বুধবার, ০৬ মে ২০২৬ , ১০:১৯ পিএম
হবিগঞ্জের মাধবপুর উপজেলায় বিধবা মায়ের প্রতি অসীম ভালোবাসা ও দায়িত্ববোধের এক অনন্য উদাহরণ হয়ে উঠেছেন সুমন মিয়া। মা নেহারা খাতুন (৭০)কে ঘিরেই যেন তার জীবনের সবকিছু।
২০০৮ সালে সুমনের পিতা কলিমুদ্দিন মৃত্যুবরণ করলে ছোট্ট সংসারটি চরম অনিশ্চয়তার মুখে পড়ে। সেই সময় থেকে মা নেহারা খাতুন অনেক কষ্ট করে একমাত্র ছেলেকে নিয়ে জীবনযুদ্ধ চালিয়ে আসছেন। তাদের বাড়ি উপজেলার চৌমুহনী ইউনিয়নের কমলপুর গ্রামে।
সুমন মিয়া ছোটবেলা থেকেই মায়ের প্রতি গভীর ভালোবাসা ও দায়িত্ববোধ দেখিয়ে আসছেন। মায়ের আর্থিক কষ্ট লাঘব করতে তিনি ইটভাটায় কাজ করেছেন।
এলাকায় একটি ঘটনা বিশেষভাবে আলোচিত। কয়েক বছর আগে পরিবারের চরম দুঃসময়ে তিনি মাত্র ৫০ হাজার টাকার চুক্তিতে ছয় মাসের জন্য ভৈরবের পানিয়ারচর এলাকার একটি দুর্গম ইটভাটায় কাজ নেন। একপর্যায়ে বিশেষ কারণে সেখানে কর্মরত অনেক শ্রমিক পালিয়ে গেলেও সুমন পালাননি। কারণ, তিনি আশঙ্কা করেছিলেন—পালিয়ে গেলে নেওয়া টাকার দায় তার মায়ের ওপর এসে পড়বে। তাছাড়া, মায়ের সঙ্গে দেখা করার আশাতেও তিনি সেখানে অটল ছিলেন।
পরবর্তীতে ইটভাটার মালিক তার এই বিরল মাতৃভক্তির কথা জেনে তাকে পুরস্কৃত করেন এবং ছুটিও প্রদান করেন।
বর্তমানে সুমন মিয়া তার মাকে নিয়ে একটি ছোট চায়ের দোকান চালান। সীমিত আয়ে কষ্টে দিন চললেও তাদের জীবনে রয়েছে মানসিক দৃঢ়তা ও মানবিক মূল্যবোধ।
নেহারা খাতুন একজন সহজ-সরল ও আধ্যাত্মিক চিন্তাধারার মানুষ। তিনি প্রচলিত সামাজিক রীতিনীতির চেয়ে মানবতা ও ভালোবাসাকে বেশি গুরুত্ব দেন। সন্ধ্যা হলেই তাদের ছোট দোকানটি এলাকায় মানুষের আড্ডাকেন্দ্রে পরিণত হয়।
নেহারা খাতুন বলেন, জীবনে অনেক কিছু হারিয়েছি কিন্তু, আমার সন্তানের ভালোবাসাই আমার সবচেয়ে বড় প্রাপ্তি। আমার আর কিছু চাওয়ার নেই।
সুমন মিয়া বলেন, মায়ের পাশে থাকলেই আমি সব কষ্ট ভুলে যাই। তিনি আমাকে সবসময় সাহস ও ইতিবাচকভাবে বাঁচতে শিখিয়েছেন।
স্থানীয় ইউপি সদস্য মো. শহীদ মিয়া জানান, নেহারা খাতুন সম্প্রতি বিধবা ভাতা পাওয়ার জন্য আবেদন করেছেন এবং তিনি বিষয়টি দেখবেন বলে আশ্বাস দিয়েছেন। এছাড়া বিভিন্ন বিচার-সালিশেও মা-ছেলের এই ভালোবাসার উদাহরণ তুলে ধরা হয় বলে তিনি উল্লেখ করেন।
এলাকাবাসীর মতে, মা-ছেলের এই ভালোবাসা সত্যিই বিরল ও অনুকরণীয়। মা দিবস উপলক্ষে এমন গল্প সমাজের জন্য এক গুরুত্বপূর্ণ বার্তা বহন করে।
আরটিভি/এমএম