মঙ্গলবার, ০৫ মে ২০২৬ , ০৪:০৭ পিএম
ফেনীর মহিপালে সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার গাড়িবহরে হামলার ঘটনায় করা মামলার আসামিকে যুবদলের কমিটিতে সংযুক্ত করার পর সাংগঠনিক ইউনিটের সঠিক তদারকিতে ব্যর্থতা ও অভ্যন্তরীণ শৃঙ্খলা বিনষ্টের অভিযোগে ফেনী জেলা যুবদলের আহ্বায়ক কমিটি স্থগিত করা হয়েছে। সেই সঙ্গে পৌর যুবদলের সভাপতি এ কে এম জাহিদ হোসেন ও সাধারণ সম্পাদক হায়দার আলী রাসেল পাটোয়ারীকে দল থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে।
সোমবার (৪ মে) বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী যুবদল কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সহদপ্তর সম্পাদক মিনহাজুল ইসলাম ভূঁইয়া স্বাক্ষরিত বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, জাতীয়তাবাদী যুবদল কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সভাপতি আবদুল মোনায়েম মুন্না ও সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ নূরুল ইসলাম নয়ন ইতোমধ্যে এ সিদ্ধান্ত কার্যকর করেছেন।
বিজ্ঞপ্তিতে আরও উল্লেখ করা হয়, গত ৩০ এপ্রিল ফেনী পৌর যুবদলের ৪নং ওয়ার্ডের ঘোষিত কমিটিতে ২০১৭ সালে বিএনপি চেয়ারপার্সন, সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার গাড়িবহরে হামলার ঘটনায় করা মামলার আসামি এনামুল হক সুজনকে সাধারণ সম্পাদক মনোনীত করার মতো বিতর্কিত সিদ্ধান্ত অনুমোদন করায় ফেনী পৌর যুবদলের সভাপতি এ কে এম জাহিদ হোসেন বাবলু ও সাধারণ সম্পাদক হায়দার আলী রাসেল পাটোয়ারীকে প্রাথমিক সদস্য পদসহ দল থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে। বহিষ্কৃতদের কোনো ধরনের অপকর্মের দায়-দায়িত্ব দল নেবে না। এছাড়া যুবদলের সব পর্যায়ের নেতাকর্মীকে তাদের সঙ্গে সাংগঠনিক সম্পর্ক না রাখার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
এর আগে ফেনীতে সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়ার গাড়িবহরে হামলার ঘটনায় করা মামলার এক আসামিকে ওয়ার্ড যুবদলের সাধারণ সম্পাদক করা নিয়ে তীব্র আলোচনা ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়। এ ঘটনায় ফেনী পৌর যুবদলের কমিটি স্থগিত করে সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদককে শোকজ করা হয়। এ ছাড়া অভিযুক্তকে প্রাথমিক সদস্য পদসহ দল থেকে বহিষ্কার এবং ঘোষিত ফেনী পৌরসভার ১২টি ওয়ার্ডের কমিটি বিলুপ্ত করা হয়েছে।
রোববার (৩ মে) দুপুরে কেন্দ্রীয় যুবদলের সহদপ্তর সম্পাদক মিনহাজুল ইসলাম ভূঁইয়া স্বাক্ষরিত বিজ্ঞপ্তিতে এসব সিদ্ধান্তের কথা জানানো হয়।
দলীয় সূত্রে জানা গেছে, গত ৩০ এপ্রিল ফেনী পৌর যুবদলের সভাপতি জাহিদ হোসেন বাবলু ও সাধারণ সম্পাদক হায়দার আলী রাসেল পাটোয়ারী স্বাক্ষরিত পৃথক বিজ্ঞপ্তিতে ফেনী পৌরসভার ১২টি ওয়ার্ডের কমিটি গঠন করা হয়। এতে পৌর ৪নং ওয়ার্ড যুবদলের ৮ সদস্যের কমিটিতে গাজী এনামুল হক সুজনকে সাধারণ সম্পাদক করা হয়। পরবর্তী বেগম খালেদা জিয়ার গাড়িবহরে হামলার ঘটনায় করা মামলায় এজাহারভুক্ত আসামি সুজনকে কমিটিতে পদ দেওয়া নিয়ে জেলাজুড়ে নানা আলোচনা-সমালোচনা সৃষ্টি হয়। এ ঘটনায় শনিবার (২ মে) ঘোষিত ওই কমিটির সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক ছাড়া বাকি ৬ জন পদত্যাগ করেন।
পরবর্তীতে কেন্দ্রীয় যুবদলের পক্ষ থেকেও বিজ্ঞপ্তিতে ফেনী পৌর যুবদলের কমিটি স্থগিত ও ঘোষিত সব ওয়ার্ড কমিটি বিলুপ্তি ঘোষণা করা হয়।
বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়, ফেনী জেলা যুবদলসহ সংশ্লিষ্ট সবার অবগতির জন্য জানানো যাচ্ছে, ফেনী পৌর যুবদলের বিদ্যমান কমিটি স্থগিত করা হয়েছে। পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত এ কমিটির কার্যক্রম স্থগিত থাকবে এবং গত ৩০ এপ্রিল ফেনী পৌর যুবদলের ঘোষিত ওয়ার্ড কমিটি বিলুপ্ত করা হলো।
একই বিজ্ঞপ্তিতে কমিটিতে পদ পাওয়া অভিযুক্ত গাজী এনামুল হক সুজনকে তথ্য গোপন করে দলের পদ গ্রহণ করায় প্রাথমিক সদস্য পদসহ দল থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে। এতে উল্লেখ করা হয়, বহিষ্কৃতদের কোনো ধরনের অপকর্মের দায়-দায়িত্ব দল দেবে না। যুবদলের সব পর্যায়ের নেতাকর্মীকে তাদের সঙ্গে সাংগঠনিক সম্পর্ক না রাখার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। এছাড়াও বিজ্ঞপ্তিতে ফেনী পৌর যুবদলের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদককে শোকজ করা হয়েছে।
এদিকে মামলার এজাহার সূত্রে জানা গেছে, ২০১৭ সালে ফেনীর মহিপাল এলাকায় বিএনপি চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়ার গাড়িবহরে হামলার ঘটনায় করা মামলায় এজাহারভুক্ত ২৮ জন আসামির তালিকায় এনামুল হক সুজনের নাম ২৫ নম্বরে রয়েছে। ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর যমুনা হাই ডিলাক্স পরিবহনের চেয়ারম্যান আবুল কাশেম মিলন বাদী হয়ে এ মামলা করেন।
মামলাটি আদালত আমলে নিয়ে পিবিআইকে ৪৫ দিনের মধ্যে তদন্ত করে প্রতিবেদন আদালতে জমা দেওয়ার নির্দেশ দেন। কিন্তু দেড় বছর পার হতে চলেছে এখনও আদালতে প্রতিবেদন জমা না দিয়ে বার বার সময় নিয়ে কালক্ষেপণ করছে বলে বাদী জানিয়েছেন।
একটি সূত্র জানায়, মোটা অঙ্কের টাকার বিনিময়ে সাংবাদিকসহ বিভিন্ন পেশার সম্নানিত লোকজনদের বিরুদ্ধে দ্রুত প্রতিবেদন দেওয়ার অভিযোগ রয়েছে পিবিআইয়ের কিছু অসাধু তদন্তকারীর বিরুদ্ধে।
এদিকে ঘোষিত ওই কমিটির সিনিয়র সহসভাপতি গাজী আবদুল কাদের নয়ন বলেন, কমিটির সাধারণ সম্পাদক সুজন আগে আওয়ামী লীগের রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত ছিলেন এবং তার পরিবারের সদস্যরাও ওই দলের রাজনীতিতে সক্রিয়। ৫ আগস্টের পর সে বিএনপিতে যোগ দিয়েছে। কমিটিতে আমি সভাপতি পদপ্রত্যাশী ছিলাম। কিন্তু কমিটিতে এমন ব্যক্তিকে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে, যারা বেগম খালেদা জিয়ার গাড়িবহরে হামলার সঙ্গে জড়িত ছিলেন। এ ধরনের ব্যক্তিদের নেতৃত্বে রাজনীতি করা সম্ভব নয় বলেই আমরা তাৎক্ষণিক পদত্যাগপত্র জমা দিয়েছি।
অভিযুক্ত এনামুল হক সুজন বলেন, পুরো ঘটনাটি মূলত পারিবারিক প্রতিহিংসার ফল। কমিটির সিনিয়র সহসভাপতি গাজী আবদুল কাদের নয়ন আমার জেঠাতো ভাই এবং এই কমিটির প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী ছিলেন। আমাদের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে পারিবারিক জায়গা-জমি সংক্রান্ত বিরোধ চলছে। ৫ আগস্টের পরপর আমার বিরুদ্ধে খালেদা জিয়ার গাড়িবহরে হামলার ঘটনায় একটি মিথ্যা মামলা করা হয়। এ ঘটনায় দল থেকেও তখন প্রতিবাদ জানানো হয়েছিল।
ফেনী পৌর যুবদলের সভাপতি জাহিদ হোসেন বাবলু বলেন, ৫ আগস্টের পর শ্রমিক নেতা আবুল কাশেম মিলন বাদী হয়ে বেগম খালেদা জিয়ার ওপর হামলার অভিযোগে একটি মামলা করেন, যেখানে সুজনকে আসামি করা হয়েছে। তখন এই বিষয়ে প্রতিবাদ জানানো হয়েছিল। বিষয়টি জেলা বিএনপি ও যুবদল অবগত আছে। এ ঘটনা সম্পূর্ণ উদ্দেশ্যপ্রণোদিত।
এ ব্যাপারে ফেনী জেলা যুবদলের সদস্য (দপ্তরের দায়িত্বে নিয়োজিত) মো. আল ইমরান বলেন, কেন্দ্রীয় যুবদলের সিদ্ধান্ত মোতাবেক ঘোষিত ফেনী পৌর যুবদলেরর ১২টি ওয়ার্ডের কমিটি বিলুপ্ত করা হয়েছে। এছাড়া ফেনী পৌর যুবদলের কমিটি স্থগিত করে সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদককে শোকজ করা হয়েছে।
আরটিভি/এমএইচজে