মঙ্গলবার, ২৮ এপ্রিল ২০২৬ , ০৮:৪৭ পিএম
ভোলার চরফ্যাশন ও লালমোহন উপজেলার আওতাধীন কচুয়ার চর নদীবেষ্টিত নিভৃত এই জনপদে সূর্য ডুবলেই নেমে আসে অজানা আতঙ্ক। দিনের আলোয় যেখানে স্বাভাবিক জীবনযাপন, রাত হলেই সেখানে শুরু হয় গরু চুরির দুঃস্বপ্ন। প্রতিদিনের মতো গরু বেঁধে ঘুমাতে গেলেও ভোরে উঠে কৃষকদের দেখতে হচ্ছে খালি গোয়ালঘর।
স্থানীয়দের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে একটি সংঘবদ্ধ চোরচক্র এ এলাকায় সক্রিয়। গভীর রাতে তারা ট্রলার বা নৌকায় করে এসে নিঃশব্দে গরু চুরি করে নিয়ে যায়। অনেক সময় এক রাতেই একাধিক পরিবারের গোয়ালঘর ফাঁকা হয়ে যাচ্ছে।
এটা বিচ্ছিন্ন কোনো ঘটনা নয় গত এক বছরে হাজারেরও বেশি গরু চুরির ঘটনা ঘটেছে বলে দাবি এলাকাবাসীর। ফলে আর্থিকভাবে মারাত্মক ক্ষতির মুখে পড়ছেন সাধারণ কৃষকরা, যাদের জীবিকার প্রধান ভরসাই এসব গবাদিপশু।
অভিযোগ রয়েছে, মূল ভূখণ্ড থেকে বিচ্ছিন্ন হওয়ায় চর কচুয়ায় প্রশাসনিক নজরদারি খুবই সীমিত। এই সুযোগকে কাজে লাগিয়ে চোরচক্র নির্বিঘ্নে তাদের কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে। রাত জেগে পাহারা দিয়েও নিজেদের সম্পদ রক্ষা করতে হিমশিম খাচ্ছেন স্থানীয়রা।
সম্প্রতি মো. সফি নামে এক কৃষকের পাঁচটি গাভী এক রাতেই চুরি হয়ে যায়। প্রায় ৫ লাখ টাকা মূল্যের এই ক্ষতি তাকে পুরোপুরি দিশেহারা করে তুলেছে।
সফি বলেন, আমি বহু বছর ধরে চর কচুয়াতে গরু লালনপালন করে আসছি। কয়েক ধাপে আমার ৭০টি গরু চোরচক্র নিয়ে গেছে। সোমবার দিবাগত রাতে আমার আরও ৫টি গাভী নিয়ে যায়। গরুগুলোর ছোট বাচ্চা রয়েছে গাভী না থাকায় বাচ্চাগুলো দুধও পাচ্ছে না। এই গরুই ছিল আমার শেষ সম্বল।
একই অভিযোগ করেন আলমগীর ফরাজি ও আফনান। তারা জানান, সফির মতো তারাও দীর্ঘদিন ধরে এই চরে গরু পালন করছেন এবং বারবার চুরির শিকার হয়েছেন।
লালমোহন থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. অলিউল ইসলাম বলেন, গরু চুরি ঘটনায় মামলার প্রস্তুতি চলছে। ইতোপূর্বেও কয়েকটি গরু উদ্ধার করা হয়েছে। এই চক্রের সঙ্গে যারা জড়িত, তাদেরকে শনাক্ত করে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
আরটিভি/এমএইচজে