images

দেশজুড়ে

চাঁপাইনবাবগঞ্জে সাংবাদিকদের ওপর হামলাকারীদের গ্রেপ্তারের দাবিতে বিক্ষোভ

বুধবার, ০৬ মে ২০২৬ , ০৪:৪৫ পিএম

চাঁপাইনবাবগঞ্জে দুই সাংবাদিকের ওপর সন্ত্রাসী হামলার ঘটনায় মূল আসামিদের দ্রুত গ্রেপ্তারের দাবিতে ফুঁসে উঠেছে স্থানীয় সাংবাদিক সমাজ। ঘটনার ছয় দিন পেরিয়ে গেলেও এজাহারভুক্ত প্রধান আসামিদের গ্রেপ্তার করতে না পারায় পুলিশের ভূমিকা নিয়ে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন সাংবাদিক নেতারা।

বুধবার (৬ মে) বেলা ১১টার দিকে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সামনে আয়োজিত প্রতিবাদ সভা থেকে আগামী ৭২ ঘণ্টার আল্টিমেটাম দেওয়া হয়।

সভায় বক্তারা অভিযোগ করেন, মামলার প্রধান আসামি ও শীর্ষ সন্ত্রাসী রাব্বি পুলিশের ‘সোর্স’ পরিচয়ে প্রকাশ্যে ঘুরে বেড়ালেও তাকে গ্রেপ্তার করা হচ্ছে না।

তারা বলেন, পুলিশ আইওয়াশ করতে কয়েকজন নির্দোষ ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করলেও মূল হামলাকারীরা এখনও ধরাছোঁয়ার বাইরে রয়েছে।

চাঁপাইনবাবগঞ্জ প্রেসক্লাবের সভাপতি গোলাম মোস্তফা মন্টু বলেন, আমরা মনে করেছিলাম ২০২৪ সালের ঘটনার পর পুলিশের পরিবর্তন হয়েছে। কিন্তু সেই পুলিশ সেই স্বৈরাচারের পুলিশই থেকে গেছে।

বক্তারা আরও হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, আগামী ৭২ ঘণ্টার মধ্যে এজাহারভুক্ত আসামিদের গ্রেপ্তার করা না হলে ছাত্র-জনতা ও বিভিন্ন পেশাজীবী সংগঠনকে সঙ্গে নিয়ে বৃহত্তর আন্দোলনের কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে।

প্রতিবাদ সভায় বক্তব্য দেন চাঁপাইনবাবগঞ্জ প্রেসক্লাবের সভাপতি গোলাম মোস্তফা মন্টু, জেলা প্রেসক্লাবের সভাপতি হোসেন শাহনেওয়াজ, দৈনিক চাঁপাই দর্পণের সম্পাদক আশরাফুল হক রঞ্জু, চাঁপাই চিত্রের সম্পাদক কামাল উদ্দিন, সিটি প্রেস ক্লাবের সাধারণ সম্পাদক মেহেদী হাসান, টেলিভিশন জার্নালিস্ট অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক মনোয়ার হোসেন জুয়েলসহ স্থানীয় সাংবাদিক নেতারা।

এর আগে বৃহস্পতিবার (৩০ এপ্রিল) রাত সোয়া ১০টার দিকে শহরের বাতেন খাঁ মোড়ে একটি চায়ের দোকানে অতর্কিত হামলার শিকার হন আমার দেশ–এর চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা প্রতিনিধি তারেক রহমান এবং মাই টিভির চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা প্রতিনিধি তারেক আজিজ। 

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, ১০ থেকে ১২ জনের একটি দল হামলা চালিয়ে দুই সাংবাদিককে রাস্তায় ফেলে চায়ের ভাঙা কাপ দিয়ে বেধড়ক মারধর করে।

ঘটনার পর সাংবাদিক তারেক রহমান বাদী হয়ে সদর থানায় মামলা দায়ের করেন। মামলায় স্থানীয় রাব্বি ও সোহেলের নাম উল্লেখ করে অজ্ঞাতনামা আরও ৮ থেকে ১০ জনকে আসামি করা হয়।

এ ঘটনায় শুক্রবার দিবাগত রাত পর্যন্ত সাঁড়াশি অভিযান চালিয়ে তিনজনকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলেন- শহরের আরামবাগ মহল্লার মো. মুসা (১৯), আব্দুল আলিম (২৬) ও মো. রিফাত (২৫)। পরে শনিবার (২ মে) তাদের আদালতে পাঠানো হয়।

আরও পড়ুন
Web-Image---Copy

কুমিল্লায় পান ব্যবসায়ীকে কুপিয়ে হত্যা

চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) একরামুল হোসাইন জানান, সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, চায়ের দোকানে বসা ও তাকানোকে কেন্দ্র করে বিরোধের সূত্রপাত হয়। হামলাকারীরা নেশাগ্রস্ত অবস্থায় ছিল বলে ধারণা করা হচ্ছে। তবে ঘটনার পেছনে অন্য কোনো কারণ রয়েছে কি না, সেটিও খতিয়ে দেখা হচ্ছে। 

তিনি আরও বলেন, মামলার এজাহারভুক্ত আসামিদের গ্রেপ্তারে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

পুলিশ জানায়, মামলার প্রধান আসামি রাব্বির বিরুদ্ধে হত্যা, অস্ত্র, বিস্ফোরক ও ডাকাতিসহ একাধিক মামলা রয়েছে।

এদিকে হামলার ঘটনায় স্থানীয় সাংবাদিকমহল, সচেতন নাগরিক সমাজ এবং বিভিন্ন সংগঠন প্রতিবাদ জানিয়েছে। একই দাবিতে শিবগঞ্জ, গোমস্তাপুর, নাচোল ও ভোলাহাট উপজেলাতেও প্রতিবাদ কর্মসূচি পালিত হয়েছে।

আরটিভি/এমএইচজে