খাজনা নিয়ে একসময় হাটে-বাজারে চলত দাঙ্গা-হাঙ্গামা, ছিল অভিযোগ আর অসন্তোষ। ব্যবসায়ীদের জন্য এটি ছিল অতিরিক্ত চাপ—অনেকের কাছে যেন এক ধরনের নীরব অত্যাচার। কিন্তু স্বাধীনতার ৫৪ বছর পর অবশেষে এসেছে স্বস্তির খবর। স্থানীয় সংসদ সদস্যের উদ্যোগে খাজনা মওকুফের এই সিদ্ধান্ত শুধু একটি ঘোষণা নয়, ভোলার চরফ্যাশনবাসীর ভোগান্তি থেকে মুক্তির এক নতুন বার্তা। ফলে হাটে বসা ব্যবসায়ী থেকে সাধারণ ক্রেতা— সবার মাঝেই দেখা দিয়েছে স্বস্তির নতুন আলো।
চরফ্যাশনের গ্রামীণ অর্থনীতির বড় ভরসা এই হাটবাজারগুলোতে কৃষকরা নিয়ে আসেন মাঠের ফসল, জেলেরা বিক্রি করেন নদীর মাছ, আর ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীরা চালান তাদের সংসারের চাকা। কিন্তু দীর্ঘদিন ধরে খাজনা আদায়কে ঘিরে ছিল প্রবল অসন্তোষ। নির্ধারিত পরিমাণের বাইরেও আদায় হতো অতিরিক্ত অর্থ— এমন অভিযোগ ছিল ব্যবসায়ীদের। ফলে লাভের বড় অংশই চলে যেত খাজনায়।
তবে বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে দেখেন স্থানীয় সংসদ সদস্য নুরুল ইসলাম নয়ন। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনা করে ১৪৩৩ বাংলা সনের পহেলা বৈশাখ থেকে চরফ্যাশনের ৬১টি হাটবাজারে খাজনা মওকুফের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
এই সিদ্ধান্ত কার্যকর হওয়ার পর থেকেই বদলে যেতে শুরু করেছে হাটবাজারের পরিবেশ। এতে যেমন ব্যবসায়ীদের মুখে হাসি ফিরেছে, তেমনি সাধারণ ক্রেতারাও পাচ্ছেন স্বস্তি।
খাজনা মওকুফের এই উদ্যোগ শুধু ব্যবসায়ীদের লাভ বাড়াচ্ছে না, কমাচ্ছে সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার ব্যয়ও। এলাকাবাসীর মতে, এমন জনবান্ধব সিদ্ধান্ত ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকলে আরও শক্তিশালী হবে চরফ্যাশনের স্থানীয় অর্থনীতি।
আরটিভি/এমএইচজে



