images

দেশজুড়ে

সিন্ডিকেটের তাণ্ডব, ব্রহ্মপুত্র থেকে বালু উত্তোলনের মহোৎসব

সোমবার, ১১ মে ২০২৬ , ০৩:২১ পিএম

ময়মনসিংহে পুরাতন ব্রহ্মপুত্র নদ খনন প্রকল্প এখন যেন নদী রক্ষার বদলে বালু বাণিজ্যের মহোৎসবে পরিণত হয়েছে। নিলামের মেয়াদ শেষ হওয়ার পরও অবৈধভাবে ড্রেজার বসিয়ে প্রকাশ্যে বালু উত্তোলনের অভিযোগ উঠেছে প্রভাবশালী সিন্ডিকেটের বিরুদ্ধে। প্রশাসনের নীরবতা ও সিন্ডিকেটের দৌরাত্ম্যে নদীর স্বাভাবিক প্রবাহ ও পরিবেশ মারাত্মক হুমকির মুখে পড়েছে বলে অভিযোগ স্থানীয়দের।

২ হাজার ৭৬৩ কোটি টাকা ব্যয়ে পুরাতন ব্রহ্মপুত্র নদের নাব্যতা ফিরিয়ে আনতে ২০১৮ সালে খনন প্রকল্প শুরু হয়। প্রকল্পের কাজ শেষ হওয়ার কথা ছিল ২০২৪ সালের জুন মাসে। তবে রহস্যজনকভাবে প্রকল্পের মেয়াদ বাড়িয়ে ২০২৭ সাল পর্যন্ত করা হয়েছে। 

স্থানীয়দের অভিযোগ, এই দীর্ঘসূত্রতার সুযোগেই নদীজুড়ে গড়ে উঠেছে শক্তিশালী বালু সিন্ডিকেট।

জেলা প্রশাসন ও বিআইডব্লিউটিএর বালু বিক্রির নিলামের মেয়াদ শেষ হলেও ময়মনসিংহ সদরের অন্তত ২০ থেকে ২৫টি স্পট ছাড়া নগরীর ঘুণ্টি এলাকায় সারিসারি ড্রেজার বসিয়ে দীর্ঘদিন ধরে দিন-রাত চলছে বালু উত্তোলন।

পুলিশ লাইনের পেছনের একটি স্পটে গিয়ে দেখা যায়, সরকারি মেয়াদ শেষ হওয়ার পরও নদীর গভীর থেকে ড্রেজার মেশিন দিয়ে বালু তোলা হচ্ছে। এতে নদীতীরের বাঁধ ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে এবং ঝুঁকিতে পড়েছে শতাধিক পরিবারের বসতভিটা। সাংবাদিকদের উপস্থিতি টের পেয়ে সংশ্লিষ্টরা দ্রুত ড্রেজার বন্ধ করে পালিয়ে যায়। পরে সদর ভূমি অফিসের পৌর নায়েব এসে সাময়িকভাবে ড্রেজার সরিয়ে দেন।

অভিযোগ রয়েছে, বিআইডব্লিউটিএর সরকারি ড্রেজারের সামনেই বসানো হয়েছে অবৈধ প্রাইভেট ড্রেজার।

আরও পড়ুন
Web-Image---Copy

লৌহজংয়ে বাল্কহেড চলাচল বন্ধ ঘোষণা

তবে প্রশাসনের পক্ষ থেকে এখনও সময় বৃদ্ধির কোনো আনুষ্ঠানিক অনুমোদনের তথ্য পাওয়া যায়নি। বিষয়টি নিয়ে সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) গণমাধ্যমের সামনে কথা বলতে রাজি না হলেও জেলা প্রশাসক মো. সাইফুর রহমান বলেন, ইজারাদারদের বালু বিক্রির সময় বাড়ানো হয়নি। আবেদন পড়েছে, বিষয়টি যাচাই-বাছাই করে দেখা হবে। মেয়াদ শেষে যারা বালু বিক্রি বা ব্যক্তিগত ড্রেজার বসিয়ে বালু উত্তোলন করছেন, তাদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

স্থানীয় ক্ষতিগ্রস্ত এক কৃষক বলেন, নদীর পাড় ভাঙতেছে। ঘরবাড়ি নিয়ে আতঙ্কে আছি।

অন্যদিকে এক শ্রমিক বলেন, আমরা ইজারাদারের নির্দেশেই বালু তুলতেছি।

অভিযুক্ত ব্যবসায়ী রফিকুজ্জামান তপন দাবি করেন, তেল সংকট ও প্রাকৃতিক দুর্যোগের কারণে সময়মতো বালু সরানো সম্ভব হয়নি। এজন্য সময় বৃদ্ধির আবেদন জানিয়ে হাইকোর্টে রিট করা হয়েছে। একইসঙ্গে ব্যক্তিগত ড্রেজার দিয়ে নদীর পাড় রক্ষা করা হচ্ছে বলেও দাবি করেন তিনি।

এদিকে সুশাসনের জন্য নাগরিক (সুজন) ময়মনসিংহের সভাপতি ইয়াজদানী কোরায়শী কাজল বলেন, নদী খননের চেয়ে এখানে বালু বিক্রির উৎসব চলছে। এভাবে চলতে থাকলে পুরাতন ব্রহ্মপুত্র আর কখনো আগের অবস্থায় ফিরতে পারবে না।

আরটিভি/এমএইচজে