images

দেশজুড়ে

জেল থেকে ৫০ লাখ টাকার হিসাব চাইলেন ব্যারিস্টার সুমন

রোববার, ২৬ এপ্রিল ২০২৬ , ১১:১২ পিএম

হবিগঞ্জের মাধবপুর উপজেলায় সাবেক সংসদ সদস্য ও বর্তমানে কারাবন্দি ব্যারিস্টার সাইদুল হক সুমনের নামে বিশেষ বরাদ্দকৃত প্রায় ৫০ লাখ টাকার উন্নয়ন প্রকল্পে অনিয়ম ও অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ নতুন করে আলোচনায় এসেছে।

জানা গেছে, ২০২৩-২৪ অর্থ বছর এমপি কোটায় তার নামে বরাদ্দ হওয়া এ অর্থের হিসাব সম্প্রতি জেল থেকে তার ঘনিষ্ঠ কয়েকজনের মাধ্যমে জানতে চেয়েছেন তিনি। পাশাপাশি বিষয়টি নিয়ে বাংলাদেশ হাইকোর্টে রিট দায়েরের জন্যও তিনি তার ঘনিষ্ঠজনদের অনুরোধ করেছেন বলে জানা গেছে। বর্তমান সংসদ সদস্যকেও বিষয়টি খতিয়ে দেখার অনুরোধ জানিয়েছেন।

অভিযোগ আছে, ব্যারিস্টার সুমন এলাকা ছেড়ে যাওয়ার পর তার বরাদ্দের ওই ৫০ লাখ টাকা তৎকালীন ইউএনও একেএম ফয়সাল ও কয়েকজন অসাধু ঠিকাদার ভুয়া প্রকল্প দেখিয়ে উত্তোলন করেছেন।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ২০২৪ সালে আনিসুর রহমান রতন নামে একটি স্থানীয় পত্রিকার সম্পাদক এ বিষয়ে তদন্তের দাবি জানিয়ে তৎকালীন হবিগঞ্জের জেলা প্রশাসকের কাছে লিখিত অভিযোগ দাখিল করেন।

আরও পড়ুন
at

হবিগঞ্জে সরকারি জমি দখলকে ঘিরে সংঘর্ষে কলেজছাত্রের মৃত্যু, আহত ৩০

অভিযোগে বলা হয়, স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি)-এর মাধ্যমে চা শ্রমিকদের জন্য রেইনকোট, সেলাই মেশিনসহ বিভিন্ন উপকরণ সরবরাহ এবং রাস্তা ও কালভার্ট নির্মাণে বরাদ্দকৃত অর্থ যথাযথ পিআইসি কমিটি বা টেন্ডার প্রক্রিয়া ছাড়াই ৫০ লাখ টাকা উত্তোলন করা হয়েছে।

অভিযোগে আরও উল্লেখ করা হয়, সংশ্লিষ্ট প্রকল্পের গুরুত্বপূর্ণ নথিপত্র গায়েব করা হয়েছে এবং বরাদ্দকৃত অর্থ নিয়ম অনুযায়ী মন্ত্রণালয়ে ফেরত না দিয়ে উত্তোলন করা হয়েছে। এ ঘটনায় তৎকালীন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ও কয়েকজন নামমাত্র ঠিকাদারের সংশ্লিষ্টতার অভিযোগ উঠেছে।

তবে অভিযুক্ত ঠিকাদারদের পরিচয় এখনো শনাক্ত করা যায়নি এবং তাদের বিরুদ্ধে কোনো প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।

অভিযোগকারীর দাবি, এলজিইডি দপ্তরে একাধিকবার তথ্য চাওয়া হলেও সন্তোষজনক কোনো জবাব পাওয়া যায়নি।

এ বিষয়ে স্থানীয় স্বতন্ত্র সংসদ সদস্য প্রার্থী ইঞ্জিনিয়ার এস.এ সাজন জেলা প্রশাসকের কাছে অভিযোগটি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানান।

তিনি বলেন, ব্যারিস্টার চলে যাওয়ার পরও কারা তার বরাদ্দের সরকারি টাকা উত্তোলন করল? তাদেরকেই জেলে দেওয়া উচিত। বিষয়টি অবশ্যই উচ্চ পর্যায়ে তদন্ত হওয়া উচিত।

অভিযোগ প্রসঙ্গে হবিগঞ্জের জেলা প্রশাসক জি.এম. সরফরাজ বলেন, এখানে ব্যারিস্টার সুমন ফ্যাক্টর নয়। সরকারি অর্থ আত্মসাতের কোনো সুযোগ নেই। বিষয়টি যেহেতু পূর্বের ঘটনা, তবুও অভিযোগটি গুরুত্ব সহকারে দেখা হবে এবং তদন্তের মাধ্যমে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

এদিকে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) হবিগঞ্জের উপ-পরিচালক এরশাদ আলী বলেন, বিষয়টি আগে থেকেই আমাদের জানা গুরুতর অনিয়মের অভিযোগ। দুদকের প্রধান কার্যালয় থেকে নির্দেশনা পেলে আমরা তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করব।

আরটিভি/এমএম