সোমবার, ০৪ মে ২০২৬ , ০৪:০০ পিএম
যুক্তরাষ্ট্রে নৃশংসভাবে নিহত বাংলাদেশি পিএইচডি শিক্ষার্থী জামিল আহমেদ লিমনের (২৭) কফিনবন্দি মরদেহ দেশে ফিরেছে। সোমবার (৪ মে) সকাল ৮টা ৪৭ মিনিটে এমিরেটস এয়ারলাইন্সের একটি ফ্লাইটে তার মরদেহ হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছায়। এ সময় বিমানবন্দরে শোকাবহ পরিবেশ সৃষ্টি হয়। উপস্থিত ছিলেন লিমনের পরিবারের সদস্যরা।
প্রিয় সন্তানের নিথর দেহ দেখে কান্নায় ভেঙে পড়েন বাবা-মা ও স্বজনরা। লিমনের বাবা জহুরুল হক বলেন, বাবা হিসেবে এটা আমার জীবনের সবচেয়ে বড় কষ্ট। আমি কখনো ভাবিনি আমার ছেলে এভাবে মারা যাবে।
পরিবার জানিয়েছে, প্রথমে মরদেহ গাজীপুরের মাওনায় নেওয়া হবে এবং সেখানে জানাজা অনুষ্ঠিত হবে। পরে জামালপুরের মাদারগঞ্জ উপজেলার লালডোবা গ্রামে পারিবারিক কবরস্থানে দাফন সম্পন্ন হবে।
যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডা অঙ্গরাজ্যের ট্যাম্পা এলাকায় হাওয়ার্ড ফ্র্যাংকল্যান্ড ব্রিজ সংলগ্ন স্থান থেকে লিমনের দেহাবশেষ উদ্ধার করে পুলিশ। স্থানীয় শেরিফ কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, তার সাবেক রুমমেট হিশাম আবুগারবিয়েহকে (২৬) ঘটনায় গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
তদন্তকারীরা জানিয়েছেন, মোবাইল ফোনের অবস্থান, সিসিটিভি ফুটেজ এবং ডিজিটাল তথ্য বিশ্লেষণ করে সন্দেহভাজনকে শনাক্ত করা হয়। পরে জিজ্ঞাসাবাদে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাওয়া যায়। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, এটি পূর্বপরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড।
আদালতের নথি অনুযায়ী, লিমনের মরদেহে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন পাওয়া গেছে। অভিযুক্তের বিরুদ্ধে ফার্স্ট ডিগ্রি মার্ডারের দুটি অভিযোগ আনা হয়েছে। তাঁর কাছ থেকে একটি অস্ত্রও উদ্ধার করা হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
তদন্ত সূত্র আরও জানায়, হত্যার পর মরদেহ গোপনের চেষ্টা করা হয় এবং বিভিন্ন জায়গায় ফেলে রাখা হয়। পরে ফরেনসিক পরীক্ষার মাধ্যমে মরদেহ শনাক্ত করা হয়।
জামিল আহমেদ লিমন ইউনিভার্সিটি অব সাউথ ফ্লোরিডায় ভূগোল, পরিবেশবিজ্ঞান ও নীতিমালা বিষয়ে পিএইচডি করছিলেন। তিনি ২০২৪ সালে উচ্চশিক্ষার জন্য যুক্তরাষ্ট্রে যান। এর আগে তিনি খুলনা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্নাতক সম্পন্ন করেন।
লিমনের মৃত্যুতে দেশে ও প্রবাসী বাংলাদেশি কমিউনিটিতে গভীর শোক নেমে এসেছে। স্বজন ও সচেতন মহল এই হত্যাকাণ্ডের দ্রুত, নিরপেক্ষ তদন্ত এবং দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।
আরটিভি/এসকে