কুড়িগ্রামের রাজারহাট উপজেলার বহুল আলোচিত পাঠানহাট মহিলা দাখিল মাদরাসার বিতর্কিত কমিটি বাতিল করেছে মাদরাসা শিক্ষা বোর্ড।
সোমবার (২৭ এপ্রিল) মাদরাসা শিক্ষা বোর্ডের রেজিস্ট্রার প্রফেসর ছালেহ আহমাদ স্বাক্ষরিত পত্রে ওই কমিটি বাতিল করা হয়।
ভুয়া প্রতিষ্ঠাতা ও দাতা সদস্য দিয়ে গোপনে পকেট কমিটি গঠনের অভিযোগ তদন্তে প্রমাণিত হওয়ায় এর আগে গত ৯ এপ্রিল কেন কমিটি ভেঙে দেওয়া হবে না জানতে চেয়ে মাদরাসার সুপার ও সভাপতিকে শোকজ নোটিশ দিয়েছিল মাদরাসা বোর্ড।
জানা গেছে, বাংলাদেশ মাদরাসা শিক্ষা বোর্ডের (গভর্নিং বডি ও ম্যানেজিং কমিটি) প্রবিধানমালা, ২০০৯ অনুযায়ী প্রতিষ্ঠাতা সদস্য হতে হলে মাদরাসা প্রতিষ্ঠার উদ্দেশ্যে কমপক্ষে ৬ লাখ টাকা নগদ বা চেকের মাধ্যমে অথবা সমমূল্যের স্থাবর সম্পত্তি রেজিস্ট্রিকৃত দলিলের মাধ্যমে মাদরাসার অনুকূলে দান করতে হয়। একই প্রবিধান অনুযায়ী মহানগরের বাইরে কোনো মাদরাসার ম্যানেজিং কমিটির মেয়াদ শেষ হওয়ার অন্তত ১৮০ দিন আগে ব্যাংক হিসাবে এককালীন ২০ হাজার টাকা দান করলে দাতা সদস্য (সাময়িক) এবং ১ লাখ টাকা দান করলে আজীবন দাতা সদস্য হিসেবে গণ্য হওয়ার বিধান রয়েছে।
তবে উপজেলার পাঠানহাট মহিলা দাখিল মাদরাসার সুপার আবুল হোসেন ওই মাদরাসায় এসব শর্ত পূরণ না করে জালিয়াতির মাধ্যমে নিজের মনোনীতদের প্রতিষ্ঠাতা ও দাতা সদস্য দেখিয়ে অনিয়মতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় কমিটি গঠন করেন।
এ বিষয়ে অভিযোগের প্রেক্ষিতে মাদরাসা বোর্ডের নির্দেশনা অনুযায়ী রাজারহাট উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) গঠিত ৪ সদস্যের কমিটি অভিযোগের সত্যতা পেয়ে প্রতিবেদন দাখিল করেন।
এর প্রেক্ষিতে সরেজমিন তদন্ত ও তদন্তকারী কর্মকর্তাগণের প্রতিবেদনের আলোকে মাদরাসা শিক্ষা বোর্ড গত ৯ এপ্রিল সাত কর্ম দিবসের মধ্যে সুস্পষ্ট ব্যাখা চেয়ে শোকজ নোটিশ প্রদান করেন। তবে ১১ কর্মদিবসেও শোকজের জবাব দিতে ব্যর্থ হন মাদরাসা সুপার আবুল হোসেন ও সভাপতি আনিছুর রহমান। ফলে ২৭ এপ্রিল উক্ত মাদরাসা পরিচালনা কমিটি বাতিল করে মাদরাসার ওয়েবসাইটে চিঠি আপলোড করা হয়।
আদেশে উল্লেখ করা হয়, প্রতিষ্ঠানের স্বার্থে আগের ম্যানেজিং কমিটি বাতিল করা হলো। একইসঙ্গে মাদরাসার শিক্ষা কার্যক্রম ও প্রশাসনিক গতিশীলতা বজায় রাখতে দ্রুত সময়ের মধ্যে একটি অ্যাডহক কমিটি গঠনের অনুমতি চেয়ে আবেদন করার জন্য প্রতিষ্ঠান সংশ্লিষ্টদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
এছাড়া এই আদেশের অনুলিপি কুড়িগ্রাম জেলা প্রশাসক, জেলা শিক্ষা কর্মকর্তা এবং স্থানীয় ব্যাংকসহ সংশ্লিষ্ট সব দপ্তরে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য পাঠানো হয়েছে।
অভিযোগকারী আসাদুজ্জামান মাদরাসা শিক্ষা বোর্ডের সিদ্ধান্তে সন্তোষ প্রকাশ করে বলেন, বাংলাদেশ মাদরাসা শিক্ষা বোর্ড এই অনিয়মতান্ত্রিক কমিটি বাতিল করে একটি ন্যায় প্রতিষ্ঠিত করেছে।
তবে পরবর্তী পর্যায়ে কমিটি গঠনে যেন উক্ত মাদরাসা কর্তৃপক্ষ আগের মতো অনিয়মের পুনরাবৃত্তি করতে না পারেন সে বিষয়ে সংশ্লিষ্টদের তৎপর থাকতে অনুরোধ জানান তিনি।
এ বিষয়ে মাদরাসা সুপার আবুল হোসেন কোনও কথা বলতে রাজি হননি।
রাজারহাট উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা (ভার.) মো. কামরুল ইসলাম কমিটি বাতিলের বিষয় শুনেছেন তবে চিঠি পাননি বলে জানান।
আরটিভি/এমএইচজে



