সোমবার, ০৪ মে ২০২৬ , ০২:৫৯ পিএম
নেত্রকোণা জেলার মদন উপজেলায় এক পাশবিক নির্যাতনের শিকার হয়েছে ১২ বছরের এক মাদরাসাছাত্রী। কওমি মাদরাসার প্রতিষ্ঠাতা ও শিক্ষক আমান উল্লাহ সাগরের লালসার শিকার হয়ে শিশুটি এখন ৭ মাসের অন্তঃসত্ত্বা। এই ঘটনায় এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্য ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। অভিযুক্ত শিক্ষক বর্তমানে সপরিবারে পলাতক রয়েছেন।
ভুক্তভোগীর পরিবার ও মামলার এজাহার সূত্রে জানা গেছে, উপজেলার কাইটাইল ইউনিয়নের পাঁচহার বড়বাড়ি গ্রামে অবস্থিত 'হযরত ফাতেমাতুজ জোহুরা মহিলা কওমি মাদরাসা'র প্রতিষ্ঠাতা ও শিক্ষক আমান উল্লাহ সাগর গত ২০২৫ সালের নভেম্বর মাসে শিশুটিকে ধর্ষণ করেন। ধর্ষণের পর বিষয়টি কাউকে জানালে প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হয় শিশুটিকে। ভয়ে শিশুটি দীর্ঘ সময় বিষয়টি গোপন রাখে এবং শারীরিক অসুস্থতার কারণে গত পাঁচ মাস মাদরাসায় যাওয়া বন্ধ করে দেয়।
সম্প্রতি শিশুটির শারীরিক পরিবর্তন দেখা দিলে তার মা (যিনি সিলেটে গৃহপরিচারিকার কাজ করেন) বাড়িতে এসে জিজ্ঞাসাবাদ করেন। একপর্যায়ে শিশুটি শিক্ষকের দ্বারা নির্যাতনের বিষয়টি প্রকাশ করে। এ ঘটনায় বৃহস্পতিবার (৩০ এপ্রিল) সন্ধ্যায় শিশুটির মা বাদী হয়ে মদন থানায় একটি মামলা দায়ের করেছেন।
চিকিৎসকের ভাষ্যমতে, শিশুটি বর্তমানে চরম স্বাস্থ্যঝুঁকির মুখে রয়েছে। মদন উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স রোডের গাইনি বিশেষজ্ঞ ডা. সায়মা আক্তার জানান, শিশুটির বয়স মাত্র ১১ বছর (নথিপত্রে ১২), ওজন মাত্র ২৯ কেজি এবং উচ্চতা সাড়ে চার ফুটের কম। শিশুটির শরীরে রক্তশূন্যতা (হিমোগ্লোবিন ৮.২) এবং চরম অপুষ্টি দেখা দিয়েছে। গর্ভস্থ শিশুর মাথার মাপ শিশুটির পেলভিসের (কোমর) তুলনায় অনেক বড়, যা স্বাভাবিক প্রসবকে অসম্ভব করে তুলেছে। শিশুটি এবং তার পরিবার বর্তমানে প্রচণ্ড মানসিক বিপর্যস্ত।
ডা. সায়মা আক্ষেপ করে বলেন, যে বয়সে ওর শিশু বিশেষজ্ঞের কাছে থাকার কথা, সেই বয়সে ওকে গাইনি সমস্যার মুখোমুখি হতে হচ্ছে।
অভিযুক্ত আমান উল্লাহ সাগর ঘটনার জানাজানি হওয়ার পর থেকে স্ত্রী-সন্তানসহ আত্মগোপনে রয়েছেন। ওই মাদরাসার অন্য শিক্ষকরা জানিয়েছেন, গত ১৮ এপ্রিল থেকে তিনি আর মাদরাসায় আসেননি। স্থানীয়দের সাথেও তার কোনো যোগাযোগ নেই।
মদন থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) তরিকুল ইসলাম মামলার বিষয়টি নিশ্চিত করে জানিয়েছেন, অভিযুক্তকে গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে। আইনের নিজস্ব প্রক্রিয়ায় কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
একজন বিধবা মায়ের একমাত্র সন্তানের ওপর এমন পাশবিকতায় এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। এলাকাবাসী এই ন্যাক্কারজনক ঘটনার দ্রুত বিচার ও অভিযুক্ত শিক্ষকের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করেছেন।
আরটিভি/এসকে