শনিবার, ০৯ মে ২০২৬ , ০৫:০৮ পিএম
রহস্যজনক কারণে বদলির আদেশ জারির এক মাস পেরিয়ে গেলেও হবিগঞ্জের মাধবপুর উপজেলায় যোগদান করেননি নবনিযুক্ত উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) উম্মে কুলসুম রুবি। এ ঘটনায় মাধবপুর ও বিশ্বনাথ উপজেলাজুড়ে আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে।
স্থানীয় রাজনৈতিক অঙ্গনেও বিষয়টি নিয়ে চলছে নানা জল্পনা-কল্পনা। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিএনপির বহু নেতাকর্মীকেও এ বিষয়ে পোস্ট দিতে দেখা গেছে।
গত ৭ এপ্রিল সিলেট বিভাগীয় কমিশনার কার্যালয়ের সিনিয়র সহকারী কমিশনার উম্মে সালিক রোমাইয়ার স্বাক্ষরিত এক আদেশে সিলেটের বিশ্বনাথ উপজেলার ইউএনও উম্মে কুলসুম রুবিকে হবিগঞ্জের মাধবপুর উপজেলায় পদায়ন করা হয়। একই আদেশে মাধবপুরের ইউএনও জাহিদ বিন কাসেমকে বিশ্বনাথ উপজেলায় বদলি করা হয়।
তবে আদেশ জারির দীর্ঘ সময় অতিবাহিত হলেও এখনও উম্মে কুলসুম রুবিকে মাধবপুরে যোগদান করতে দেখা যায়নি। এতে প্রশাসনিক কার্যক্রম ও বদলি প্রক্রিয়া নিয়ে জনমনে নানা প্রশ্নের সৃষ্টি হয়েছে।
এ বিষয়ে ইউএনও উম্মে কুলসুম রুবি বলেন, বদলির আদেশ সত্য। বিষয়টি এখন নতুন করে প্রশাসনিক সিদ্ধান্তের পর্যায়ে রয়েছে। নির্দেশনা পেলে আমি যোগদান করব। মাধবপুরে যোগ দিতে আমার কোনো অনাপত্তি নেই।
বিশ্বনাথে দায়িত্ব পালনকালে মানবিক কর্মকর্তা হিসেবে পরিচিতি পান উম্মে কুলসুম রুবি। এক বেওয়ারিস নবজাতককে আশ্রয় ও নামকরণ করে তিনি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক প্রশংসা কুড়ান। এলাকাবাসীর প্রত্যাশা, তিনি মাধবপুরে যোগদান করলে প্রশাসনে শান্তি, স্বচ্ছতা ও জনবান্ধব পরিবেশ নিশ্চিত হবে।
অন্যদিকে মাধবপুর থেকে সদ্য বদলির আদেশপ্রাপ্ত ইউএনও জাহিদ বিন কাসেম সাংবাদিকদের বলেন, আপনি কিছু জানতে চাইলে তথ্য অধিকার আইনে আবেদন করুন, তাহলে জানানো যাবে। এর বেশি কিছু বলতে তিনি সম্মত হননি।
সিলেটের বিশ্বনাথ পৌরসভার ৪ নম্বর ওয়ার্ড কাউন্সিলর গোপাল চন্দ দাস বলেন, ইউএনও উম্মে কুলসুম রুবি অত্যন্ত দায়িত্বশীল ও মানবিক কর্মকর্তা। বদলির বিষয়ে কিছু বলতে পারছি না, তবে জনগণের কাছে তার গ্রহণযোগ্যতা অনেক। এছাড়া সরকারি কর্মকর্তাদের বদলি একটি স্বাভাবিক বিষয়।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক সিলেট বিভাগীয় কমিশনার কার্যালয়ের এক কর্মকর্তা জানান, পারস্পরিক বদলির আদেশ হয়েছিল, এটি সত্য। তবে বিষয়টি নিয়ে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নতুন সিদ্ধান্ত আসতে পারে।
এ বিষয়ে মাধবপুর উপজেলা যুবদলের যুগ্ম আহ্বায়ক ও ইউপি চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী সাইফুর রহমান টিটু বলেন, বদলি চাকরির অংশ। এতদিন মাধবপুর উপজেলাবাসী তার সেবা পেয়েছে। আমরা চাই তিনি দ্রুত বদলিকৃত উপজেলায় চলে যান। নতুন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আমাদের উপজেলায় আসবেন— সেই প্রত্যাশায় রয়েছি।
এদিকে বিভাগীয় কমিশনার কার্যালয় থেকে জারি হওয়া বদলির আদেশ কার্যকর না হওয়া এবং বারবার পরিবর্তনের ঘটনায় জনমনে ধোঁয়াশা তৈরি হয়েছে। স্থানীয়দের কেউ কেউ আশঙ্কা করছেন, এসব বদলি আদেশকে কেন্দ্র করে আড়ালে কোনো ধরনের অবৈধ তদবির বা লেনদেনের প্রভাব থাকতে পারে। যদিও এ বিষয়ে প্রশাসনের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
আরটিভি/এমএইচজে