রোববার, ২৬ এপ্রিল ২০২৬ , ০৯:১৭ পিএম
নদীতে নিখোঁজ হওয়ার ছয় মাস পার হলেও ভোলার মিজানুর রহমানের (৩২) কোনো সন্ধান পাওয়া যায়নি। মাছ ধরতে গিয়ে নিখোঁজ হওয়া মিজানের পরিবার চরম অনিশ্চয়তা, অপেক্ষার যন্ত্রণা এবং তীব্র অভাবের মধ্য দিয়ে দিন কাটাচ্ছে।
মিজান ভোলার চরফ্যাশন উপজেলার হাজারীগঞ্জ ইউনিয়নের ৭নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা মো. নান্নু মোল্লার ছেলে।
জানা গেছে, মিজান ছিলেন পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তি। স্ত্রী রোজিনা ও তিন সন্তান ফাতেমা, আয়েশা এবং বিবি পাবিয়া এই পরিবারটির সংসার চলত তার আয়েই। নদীতে মাছ ধরার কাজ করতেন তিনি। ঘটনার দিনও প্রতিদিনের মতোই সকালে বের হয়েছিলেন। কিন্তু সেই যাওয়া আর ফেরা হয়নি। অর্থনৈতিক সংকট এখন এই পরিবারের সবচেয়ে বড় বাস্তবতা। সংসারের খরচ চালাতে হিমশিম খেতে হচ্ছে মিজানের স্ত্রীকে। কোনো স্থায়ী আয় না থাকায় ধার-দেনা করে দিন পার করছেন তারা। কখনও আত্মীয়-স্বজন, কখনও প্রতিবেশীদের সহায়তায় চলছে খাবারের ব্যবস্থা। কিন্তু এই সহায়তাও নিয়মিত নয়।
পরিবারটি এখনও সরকারি সহায়তার অপেক্ষায় রয়েছে।
তারা দাবি করছেন, অন্তত কোনো ধরনের আর্থিক সহায়তা বা পুনর্বাসনের ব্যবস্থা করা হলে তারা নতুন করে বাঁচার আশা খুঁজে পেতেন। স্থানীয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে প্রাথমিক কিছু সহযোগিতা দেওয়া হলেও তা দীর্ঘমেয়াদি নয় বলে অভিযোগ পরিবারের।
মিজানের স্ত্রী রোজিনা জানান, স্বামীর মৃত্যুর পর তিনটি সন্তানকে নিয়ে তিনি এখন চরম কষ্টে দিন কাটাচ্ছেন। জীবনের প্রতিটি দিন যেন তার জন্য এক নতুন সংগ্রাম। সংসারের একমাত্র উপার্জনক্ষম মানুষটি চলে যাওয়ার পর পুরো পরিবারের দায়িত্ব তার কাঁধে এসে পড়েছে। সীমিত সামর্থ্য আর অনিশ্চিত ভবিষ্যতের মাঝে তিনি চেষ্টা করে যাচ্ছেন সন্তানদের মুখে দু’বেলা খাবার তুলে দিতে।
রোজিনা বলেন, মানুষের সহযোগিতার ওপর নির্ভর করেই আমদের সংসার কোনোভাবে চলছে। এখন পর্যন্ত আমরা সরকারিভাবে কোনো ধরনের সহযোগিতা পাইনি। তিন মেয়ের মধ্যে বড় মেয়ে ফাতেমার বয়স ১৩ বছর। বয়সের সাথে সাথে মেয়ে বড় হচ্ছে, আর সেই সঙ্গে আমর দুশ্চিন্তাও বাড়ছে।
স্থানীয়রা জানান, মিজান ছিলেন সৎ ও পরিশ্রমী মানুষ। তার এমন হঠাৎ নিখোঁজ হওয়া পুরো এলাকাকেই নাড়া দিয়েছে। অনেকেই প্রথমদিকে পরিবারটির পাশে দাঁড়ালেও সময়ের সঙ্গে সঙ্গে সেই সহায়তা কমে এসেছে। তবুও কিছু সহৃদয় ব্যক্তি মাঝে মাঝে সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দেন।
উপজেলা সমাজ সেবা কর্মকর্তা মামুন হোসেন বলেন, পরিবারটির খোঁজ-খবর নিয়ে সামাজ সেবা অধিদপ্তর থেকে সযোগিতা করা হবে।
উপজেলা সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা জয়ন্ত কুমার অপু বলেন, নিখোঁজ জেলের নামে জেলে কার্ড থাকলে তার পরিবারকে সরকারিভাবে আর্থিক সহযোগিতা করা সম্ভব হবে।
আরটিভি/এমএম