বৃহস্পতিবার, ২৩ এপ্রিল ২০২৬ , ১১:৫৪ পিএম
হবিগঞ্জের মাধবপুর উপজেলার বুল্লা ইউনিয়নের প্রত্যন্ত অঞ্চলে অবস্থিত মাঝিশাইর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে গড়ে উঠেছে এক ব্যতিক্রমী দৃষ্টান্ত। বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষিকা তন্নী রহমান এবং তার স্বামী সহকারী শিক্ষক আলাউদ্দিন আল আজাদ খান—দু’জনেই শিক্ষা ও ব্যক্তিজীবনে পারস্পরিক সম্মান ও সহযোগিতার অনন্য উদাহরণ।
বিদ্যালয়ে প্রধান শিক্ষিকা হিসেবে তন্নী রহমান দক্ষতা, নেতৃত্ব ও আন্তরিকতার মাধ্যমে সহকর্মীদের আস্থা অর্জন করেছেন। তিনি শিক্ষক সমিতির সাবেক নির্বাচিত সাধারণ সম্পাদক হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেছেন। পাশাপাশি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তার উপস্থাপনা ও বিভিন্ন সৃজনশীল কর্মকাণ্ড তাকে এলাকায় জনপ্রিয়তার শীর্ষে নিয়ে গেছে।
অন্যদিকে, তার স্বামী আলাউদ্দিন আল আজাদ খান একজন ঐতিহ্যবাহী শিক্ষক পরিবারের সন্তান। স্ত্রীর অধীনে শিক্ষকতা করলেও তাদের সম্পর্কে নেই কোনো হীনমন্যতা; বরং পারস্পরিক শ্রদ্ধা, সহযোগিতা ও বোঝাপড়াই তাদের সম্পর্ককে করেছে আরও দৃঢ়। বিদ্যালয়ে প্রধান শিক্ষিকার নির্দেশনা তিনি একজন সহকর্মী হিসেবে নিষ্ঠার সঙ্গে পালন করেন।
পারিবারিক জীবনেও তন্নী রহমান সমানভাবে দায়িত্বশীল। শিক্ষকতার পাশাপাশি তিনি একজন গৃহবধূ হিসেবে সংসারের দায়িত্ব, ফুলবাগান পরিচর্যা, শিল্পচর্চা এবং নৈতিক মূল্যবোধের চর্চায় নিজেকে নিয়োজিত রাখেন। অন্যদিকে, স্বামীও তাকে প্রতিটি ক্ষেত্রে সহযোগিতা করে যাচ্ছেন।
তাদের নিয়ে কিছু সমালোচক বিভিন্ন সময় নেতিবাচক মন্তব্য করলেও, বাস্তবে তারা অত্যন্ত সরল, মানবিক ও ধর্মপ্রাণ দম্পতি হিসেবে পরিচিত।
এ বিষয়ে তন্নী রহমান বলেন, এসবের প্রচার আমি চাই না। অনেক সময় মানুষ ভুল বুঝে। তবে প্রত্যন্ত অঞ্চলের শিশুদের পড়াশোনা শেখাতে পারাটাই আমার সবচেয়ে বড় আনন্দ। আমি বিশ্বাস করি, স্বামীর সহযোগিতাই স্ত্রীর শক্তি।
উপজেলা শিক্ষা অফিসের সহকারী প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা কবির হোসেন জানান, মেধাবী ও কর্মঠ মানুষ সবসময়ই আলোচিত হন। পেশাগতভাবে তারা দু’জনই সফল।
স্থানীয় শিক্ষক নেতা ও সহকর্মী নয়ন চৌধুরী বলেন, তন্নী ম্যাডাম বংশগতভাবেই প্রতিভাবান। তার স্বামীও মেধার অনুরাগী। তারা দু’জনই সেরা শিক্ষক হওয়ার যোগ্য।
এ যেন এক বাস্তব গল্প—যেখানে স্কুলে স্ত্রী নেতৃত্ব দেন, আর বাড়িতে স্বামী-স্ত্রীর পারস্পরিক সম্মান, ভালোবাসা ও সহযোগিতায় গড়ে ওঠে এক সুখী ও অনুকরণীয় সংসার।
আরটিভি/এমএম