images

দেশজুড়ে

সড়কে ঘুরে ঘুরে ফলক পরিষ্কার করে প্রশংসায় ভাসছেন অটোরিকশাচালক সোহেল

সোমবার, ২৭ এপ্রিল ২০২৬ , ০৮:৪৮ পিএম

ফেনীর বিভিন্ন সড়কে ঘুরে ঘুরে ফলক পরিষ্কার করে প্রশংসায় ভাসছেন অটোরিকশাচালক মো. সোহেল। সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপির চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার পৈতৃক বাড়ির স্মৃতিবিজড়িত নিমগাছের নামফলক থেকে শুরু করে তার নামে থাকা বিভিন্ন সড়কের নামফলক নিয়মিত সাবান-পানি দিয়ে ধুয়ে-মুছে পরিষ্কার করছেন তিনি।

শুধু বেগম খালেদা জিয়ার নামফলকই নয়, পরশুরাম, ফুলগাজী ও ছাগলনাইয়া উপজেলার গ্রামীণ, সীমান্তবর্তী ও আঞ্চলিক সড়কের দুই পাশে অযত্নে পড়ে থাকা নামফলক, মাইলফলক, যাত্রী ছাউনি, মুক্তিযোদ্ধাদের কবরের নামফলক, বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, কমিউনিটি ক্লিনিক এবং সীমান্তবর্তী এলাকার বিজিবির নামফলকসহ বিভিন্ন দিকনির্দেশনামূলক সাইনবোর্ডও নিয়মিত পরিষ্কার করছেন তিনি। পাশাপাশি এসব ফলকের আশপাশের ঝোপঝাড় কেটে পরিষ্কার করে দৃশ্যমান করে তুলছেন।

এমন ব্যতিক্রমধর্মী জনকল্যাণমূলক কাজ করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে ভাইরাল হয়ে গেছেন সোহেল। নেটিজেনদের প্রশংসায় ভাসছেন তিনি।

মো. সোহেল ফেনীর পরশুরাম উপজেলার বক্সমাহমুদ ইউনিয়নের সাতকুচিয়া গ্রামের বাসিন্দা, ভুলু মিয়ার ছেলে। গত ১৫ বছর ধরে অটোরিকশা চালিয়ে জীবিকা নির্বাহ করছেন।

সোহেল জানান, যাত্রী নিয়ে নতুন এলাকায় গেলে সড়কে নামফলক না থাকায় বা লেখা স্পষ্ট না থাকায় প্রায়ই বিড়ম্বনায় পড়তে হয়। অনেক সময় গাড়ি থামিয়ে পথচারীদের কাছে এলাকার নাম ও গন্তব্যের দূরত্ব জানতে হয়। এই ভোগান্তি থেকেই তিনি এমন জনকল্যাণমূলক কাজে উদ্বুদ্ধ হন।

এরপর থেকেই তিনি এলাকার বিভিন্ন নামফলক ও সাইনবোর্ড পরিষ্কার করার কাজ শুরু করেন এবং গাছপালার আড়ালে পড়ে থাকা ফলকগুলো দৃশ্যমান করে তোলেন।

তিনি আরও জানান, সড়কের দুই পাশের নামফলক, যাত্রী ছাউনি, মুক্তিযোদ্ধা কমপ্লেক্স, বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও ক্লিনিকসহ প্রায় ৩০০টি ফলক তিনি পরিষ্কার করেছেন। প্রতিদিন সকালে সিএনজি নিয়ে বের হয়ে দুপুর পর্যন্ত গাড়ি চালান, এরপর বিকেল পর্যন্ত এ কাজ করেন। প্রতিদিন অন্তত ২-৩টি নামফলক পরিষ্কার করেন তিনি।

স্থানীয়রা জানান, সড়ক নির্মাণের সময় নামফলক বসানো হলেও পরে সংশ্লিষ্ট দপ্তর সেগুলোর আর খোঁজখবর রাখে না। ফলে অধিকাংশ ফলক ধুলাবালি ও ঝোপঝাড়ে ঢেকে যায়, লেখাও অস্পষ্ট হয়ে পড়ে। এতে পথচারী ও যাত্রীদের চরম ভোগান্তি পোহাতে হয়।

সোহেল বলেন, যাত্রী নিয়ে নতুন এলাকায় গেলে ফলকের লেখা মুছে যাওয়ায় বারবার গাড়ি থামিয়ে পথচারীদের জিজ্ঞেস করতে হয়। এতে সময় নষ্ট হয়, গ্যাসের অপচয় হয় এবং যাত্রী-চালক উভয়েরই ভোগান্তি বাড়ে। তাই নিজ উদ্যোগেই আমি এসব পরিষ্কার করার কাজ শুরু করি।

আরও পড়ুন
Web-Image---Copy

কুড়িগ্রামের আলোচিত পাঠানহাট মহিলা দাখিল মাদরাসার ‘বিতর্কিত’ কমিটি বাতিল

তিনি আরও বলেন, আমি আমার এলাকার প্রায় সব নামফলক পরিষ্কার করেছি এবং নিয়মিত পরিষ্কার করছি। এতে সময় ও কিছু টাকা খরচ হলেও কাজটি করতে ভালো লাগে। দিনের অর্ধেক সময় গাড়ি চালিয়ে যা আয় করি, তা দিয়ে সংসার চালাই। এরপর বাকি সময় জনকল্যাণমূলক কাজে ব্যয় করি।

পরশুরাম উপজেলা বিএনপির সদস্য সচিব ও বক্সমাহমুদ ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান ইব্রাহিম খলিল মনি বলেন, সড়ক নির্মাণের সময় নামফলক বসানো হলেও পরে এগুলোর কোনো দেখভাল করা হয় না। ফলে অনেক ফলকের লেখা দেখা যায় না এবং মানুষ ভোগান্তিতে পড়ে। সোহেল দীর্ঘদিন ধরে এগুলো পরিষ্কার করে আসছেন। এতে যেমন এলাকার সৌন্দর্য বাড়ছে, তেমনি পথচারীরাও উপকৃত হচ্ছেন।

আরটিভি/এমএইচজে