images

দেশজুড়ে

অধিগ্রহণের টাকা না পেয়ে বেড়া দিয়ে রাস্তার কাজে প্রতিবন্ধকতা

সোমবার, ০৪ মে ২০২৬ , ০৭:২৫ পিএম

খুলনার পাইকগাছায় ভূমি অধিগ্রহণের টাকা না পেয়ে বাঁশের বেড়া দিয়ে সড়ক উন্নয়ন কাজ বন্ধ করে দিয়েছে বিক্ষুব্ধ জমির মালিকরা। ফলে যথা সময়ে কাজ শেষ না হওয়ার শঙ্কা দেখা দিয়েছে। 

শুক্রবার (১ মে) সকালে উপজেলার খুলনা-পাইকগাছা প্রধান সড়কের কার্তিকের মোড় নামক স্থানে এ ঘটনা ঘটে।

সড়ক ও জনপদ সূত্রে জানা গেছে, ২০২০ সালের জানুয়ারিতে খুলনার কয়রা বেতগ্রাম আঞ্চলিক সড়ক উন্নয়ন প্রকল্পের কাজ শুরু হয়। দরপত্রের শর্ত অনুযায়ী কাজ শেষ হওয়ার কথা ছিল ২০২২ সালের জুনে। শুরুতে প্রকল্পে বরাদ্দ হয় ৩৩৯ কোটি টাকা। প্রকল্পের মেয়াদ পরবর্তী সময়ে কয়েক দফায় বাড়ানো হয়; সে বরাদ্দ বাড়ে ৫০ কোটি টাকা। তবে, ভূমি অধিগ্রহণের জটিলতায় ৬ বছরেও সড়কের কাজ শেষ হয়নি। সর্বশেষ বর্ধিত মেয়াদ অনুযায়ী চলতি বছরের ৩০ জুন কাজ শেষ হওয়ার কথা। যদিও এ পর্যন্ত কাজটির অগ্রগতি ৭৬ দশমিক ৭৩ শতাংশ।

আরও পড়ুন
Web-Image---Copy

জমি নিয়ে বিরোধে ছোট ভাইয়ের হাতে প্রাণ গেল বড় ভাইয়ের

প্রায় ৬৫ কিলোমিটার দৈর্ঘ্যের কারা-বেতগ্রাম সড়ক উন্নয়নে ২০১৯ সালের একনেক সভায় অনুমোদন পায় প্রকল্পটি। ২০২০ সালের ১ জানুয়ারি প্রকল্পটি বাস্তবায়নে কাজ শুরু করে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান মোজাহার এন্টারপ্রাইজ। প্রথম দফায় ২০২২ সালের ৩০ জুন কাজ শেষ করার কথা। তবে, ২০২৫ সালের ৩০ জুন পর্যন্ত ৪ দফায় সময় বাড়ানো হয়। কিন্তু এতেও প্রতিষ্ঠানটি ব্যর্থ হওয়ায় তাদের কালো তালিকাভুক্ত করা হয়। সর্বশেষ চলতি বছরের ৩০ জুন পর্যন্ত মেয়াদ বাড়ানো হয়। তবে, এ মুহর্তে কাজটি করতে আগ্রহী নয় ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান।

সরেজমিনে দেখা যায়, অধিগ্রহণকৃত সড়কের উত্তর-দক্ষিণ মুখে বাঁশের খুঁটি পুঁতে ও লম্বাবম্বি বাঁশ টানিয়ে বেড়া দিয়েছেন জমির মালিকরা।

জমির মালিক লেয়াকত মোড়ল বলেন, অধিগ্রহণকৃত স্থানে আমার ঘর ছিল। ঘর ভেঙে সড়কের কাজ করেছে। আমি পরিবার নিয়ে অন্যের মৎস ঘেরের বাসায় পরিবার নিয়ে থাকছি। টাকার অভাবে জমি কিনতে পারছি না আবার নতুন ঘর তৈটি করতে পারছি না। জমি অধিগ্রহণের টাকা তুলতে প্রায় ছয় মাস ধরে খুলনা ডিসি অফিসে বারবার ধর্ণা দিচ্ছি। আজ নয় কাল করে আমাদের ঘোরানো হচ্ছে। 

তিনি আরও বলেন, আমরা গরিব মানুষ কাজ না করলে সংসার চলেনা। তার উপর বারবার ডিসি অফিসে যেতে যেতে ক্লান্ত হয়ে গেছি। টাকা না পেলে কাজ করতে দিবনা।

আরেক জমির মালিক শাহিনুর সরদার জানান, আমাদের অন্য কোন জায়গা জমি নেই। ৬ সদস্যের পরিবার নিয়ে ছোট্ট খুপড়ি ঘরে মানবেতর জীবন যাপন করছি। টাকার অভাবে জমি কিনতে পারছিনা আবার ঘর ঠিক করতে পারছিনা। ডিসি অফিসে ঘুরে ঘুরে দেনা হয়ে গেছি।

যাদের জমি অধিগ্রহণ করা হয়েছে তারা হলেন, স্থানীয় মো. মোমরেজ সরদার, মিঠু সরদার, সালাম সরদার, করিম সরদার, ইব্রাহিম সরদার, বেলজার মোড়ল, রজব মোড়ল, লেয়াকত মোড়ল ও শাহীনুর সরদার। 

সড়ক ও জনপদ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী তানিমুল হক বলেন, অধিগ্রহণের জমির টাকা পরিশোধের চেক প্রস্তুত আছে কিন্তু জেলা প্রশাসকের  স্বাক্ষর না হওয়ায় সেটা প্রদান করা সম্ভব হচ্ছেনা। এদিকে বাঁশ বেঁধে সড়কের কাজ বন্ধ করা হয়েছে সে বিষয়ে আমরা অবগত হয়েছি। দ্রুত সমাধান করার চেষ্টা করছি। 

এ বিষয়ে অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (এলএ) দিপংকর দাশের মুঠো ফোনে কয়েক বার কল দিয়েও সাড়া পাওয়া যায়নি। 

আরটিভি/এমএম