণের সিদ্ধান্ত নেন। প্রায় ২৫ বছরের সঞ্চয়, শখের পুরোনো মোটরসাইকেল ও একটি খাসি বিক্রি করে তিনি তিন লাখ টাকা ব্যয়ে শুরু করেন বুড়ি তিস্তা নদীর ১২০ ফুট কাঠের সেতু নির্মাণের কাজ। পরবর্তীতে অর্থ সংকটে পড়ে আরও এক লাখ টাকা ধার নিয়ে কাজ সম্পন্ন করেন তিনি। 

অবশেষে তার এই উদ্যোগে নির্মিত কাঠের সেতুটি এলাকাবাসীর দীর্ঘদিনের দুর্ভোগ লাঘব করেছে। এখন মানুষ নিরাপদে চলাচল করতে পারছেন এবং দৈনন্দিন জীবনযাত্রায় এসেছে স্বস্তি। 

আরও পড়ুন
KURIGRAM

ধানক্ষেতে জাতীয় স্মৃতিসৌধের নকশা, আলোচনায় স্কুল শিক্ষক

শুক্রবার (১৭ এপ্রিল) আব্দুল করিমের মায়ের হাত ধরে সেতুটির আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন তিনি। 

এ উপলক্ষে আয়োজিত দোয়া মাহফিলে স্থানীয় সহস্রাধিক মানুষ অংশ নেন। তার এই মানবিক উদ্যোগে এলাকায় প্রশংসায় ভাসছেন তিনি। সরকারি সহায়তার অপেক্ষায় না থেকে একজন সাধারণ শ্রমিকের এমন উদ্যোগ সত্যিই অনুকরণীয় দৃষ্টান্ত।

স্থানীয় বাসিন্দা সাজিরণ বেওয়া বলেন, এল্যা হ্যামার খুব সুবিধা হইছে,আগোত তিন মাইল ঘুরি যাওয়া নাগতো নাহইলে ভয়ে ভয়ে রেলের লোহার ব্রীজ পাড় হওয়া নাগতো।

একই গ্রামের নসর উদ্দিন বলেন, আব্দুল করিম হামার ভাইস্তা লেবারি করে, কাঁচা মালের বস্তাগুলো উবায় ওই মটর সাইক্যালত করি। এল্যা মানুষের উপকারের জন্যে মটর সাইকেল ব্যাচে ব্রীজ করি দিলে।  

st3

স্থানীয় কলেজ শিক্ষার্থী নাজমুল বলেন, আমরা ভাবতেও পারিনি একজন কুলি এই কাজটা করবে। উনি আমাদের অনেক বড় কাজ করেছেন। 

আব্দুল করিম বলেন, রেলের ওই লোহার ব্রীজটা দিয়ে যাতায়াত খুবই ঝুঁকিপূর্ণ। প্রায়ই ছোটমোট দুর্ঘটনা ঘটতো। শিক্ষার্থীদের বিদ্যালয় যাওয়া আসা ঝুঁকিপূর্ণ ও কষ্টকর ছিল। মানুষের কষ্ট দেখে আর বসে থাকতে পারি নাই, নিজের যা ছিল– তা দিয়েই এই সেতু বানিয়েছি। বিনিময়ে কিছু চাই না,শুধু দোয়া চাই।

উলিপুর পৌরসভার সাবেক কমিশনার জিহাদ আলী বলেন, কুলি আব্দুল করিম ব্যক্তিগত উদ্যোগে কাঠের সেতু নির্মাণ করেছেন দেখেছি। নিঃসন্দেহে এটি ভালো উদ্যোগ। আমাদের এটি নির্মাণ করার পরিকল্পনা ছিল। সরকার বিগত পৌর সভার মেয়র-কমিশনারদের পদ আকস্মিক বাতিল করার কারণে পরে সম্ভব হয়নি।

উলিপুরের ভারপ্রাপ্ত উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও সহকারি কমিশনার (ভূমি) এস এম মেহেদি হাসান বলেন, সে যে তার নিজের জমানো টাকা ও মটর সাইকেল বিক্রি করে প্রায় সাড়ে তিন লাখ টাকা খরচ করে মানুষের চলাফেরার একটা ব্যবস্থা দিয়েছে নিঃসন্দেহে এটি প্রসংশনীয়।

আরটিভি/এমএম