আ. লীগ নেতাদের সঙ্গে ইউএনওর মিটিং, ছবি ভাইরাল

মাধবপুর (হবিগঞ্জ) প্রতিনিধি, আরটিভি নিউজ

মঙ্গলবার, ০৫ মে ২০২৬ , ০১:১৭ পিএম


আ. লীগ নেতাদের সঙ্গে ইউএনওর মিটিং, ছবি ভাইরাল
ইউএনওর সঙ্গে এক আওয়ামী লীগ নেতার একাধিক ছবি ভাইরাল। ছবি: আরটিভি

হবিগঞ্জের মাধবপুরে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও)-এর সঙ্গে এক আওয়ামী লীগ নেতার একাধিক ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ায় এলাকায় ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে।

ভাইরাল হওয়া ওই ব্যক্তির নাম তাসাদ্দুক আহমেদ। তিনি উপজেলার চৌমুহনী ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক এবং সাবেক বিমান প্রতিমন্ত্রীর ঘনিষ্ঠ হিসেবে পরিচিত। পাশাপাশি তিনি একটি বালিকা বিদ্যালয়ে শিক্ষকতা পেশার সঙ্গে জড়িত।

সম্প্রতি ইউএনও কার্যালয়ে প্রতিষ্ঠানের অফিসিয়াল কাজে গিয়ে তোলা তার কয়েকটি সেলফি ও একান্ত মুহূর্তের ছবি ফেসবুকে পোস্ট করার পর বিষয়টি নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে নানা প্রশ্ন উঠেছে। বিশেষ করে, যেখানে আওয়ামী লীগের অনেক জনপ্রতিনিধি ও নেতাকর্মী ইউএনওর প্রশাসনিক কার্যালয়ে যেতে ভীত থাকেন—এমন অভিযোগ রয়েছে। এমনকি কিছু আওয়ামী লীগপন্থী চেয়ারম্যানকে ইউএনও কার্যালয় থেকে রাজনৈতিক কর্মসূচিতে অংশগ্রহণ না করার মৌখিক নির্দেশ দেওয়ার অভিযোগও উঠেছে।

সেই প্রেক্ষাপটে একজন দলীয় নেতা কীভাবে ইউএনওর সঙ্গে স্বাভাবিকভাবে সময় কাটালেন, তা নিয়ে জনমনে কৌতূহল ও বিতর্ক তৈরি হয়েছে।

স্থানীয় সূত্রে আরও জানা গেছে, এর আগেও ইউএনও জাহিদ বিন কাসেমের সঙ্গে আওয়ামী লীগ নেতা ও একটি বিতর্কিত মামলার আসামি হিসেবে আলোচিত মাসুদ খানকে একান্তে দেখা গেছে বলে অভিযোগ রয়েছে। এ ছাড়া আরও কয়েকজন আওয়ামী লীগ নেতার সঙ্গে তার যোগাযোগ এবং ইউএনও কার্যালয়ে তাদের নিয়মিত যাতায়াত নিয়েও প্রশ্ন তুলছেন অনেকে।

এ বিষয়ে স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতা শ্রীধাম দাশ গুপ্ত বলেন, মাস্টার অত্যন্ত ভালো মানুষ। তিনি সবসময় মানুষের পাশে থেকেছেন। প্রশাসনের সঙ্গে তার সুসম্পর্ক থাকাটা অস্বাভাবিক কিছু নয়। আওয়ামী লীগ করলেই কাউকে দোষারোপ করা সভ্য সমাজে গ্রহণযোগ্য নয়।

অন্যদিকে যুবদল নেতা ও আলোচিত জুলাই মামলার বাদী আমিনুর রহমান আমিন বলেন, আমাদের এলাকায় আওয়ামী লীগ-বিএনপি মিলেমিশে গেছে—এমন ধারণা তৈরি হয়েছে। ইউএনও কারও সঙ্গে কথা বললে সমস্যা কোথায়? তবে আমাকে দিয়ে মামলা করিয়ে এখন অনেকেই খোঁজ নিচ্ছেন না।

তবে বিষয়টি নিয়ে সংশ্লিষ্ট তাসাদ্দুক আহমেদের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা জাহিদ বিন কাসেম বলেন, আমি তাকে একজন ক্রীড়া শিক্ষক হিসেবে চিনতাম। সে হিসেবে তাকে পুরস্কৃত করেছি এবং ছবি তুলেছি। একজন ব্যক্তি কোনো রাজনৈতিক দলের সঙ্গে যুক্ত থাকতেই পারেন—এটা অপরাধ নয়।

আরটিভি/টিআর

আরটিভি খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

logo_appslogo_apps

Loading...

আরও পড়ুন

© All Rights Reserved 2016-2026 | RTV Online | It is illegal to use contents, pictures, and videos of this website without authority's permission